সাগর থেকে আসছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। ভাসছে মাঝিমাল্লাহীন ট্রলার

আরিফ আহমেদ
বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালীর উপকূলে জেলেদের জালে ধরা পরছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। সাগর থেকে রুপালী ইলিশ আসছে উপকুলের বাজারে।  সেখান থেকে বরিশাল শহরের আড়তে এসে কমছে ইলিশের দর।
এদিকে ইলিশ বোঝাই একটি ট্রলার সুন্দরবন উপকুলে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড। ট্রলারটিতে কোনো মানুষের আলামত দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন উপকুলের জেলেরা।
গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকেই দেশের অন্যতম মহিপুর-আলীপুর বাজার পরিপূর্ণ দেখা গেছে রুপালি ইলিশে। প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় দামও অনেকটাই কমে এসেছে। ৫০০ থেকে ৮০০ গ্রামের প্রতিকেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা দরে। আর আড়াইশ’ টাকা কেজি দরে মিলছে জাটকা সাইজের ইলিশ।
এ অবস্থায় আড়তে ইলিশের বেচাকেনাও বেড়েছে। গত তিন দিনে তিন হাজার মণের বেশি ইলিশ বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহিপুর মৎস্য আড়তের মালিকরা।
এদিকে বেশি ইলিশ ধরা পড়ায় হাসি ফুটেছে ট্রলার মালিক, আড়তদার ব্যবসায়ী ও জেলেদের মুখে। কর্মচাঞ্চল্য ফিরছে মহিপুরসহ আশেপাশের মৎস্য আড়তগুলোতে। দীর্ঘদিনের হতাশা ও আর্থিক ঋণ কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে মনে করছেন জেলেরা।
সরেজমিন দেখা গেছে, দেশের অন্যতম মাছের বাজার মহিপুরে-আলীপুর ও কুয়াকাটায় মৎস্যপল্লিতে প্রচুর ইলিশ এসেছে। সাগর থেকে আসা ইলিশভর্তি সারি সারি ট্রলার ঘাটে ভিড়ছে। এসব ট্রলার থেকে ইলিশ নামিয়ে নেওয়া হচ্ছে আড়তে। আড়তের কর্মীরা কেউ কেউ মাছের সাইজ আলাদা করছেন। কেউ ইলিশ মাছের ঝুড়ি টানা ও প্যাকেট করায় ব্যস্ত। আবার অনেকে প্যাকেট ইলিশ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে তুলে দিচ্ছেন ট্রাকে। ভালো মানের ইলিশ ধরা পড়ার খবরে অনেক পাইকারও ভিড় জমিয়েছেন এখানের আড়তে।
মৎস্য ব্যবসায়ী মো. মিজানুর রহমান বলেন, গত কয়েক দিন ধরে জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছে। প্রতিদিন গড়ে আলীপুর আড়তে আসছে ৩০ টন ইলিশ। মাছের সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কিছুটা কমেছে। দেড় কেজি ওজনের প্রতিমণ ইলিশের পাইকারি দাম ৪০-৪৫ হাজার টাকা, এক কেজি সাইজের ইলিশের পাইকারি দাম ৩৭-৪০ হাজার টাকা, ৫০০-৯০০ গ্রাম সাইজের ইলিশের দাম ১৮-২০ হাজার টাকা, জাটকা বিক্রি হচ্ছে ৯-১০ হাজার টাকায়। আগে শুধু জাটকা ইলিশের মণই ছিল ১৫-১৬ হাজার টাকা।
বেশি ইলিশ ধরা পড়ার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। ৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে বাজার ঘুরে  দেখা গেছে, বাজারে ইলিশের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। এছাড়া অলিগলি, পাড়া-মহল্লায়ও ভোর থেকে রাত পর্যন্ত চলছে ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের ইলিশ বিক্রি। গত কয়েক দিনে নগরীর পোর্টরোডের মোকাম থেকে ৪৫-৫০ টন ইলিশ দেশের বিভিন্ন বাজারে চলে গেছে। ইলিশের পাশাপাশি অন্যান্য মাছও শিকার করছেন জেলেরা।ট্রলার থেকে ইলিশ আড়তে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলে ও ঘাটের শ্রমিকরা
ঘাটে ট্রলার থেকে টুকরিতে করে মাছ উঠাচ্ছিলেন শ্রমিক আলী আহমেদ। তিনি বলেন, এতদিন আমরা অলস সময় পার করেছি। খালি ট্রলার ঘাটে ভিড়তো বাজার নিতে। কিন্তু এই সপ্তাহে জেলেরা মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরতে শুরু করেছেন। এখন আমরা রাত-দিন মাছ টানায় ব্যস্ত সময় পার করেছি।বরিশালের পোর্টরোডের আড়ৎদার জহির সিকদার জানান, নদীতে মাছ নেই। নদীর ইলিশ না পেয়ে যখন হতাশ হয়ে পড়তে হলো ঠিক তখন সাগরে ইলিশের ঝাঁক আমাদের প্রাণ বাঁচিয়ে দিলো।
এদিকে সাগরে ভাসমান একটি ইলিশ বোঝাই ট্রলার  নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় স্থানীয় জেলেরা। ট্রলারে কোনো মাঝি বা জেলের হদিস পাওয়া যায় নাই।বঙ্গোপসাগরের সুন্দরবন সংলগ্ন আলোরকোল এলাকায় এফবি মায়ের দোয়া নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার ভাসতে দেখেছেন জেলেরা। মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয় জেলেরা ওই এলাকায় মাছ শিকারে গেলে ট্রলারটি দেখতে পান। জেলে-মাঝি কেউ না থাকলেও ট্রলারটি ইলিশ বোঝাই বলে জানিয়েছেন সেখানকার জেলেরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী। সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত) ট্রলারটি অভিভাবকহীন অবস্থায় সাগরে ভাসছে বলে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here