২০ বছর পর প্রান ফিরে পেলো আরিচা-কাজিরহাট নৌরুট

রিপন আনসারী, মানিকগঞ্জ থেকে-
টানা ২০ বছর পর প্রান ফিরে পেলো আরিচা ও কাজিরহাট নৌরুট। দেশের উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত এই নৌরুটে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হওয়ায় উভয় পাড়ের মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসাহ উদ্দিপনা। নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ফলক উন্মচন,ফিতা ও কেক কেটে এর উদ্বোধন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এএম নাঈমুর রহমান দুর্জয়। অনান্যদের মধ্যে বিআইডাব্লিউটিসির চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. তাজুল ইসলাম ও বিআইডাব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
ঘাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মানের পর এই রুটে নাব্যতা সংকট তীব্র আকার ধারন করায় ২০ বছর আগে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর ২০০১ সালে আরিচা ফেরি ঘাটটি স্থানান্তর করা হয় পাটিুরিয়ায় । ফলে ধীরে ধীরে স্থবির হয়ে পড়ে আরিচা ও কাজিরহাট নৌ রুট। এতে দুই পাড়ের মানুষের ব্যবসা বানিজ্যসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ফেরি চলাচল সচল করতে যমুনা নদীতে নতুন করে চ্যালেন তৈরিতে ১২ লাখ ঘন মিটার বালু ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে অহসারন করা হয়েছে। দুই পাড়ে দুটি ঘাট ,পন্টুন নির্মান,বিকন বাতি,মার্কিং বাতিসহ আনুসাঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের এখন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৪ কোটি টাকা। এই নৌরুটে আপতত বেগম রোকেয়া ও বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান নামের দুটি রো রো ফেরি দিয়ে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে।
জানাগেছে,১৯৬৪ সালে ঢাকা-আরিচা সড়ক চালু হওয়ার পর আরিচা থেকে যমুনা পাড় হয়ে নগরবাড়ি এবং আরিচা থেকে যমুনা-পদ্মা পাড় হয়ে গোয়ালন্দ ঘাটের সঙ্গে চালু করা হয় ফেরি সার্ভিস। সেই সাথে আরিচা-নগরবাড়ি হয়ে উঠে উত্তরবঙ্গ এবং আরিচা-গোয়ালন্দ হয়ে উঠে দক্ষিণ-পশিচ্ম বঙ্গের সড়ক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান প্রবেশ পথ।
১৯৬৩ সাথে ৩১ মার্চ কর্ণফুলি নামে একটি ফেরি সার্ভিস দিয়েই আরিচা কাজিরহাট নৌরুটের যাত্রা শুরু হয়। দেশ স্বাধীন হওয়া পর দ্রুত বাড়তে থাকে আরিচা ঘাটের গুরুত্ব । এক পর্যায়ে আরিচা ঘাটকে নৌবন্দরের মর্যাদা দেয়া হয়। এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার যানবাহন পারপার হতো। যাতায়াত ছিল গড় ৫০ হাজার মানুষের। ১৯৯৭ সালে যমুনা সেতু উদ্বোধনের পর থেকেই গুরুত্ব কমতে থাকে আরিচা ঘাটের। পদ্মা যমুনায় নব্য সংকট ও দুরুত্ব কমানোর জন্য ২০০১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী আরিচা থেকে ঘাটটি পাটুরিয়ায় স্থানান্তর করা হয়।
স্থানীয় সংসদ সদস্য এএম নাঈমুর রহমান দুর্জয় বলেন, ২০ বছর পর নতুন করে আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু হওয়ায় দেশের উত্তরবঙ্গের মানুষের রাজধানীর সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সহজ হবে। এছাড়া একসময়কার জমজমাট আরিচা ঘাট ফিরে পাবে প্রানচঞ্চল্যতা। ব্যবসা বানিজ্যে গতি ফিরে আসবে।
নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন,উত্তর বঙ্গের ১৬টি জেলার সাথে আরিচা কাজিরহাট নৌপথটি যুক্ত ছিল। যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পর এই নৌ রুটের ফেরি সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়। যানবাহন ও মানুষের চলাচলের গতি বেড়ে যাওয়ায় এবং বঙ্গবন্ধু সেতুর বিকল্প হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পুনরায় এই রুটে ফেীর চলাচল শুরু করা হয়েছে। আপাতত ২টি থেকে ৩টি ফেরি দিয়ে নৌ রুট সচল রাখা হবে। যানবাহনের চাপ বেড়ে গেলে পর্যায়ক্রমে আরো ফেরি বাড়ানো হবে।