বাসায় মাদক রাখার অভিযোগে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা থেকে প্রত্যাহার হওয়া বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন কাজী আনারকলির সঙ্গে কোনো বিদেশি নাগরিকের বসবাসের সত্যতা পায়নি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে তার বাসায় সামান্য পরিমাণে মারিজুয়ানা (গাঁজা) পাওয়ার সত্যতা মিলেছে।

কূটনীতিক আনারকলির বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি এসব তথ্য পেয়েছে বলে মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) সাংবাদিকদের জানান পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন।পররাষ্ট্রসচিব বলেন, প্রাথমিক একটা অনুসন্ধান করা হয়েছে। সেটার ভিত্তিতে আমরা কিছু তথ্য পেয়েছি। বিশেষ করে মারিজুয়ানা সংক্রান্ত। সরকারি কর্মচারীদের যে আচরণবিধি আছে, সেটার সঙ্গে এটা সাংঘর্ষিক। তদন্তে বিদেশি নাগরিক থাকার সত্যতা পাইনি, কিন্তু সামান্য পরিমাণে মারিজুয়ানা (গাঁজা) ছিল বলে জানা গেছে।

জাকার্তা থেকে কূটনীতিককে ঢাকায় ফেরত

কোন প্রক্রিয়ায় এ কূটনীতিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে- জানতে চাইলে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, আমাদের দেশে সরকারি যে আচরণবিধি আছে তার মাধ্যমে দেখার চেষ্টা করছি। এখন আমরা সিদ্ধান্ত নেব এটা ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিং করা হবে কি না। আমরা ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিংয়ের মাধ্যমে হয়তো আরও গভীরে যেতে পারব।

কী উদ্দেশে বাসায় মারিজুয়ানা রাখা হয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকার এ ব্যাপারে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রসচিব জানান, সেটা প্রপার ইনভেস্টিগেশন হলে তখন। আমরা তাদের (ইন্দোনেশিয়া) একটা তথ্য পেয়েছি। এর ভিত্তিতে আমরা তাকে দেশে নিয়ে এসেছি। এখন তদন্তের জন্য যদি আমাদের সেখানে যেতে হয়, তাহলে তদন্ত কর্মকর্তা গিয়ে হয়তো আরও বিস্তারিত তথ্য বের করতে পারবেন।

কূটনীতিক আনারকলিকে প্রত্যাহারের ঘটনা ’বিব্রতকর’

এ কূটনীতিককে ডোপ টেস্ট করা প্রসঙ্গে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ডোপ টেস্ট করার স্টিস্টেম নেই বা এমন কোনো এলিগেশনস তো এখানে নেই। সুতরাং এই মুহূর্তে সেটা আমাদের মাথায় নেই।

উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ জাকার্তায় আনারকলির বাসায় গত মাসের প্রথম সপ্তাহে হঠাৎ অভিযান চালায় ইন্দোনেশিয়া সরকারের মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই বাসা থেকে মাদক উদ্ধার করা হয়।

ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী, কূটনীতিক আনারকলি দায়মুক্তির আওতাধীন ছিলেন। তাই তাকে গ্রেপ্তার না করে দূতাবাসের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক আদেশ জারি করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনে।

আনারকলির বিষয়ে কঠোর অবস্থানে মন্ত্রণালয়

দেশে ফেরার পর এ কূটনীতিকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার। যার প্রধান করা হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) মাশফি বিনতে শামসকে। জানা যায়, তদন্ত কমিটির প্রধান গত সপ্তাহে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমনের কাছে প্রাথমিক তদন্তের ফলাফল জমা দেন।

কূটনৈতিক দায়িত্ব থেকে আনারকলিকে ফেরত আনার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে বাসার গৃহকর্মী নিখোঁজের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলস থেকে ২০১৭ সালে তাকে ফেরত আনা হয়েছিল। পররাষ্ট্র ক্যাডারের ২০ ব্যাচের কর্মকর্তা আনারকলি ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসে বাংলাদেশের ডেপুটি কনসাল জেনারেল ছিলেন।