২০২৭ সালে চালু হবে প্রথম মহাকাশ হোটেল

সিএনএন, কানেক্ট ।যাপিত জীবনের কাজের চাপে পিষ্ট হয়ে সামান্য অবসর উপভোগের উদ্দেশ্যে আজকাল অহরহই মানুষ ছুটছে বিভিন্ন হোটেল-রিসোর্টে। পৃথিবীর হোটেলগুলোতে ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে গেলেও আর চিন্তা নেই! সামনে পৃথিবীর পরিসীমার বাইরের হোটেলে ঘোরার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে আপনার জন্য। হ্যা  এখন মহাকাশেও চলছে বিলাসবহুল হোটেল তৈরির কাজ।

ক্যালিফোর্নিয়ার সংস্থা গেটওয়ে ফাউন্ডেশন ২০১৯ সালে প্রথম এই হোটেলটির নকশা উন্মোচন করে। অনেকটা নাগরদোলার মত দেখতে বিলাসবহুল চক্রাকার এই হোটেলটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে ভাসবে। ২০২৭ সালের মধ্যে অতিথিদের জন্য এই হোটেল চালু করে দেওয়ার ভাবনা রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে হোটেলটির নাম রাখা হয়েছিল ‘দ্য ভন ব্রাউন স্টেশন’। তবে এর নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘ভয়েজার স্টেশন’। এটি নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে নির্মাণ সংস্থা অরবিটাল অ্যাসেম্বলি কর্পোরেশন। এটি গেটওয়ে ফাউন্ডেশনের প্রাক্তন পাইলট জন ব্লিনকো কর্তৃক পরিচালিত সংস্থা ।

সিএনএন ট্রাভেলের সাথে সম্প্রতি এক সাক্ষাতকারে ব্লিনকো জানান, কোভিডের কারণে হোটেলটির নির্মাণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে তারা আশাবাদী ২০২৬ এই মহাকাশ হোটেলটির নির্মাণ কাজ শুরু হবে এবং পরের বছরের ভেতরেই মহাকাশে অবকাশ যাপনের স্বপ্ন সত্যি হয়ে উঠবে।

তিনি বলেন, ” আমি মানুষকে এটুকুই বলব মহাকাশ ভ্রমণের সুবর্ণ যুগ চলে এসেছে, এটি একেবারে আমাদের হাতের মুঠোয়।”

তা কেমন দেখতে হবে এই পৃথিবীর বাইরের হোটেল? অন্যান্য হোটেলের সাথে এর দৃশ্যগত তেমন পার্থক্য না থাকলেও এই হোটেলে বেশ কিছু ‘আউট অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’ অনুষঙ্গ থাকবে।

হোটেলটিতে থাকবে ২৪টি মডিউল যাদের ঘূর্ণনে কৃত্রিম অভিকর্ষজ বল তৈরি হবে। ফলে পৃথিবীর মতই সেখানে ঘুরে ( কিংবা ভেসে) বেড়াতে পারবেন।

কয়েক বছর আগে যখন প্রাথমিক নকশা চূড়ান্ত হলো, অরবিটাল অ্যাসেম্বলি কর্পোরেশনের সিনিয়র ডিজাইন আর্কিটেক্ট টিম আলাটোর সিএনএন ট্র্যাভেলকে জানিয়েছিলেন,  হোটেলটির নান্দনিক নকশার অনুপ্রেরণা তিনি পেয়েছিলেন স্ট্যানলি কুবরিকের সিনেমা  “২০০১: আ স্পেস ওডিসি” থেকে। সেখান থেকেই হোটেলটির কাঠামোতে কী সংযুক্ত করবেন আর কী করবেন না তার একটি নীলনকশা তৈরি করেন।

“আমার মনে হয়, স্ট্যানলি কুবরিকের লক্ষ্য ছিল প্রযুক্তি এবং মনুষ্যত্বের মধ্যে বিভাজন তুলে ধরা। ফলে তিনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে মহাকাশ স্টেশন এবং স্পেসশীপগুলোকে জীবাণুমুক্ত, পরিচ্ছন্ন এবং অচেনা করে তুলেছিলেন”।

বিপরীতে আলাটোর এবং তার দলটি চেয়েছে মহাকাশের বুকেও এক টুকরো পৃথিবী স্থাপন করতে! অতিথিরা মহাকাশেই সময় কাটাবেন তবে সেখানেও যেন তারা অন্যান্য হোটেলের উষ্ণতাই উপভোগ করেন সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। ফলে বিছানা, বাথরুম, রেস্টুরেন্ট, বার সবকিছুই সেখানে থাকবে।

তাই বলে ভাববেন না, হোটেলটি মহাকাশে থাকার অভিনবত্বকে উপেক্ষা করছে। যেমন- হোটেলের রেস্তোঁরাগুলোতে ড্রাই আইসক্রিমের মত গতানুগতিক ‘স্পেস ফুড’ সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

থাকবে বিনোদনের সুব্যবস্থাও। আলাটরের মতে, সেখানে এমন সব ক্রিয়ার সুযোগ থাকবে যা আপনি সচরাচর পৃথিবীতে বসে করতে অক্ষম।

“ওজনহীনতা এবং মহাকর্ষ শক্তি হ্রাস পাওয়ার কারণে আপনি সেখানে পৃথিবীর চাইতে কয়েকগুণ ওপরে লাফিয়ে উঠতে পারবেন, অনেক সহজে ভারী ভারী জিনিস ওঠাতে পারবেন, এমনভাবে দৌড়াতে পারবেন যা পৃথিবীর মাটিতে সম্ভবই না।”

মার্কিন স্পেস ইঞ্জিনিয়ার এবং স্থপতি ওয়ার্নার ভন ব্রাউনের নামানুসারে এই হোটেলের প্রথমে নাম রাখা হয়েছিল ‘দ্য ভন ব্রাউন স্টেশন’। হোটেলটির নকশা তৈরিতে তারও অবদান রয়েছে।

মহাকাশ পর্যটন আস্তে আস্তে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে। ভার্জিন গ্যালাকটিক থেকে শুরু করে এলন মাস্কের স্পেসএক্সের মত অনেকগুলো কোম্পানি এ নিয়ে গবেষণা করে করছে।

স্পেসএক্সের স্টারশিপ সিস্টেম ভয়েজার স্টেশনটিকে মাটি থেকে অবতরণে সহায়তা করতে পারে।

“আমরা স্পেসএক্সকে এখনই আমাদের অংশীদার বলতে পারছিনা, তবে ভবিষ্যতে আমরা তাদের সাথে কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছি”, বলেন ব্লিনকো।

এখন পর্যন্ত এই হোটেলের কামরাগুলোর জন্য কোন মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি তবে তার জন্য যে পকেট ভালই খসাতে হবে সে অনেকটাই অবধারিত।

ভার্জিন গ্যালাকটিক যেমন মহাকাশের উপ-কক্ষপথে আড়াই লাখ ডলারের বিনিময়ে যাত্রীদের ভ্রমণের পরিকল্পনা করছে।

তবে অর্থকড়ি নিয়ে হা-হুতাশ না করারই যেন ইংগিত ভয়েজার স্টেশন দলটির। তাদের দাবি, এই হোটেলে ঘুরে আসা সমুদ্রপথে কোন ক্রুজ বা ডিজনিল্যান্ড ভ্রমণের চাইতে কম কিছু হতে যাচ্ছে না।