স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের ২০৫ রানের জবাবে খেলতে নেমে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮৮ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা। ফলে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১৭ রানে হেরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আগামীকাল দ্বিতীয় ম্যাচে ফের মাঠে নামবে দু’দল। এ ম্যাচে রাসেল ডমিঙ্গোর শিষ্যদের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা ছিল না। বোলিং ,ফিল্ডিং এবং ব্যাটিং কোনো বিভাগেই সাফল্য খোঁজে পায়নি টাইগাররা। অন্য দিকে স্বাগতিকরা পরিকল্পনার সুফল পেয়েছে। টাইগার কোন বোলারকে কিভাবে খেলতে হবে। তার যথার্থ প্রমাণ দিয়েছে। হারারের তপ্ত রৌদ্রে বল হাতে কোনোভাবেই ছন্দ খুঁজে পায়নি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। মোস্তাফিজ-নাসুমদের মতো বোলাররাও স্বাগতিক ব্যাটারদরে বিপক্ষে নাস্তানাবুদ হয়েছে। ব্যাট হাতেও সফল হাতে পারেনি টাইগার ব্যাটাররা। অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান ছাড়া অন্য কেউ খোলস ছেড়ে বের হতে পারেনি। শেষ দিকে একমাত্র সোহানই ঝড়ো ইনিংস খেলেই রান ব্যবধান কমিয়েছেন।

বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে আজ সফরকারিদের ২০৬ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ছন্দ হারিয়ে ফেলে টাইগারদের দুই উদ্বোধনী ব্যাটার। প্রথম বলেই লিটন দাস জীবন পেয়ে যান। কোনোভাবে প্রথম ওভার শেষ করলেও দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় সফরকারিরা। ওয়েলিংটন মাসাকাদজার তৃতীয় বলে তানাকা চিভাঙ্গার হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন মুনিম শাহরিয়ার। এরপর দ্বিতীয় উইকেটের জুঁটিতে এনামুল হক বিজয়কে নিয়ে ৫৮ রানের পার্টনারশিপ গড়েন লিটন দাস। দলীয় ৬৩ রানের মাথায় সবাইকে হতবাক করে আউট হন লিটন। সিকান্দার রাজাকে উইকেটরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে খেলতে গিয়ে নাগরাভার হাতে তালুবন্দী হন। কিন্তু উইকেটের আনন্দে মেতে উঠতে গিয়ে হাত ফসকে বল মাটিতে পড়ে যায়।

এদিকে লিটন দাস রানের জন্য প্রান্ত বদল করার সময় মাঝ ক্রিজে এসে থমকে যান। কিন্তু নাগরাভাগ দ্রুততার সঙ্গে রানআউটের জন্য বোলিং প্রান্তে থ্রো করলেও লিটন মাঝ পিচেই দাড়িয়ে ছিল। এর সুবাদে শন উইলিয়ামস তাকে রান আউট করে দেন। আউট হওয়ার আগে ৬ চারের সাহায্যে মাত্র ১৯ বলে ৩২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন লিটন দাস। এরপর স্কোরবোর্ডে মাত্র ১৮ রান যোগ হতেই সাজঘরে ফিরেন এনামুল হক বিজয়। আউট হওয়ার আগে ২ ছক্কার সাহায্যে করেছেন ২৬ রান। বারোতম ওভারের চতুর্থ বলে দলীয় শতরান পূর্ণ করে বাংলাদেশ। পরের ওভারে তৃতীয় বলেই চতুর্থ উইকেটে আউট হয়েছেন আফিফ হোসেন। এক চারের সাহায্যে ৮ বলে ১০ রান করেছেন তিনি। শেষ চার ওভারে টাইগারদের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৬০ রান। কিন্তু ৪২ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় সোহান বাহিনী।স্বাগতিকদের হয়ে জোড়া উইকেট পেয়েছেন লুকি জঙ্গি। এছাড়া একটি করে উইকেট পেয়েছেন ওয়েলিংটনমাসাকাদজা ও সিকান্দার রাজা।

হারারের স্পোর্টস ক্লাবের মাঠে আজ টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাগতিক অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন। উদ্বোধনী জুঁটিতে রেজি চাকাভা ও অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন স্কোরবোর্ডকে বড় করতে পারেননি। তৃতীয় ওভারে মোস্তফিজুর রহমানের চতুর্থ বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বল আকাশে তুলে দেন। ৩০ গজ বৃত্তের ভিতের অবস্থান করা নাজমুল হোসেন শান্তকে হাতে তালুবন্দি হন চাকাভা। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে ওয়েসলি মাধেভেরেকে নিয়ে ২৮ রানের পার্টনারশিপ গড়েন আরভিন। পাওয়ারপ্লে তে হাত খুলে খেলা শুরু করেন দুই ব্যাটার। কিন্তু সপ্তম ওভারের প্রথম বলে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ঘূর্নিতে পরাস্ত হয়ে সাজঘরে ফিরেন ক্রেইগ আরভিন। তৃতীয় উইকেটে শন উইলিয়ামসকে নিয়ে পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের পার্টনারশিপ গড়েন মাধেভেরে। একের পর এক নান্দনিক শটে স্কোরবোর্ডে বড় সংগ্রহ দাড়া করতে থাকে। তাসকিন, শরিফুল নাসুমরা উইকেট শিকারে ব্যর্থ হওয়ায় মোস্তাফিজের উপর ভরসা রাখে সোহান। ১২তম ওভারের দ্বিতীয় বলেই মারমুখো ব্যাটার শন উইলিয়ামসকে বোল্ড করেন মোস্তফিজুর রহমান।

এরপর টাইগাররা বোলাররা আর কোনো উইকেট নিতে পারেননি। উল্টোর তাদের উপর চড়াও হয়ে একের পর এক চার ছক্কা হাঁকিয়েছেন মাধেভেরে ও সিকান্দার রাজা। মাত্র ৩৭ বলেই ব্যক্তিগত অর্ধশতক হাঁকান মাধেভেরে। ছয়টি চারের সাহায্যে ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফসেঞ্চুরি তুলেছেন তিনি। শেষ চার ওভারে মোস্তাফিজকেও ছাড় দেননি রাজা-মাধেভেরে। চতুর্থ উইকেটের জুঁটিতে স্কোরবোর্ডে যোগ করেছেন ১০৭ রান। ১৯তম ওভারে শরিফুলে প্রথম তিন বলে এক চার ও দুই ছয় হাঁকিয়ে অর্ধশতকের পথে এগিয়ে যান সিকান্দার রাজা। ২০তম ওভরে মোস্তাফিজুর রহমানের তৃতীয় বলে দুই রান নিয়ে ২৩ বলে ক্যারিয়ারের চতুর্থ হাফসেঞ্চুরি পূরন করেন সিকান্দার রাজা। এই রান নেয়ার সময় হাতে ব্যাথা পেয়ে মাঠ রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছেড়েছেন মাধেভেরে। অপরপ্রান্তে থাকা রায়ান বার্ল কোনো বল মোকাবিলা করার সুযোগ পাননি। বাংলাদেশের হয়ে জোড়া উইকেট পেয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান ও একটি উইকেট পেয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।