১০ জনের নাম চূড়ান্ত করার কাজ কাল থেকে শুরু

সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন পর্যায় থেকে আসা ৩২২ জনের নাম গতকাল সোমবার প্রকাশ করে অনুসন্ধান কমিটি। এর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সাবেক আমলা। এ ছাড়া বিচারপতি, সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা, শিক্ষক, আইনজীবী, নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন তালিকায়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কমিটির পক্ষ থেকে নামের তালিকা মোটামুটি সম্পাদনা করা হয়েছে। প্রকাশিত ৩২২ জনের মধ্যে যেসব নাম একাধিকবার এসেছে, সেগুলো একটি করা হয়েছে। বুধবার কমিটির সামনে নামগুলো উপস্থাপন করা হবে। এরপর কমিটির কার্যপদ্ধতি ঠিক করে এখান থেকে বাছাইয়ের দিকে যাবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করা হবে।

যে নামগুলো প্রকাশ করা হয়েছে, সেখান থেকেই ১০ জনের নাম সুপারিশ করা হবে কি না, জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘অনুসন্ধান কমিটি যেভাবে অনুসন্ধান করার কথা সেভাবেই করবে। যদি মনে করে আরও অনুসন্ধান করার প্রয়োজন আছে, সেটা ওনারা দেখবেন।’ কমিটি কবে নাগাদ সুপারিশ করবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যে ১৫ কার্যদিবস সময় আছে সেই সময়ের মধ্যেই করা হবে।

আইন অনুযায়ী, অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয় ৫ ফেব্রুয়ারি। সেই হিসাবে তাদের হাতে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় আছে। অনুসন্ধান কমিটি ১০ জনের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে। সেখান থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করবেন রাষ্ট্রপতি।

প্রসঙ্গত কে এম নূরুল হুদা কমিশনের মেয়াদ গতকাল সোমবার শেষ হয়েছে। ফলে নির্বাচন কমিশন এখন শূন্য।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব কথা বলার আগে অনুসন্ধান কমিটি চারজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের সঙ্গে বৈঠক করেন। সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেওয়া জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা হলেন চ্যানেল আইয়ের বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ, টিভি টুডের প্রধান সম্পাদক ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম এবং দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সম্পাদক ইনাম আহমেদ। আরও কয়েকজন সাংবাদিককে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তাঁরা উপস্থিত ছিলেন না। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অনুসন্ধান কমিটির সভাপতি ও আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। বৈঠকে অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে মনজুরুল আহসান বুলবুল ও নঈম নিজাম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। বৈঠকে আলোচনা বিষয়বস্তু জানাতে গিয়ে তাঁরা বলেন, রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ জমা দিতে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুসন্ধান কমিটির সময় রয়েছে। তাঁরা এই সময়ের মধ্যেই সুপারিশ জমা দেবেন। এর মধ্যে এখনো নাম প্রস্তাব না করা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কেউ প্রস্তাব জমা দিলে, তা বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে অনুসন্ধান কমিটির সদস্যরা তাঁদের বলেছেন।

নিজেদের করা প্রস্তাব জানাতে গিয়ে সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, তাঁরা অনুসন্ধান কমিটিকে কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছেন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে যাঁদের নাম প্রস্তাব করা হবে, তাঁরা যেন সৎ ও যোগ্য হন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করেন। আর্থিক কেলেঙ্কারির মতো কোনো ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের যেন প্রস্তাব না করা হয়। আর যোগ্যতার ভিত্তিতে সংখ্যালঘু ও নারীদের প্রতিনিধিত্ব যেন রাখা হয়। সব পেশার প্রতিনিধি নিয়ে একটি ভারসাম্যমূলক ইসি যেন হয়, একটি বিশেষ পেশার প্রাধান্য যেন না থাকে।