অডিওতে শোনা যাচ্ছে, আলোচনার একপর্যায়ে সাইফুল ইসলামের উদ্দেশে শাহজাদা মিয়া বলছেন, ‘তোমার পাশে আছে কেউ?’ অপর প্রান্ত থেকে সাইফুল উত্তরে বলেন, ‘না না, আমি বাসায় একলা।’ শাহজাদা মিয়া বলেন, ‘তুমি যেভাবেই হোক আমাকে ৫০ হাজার টাকা দেবা ১২টার মধ্যে, আজকে। তোমাগো কমিটি পাস করতে যাইয়া অনেক কিছু হইছে। ওটা পাস করাইতেছি। আমার যেখানে যাওয়া লাগবে যামু, যেভাবেই হোক। আমাকে ১২টার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা আমার মোবাইলে পাঠাইয়া দাও খরচসহ। তোমাগো কমিটি পাস করানোর লাইগা ঢাকা যামু।’ এ ছাড়া অন্য ইউনিয়নের কমিটি নিয়েও দুজনের মধ্যে কথা হয়।

উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি, উপজেলা বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. জসিম উদ্দিন বলেন, যাঁরা ঢাকায় থাকেন, তাঁদের ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটিতে না রাখার কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ রয়েছে। অথচ বাউফল উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সেই নির্দেশ মানা হয়নি। কমিটি গঠনের দায়িত্বে থাকা নেতারা টাকার বিনিময়ে বিতর্কিত ও ঢাকায় ব্যবসা করেন এমন ব্যক্তিদের অধিকাংশ ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বানাচ্ছেন, যা এখন সবাই জানে।

স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৩ নভেম্বর বাউফল উপজেলা ও বাউফল পৌরসভা শাখা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুর রশিদ মিয়া ও সদস্যসচিব স্নেহাংশু সরকার স্বাক্ষরিত ওই কমিটিতে মো. শাহজাদা মিয়াকে আহ্বায়ক এবং মো. অলিয়ার রহমানকে সদস্যসচিব করে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট এবং মো. হুমায়ুন কবিরকে আহ্বায়ক ও মো. মিজানুর রহমানকে সদস্যসচিব করে বাউফল পৌরসভা বিএনপির ৩১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে ১ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে তা স্থগিত করা হয়। পরবর্তী সময়ে চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি আগের কমিটি বহাল রেখেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

অডিওর কথোপকথনের বিষয়ে সাইফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলে তিনি ধরেননি। খুদে বার্তা দিলেও কোনো সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে মো. শাহজাদা মিয়া বলেন, ‘তাঁকে (সাইফুল ইসলাম) আমি চিনতাম না। একদিন চিনছি, ওর বাড়ি দাসপাড়া। থাকে ঢাকায়। অডিওর কণ্ঠ আমার না। এসব মিথ্যা, বানোয়াট।’

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব স্নেহাংশু সরকার ফোনে বলেন,‘বিষয়টি আমি শুনেছি। তদন্ত করা হবে। তদন্তে সত্যতা মিললে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’