প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রতিমাসে যেন এক কোটি ডোজেরও বেশি টিকা পাওয়া যায় তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিডিউল অনুযায়ী আগামী অক্টোবর থেকে প্রতি মাসে ২ কোটি অর্থাৎ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৬ কোটি সিনোফার্মের টিকা পাওয়া যাবে।

বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে লিখিত প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

করোনার টিকা ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, করোনা টিকা আবিষ্কার ও ব্যবহারের অনুমতিপ্রাপ্তির আগে থেকেই আমরা টিকা সংগ্রহ ও টিকা প্রদানের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। করোনার ভয়াবহতা ও সংক্রমণ প্রতিরোধের লক্ষ্যে দেশের সকল মানুষকে টিকার আওতায় আনতে জাতীয় কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা (এনডিভিপি) তৈরি করেছে সরকার। যা কোভ্যাক্স থেকে অনুমােদিত।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এ পর্যন্ত ২৪ কোটি ৬৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৬০ ডোজ টিকা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে গত ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দ্বিপাক্ষিক ক্রয় চুক্তি এবং উপহার হিসেবে মোট ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ ডোজ টিকা পাওয়া গেছে। করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকা সংগ্রহ ও বিনামূল্যে টিকাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দ্বিপাক্ষিক ক্রয় চুক্তির আওতায় ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে তিন কোটি ও চীনের সিনোফার্ম ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে সাত কোটি ৭০ লাখ ডোজ টিকা ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। রাশিয়া থেকে এক কোটি ডোজ স্পুটনিক- ভি টিকা ক্রয়ের চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তাছাড়া কোভ্যাক্সের মাধ্যমে তিন কোটি ডোজ সিনোফার্ম ও সাত কোটি ৫০ লাখ ডোজ সিনোভ্যাক টিকা ক্রয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

হার্ড ইমিউনিটি নিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া হয়। যেমন- হামের ক্ষেত্রে প্রতি ২০ জনের মধ্যে ১১ জনকে প্রতিষেধক দেওয়া হলে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে হার্ড ইমিউনিটি গড়ে উঠে। কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে এ সংখ্যা নির্ধারণ করা যায়নি, যা এখনও গবেষণাধীন রয়েছে। বর্তমানে ১৮ বছরের উপরে দেশের সব নাগরিককে কোভিড-১৯ এর টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সে অনুযায়ী বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা থেকে টিকা সংগ্রহের চেষ্টা অব্যাহত আছে। মহামারি করোনা প্রতিরোধকল্পে এ পর্যন্ত ২ কোটি ৯ লাখ ২২ হাজার ৭১৫ জনকে প্রথম ডোজ এবং এক কোটি ৯৮ লাখ ৫৫ হাজার ৪৬ জনকে দ্বিতীয় ডোজসহ সর্বমোট ৩ কোটি ৪৭ লাখ ৭৭ হাজার ৭৬১ ডোজ টিকা প্রদান করা হয়েছে ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মজুদ ভ্যাকসিনের পরিমাণ ৯৬ লাখ ৫৪ হাজার ১১৯ ডোজ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই অতিমারি এখনও চলমান রয়েছে। আমরা আশা করি সকলের সহযোগিতায় চলমান এই বৈশ্বিক মহামারিকে সফলভাবে মোকাবেলা করা সক্ষম হবো। পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। এ জন্য টিকা গ্রহণের পাশাপাশি সবাইকে নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here