শ্রদ্ধা নিবেদন শেষ হতে না হতেই লুণ্ঠিত হলো শহিদ মিনার

ইমন শেখ,খুলনা:
খুলনায় মহান শহিদ দিবস উপলক্ষে ভাষা শহিদদের প্রতি নিবেদিত শ্রদ্ধাঞ্জলির ফুল লুণ্ঠনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ বঙ্গের বাতিঘর হিসেবে পরিচিত সরকারি ব্রজলাল কলেজে। জানা গেছে মহান শহিদ দিবস ও আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সরকারি বিএল কলেজ ছাত্রসংসদ এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। ছাত্র সংসদ কতৃক আয়োজিত ঐ অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল ভাষা আন্দোলন ও বঙ্গবন্ধু। সকাল ৯ ঘটিকায় আলোচনা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অনুষ্ঠানটি শুরু হতে প্রায় দেড় ঘন্টা বিলম্ব হয়। আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন উক্ত কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শরীফ আতিকুজ্জামান। ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকার প্রতি আলোকপাত করে বক্তব্য রাখেন কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মফিদুল হক, ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক সমীর দেবনাথ, বাংলা বিভাগের শিক্ষক শংকর মল্লিক ও মামুন কাদের, অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ফারুক আযমসহ কলেজের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণ শেষ হতে না হতেই শহিদ মিনার হতে ফুল লুণ্ঠনের ঘটনাটি ঘটে। জানা গেছে লুণ্ঠনকারীরা সকলেই বহিরাগত। প্রায় পঞ্চাশ জনের মতো বহিরাগত শিশু শহিদ মিনারে উঠে শ্রদ্ধাঞ্জলির ফুলগুলো নিমেষেই লুঠ করে নেয়। ঘটনার সময় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শরীফ আতিকুজ্জামান, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগণ, শিক্ষক মণ্ডলী ও ছাত্র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মর্মাহত এবং ক্ষুব্ধ হন। আলোচনার মঞ্চ হতে তিনি এবং কতিপয় শিক্ষক লুণ্ঠনকারীদের নিবৃত্ত করতে শহিদ মিনারের কাছে ছুটে যান। কিন্তু ততক্ষণে শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে অর্পণকৃত ফুলের চাক, তোড়া ভাংচুর ও লুঠ করে বহিরাগত ঐসব শিশুরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় শহিদ মিনার চত্বরে সমবেত সকলে স্তব্ধ এবং মর্মাহত হয়।
এ ঘটনায় কলেজের নিরাপত্তার প্রশ্নটি আবারও সামনে চলে এসেছে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, কিছুদিন পূর্বে কলেজ ক্যাম্পাসেই অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ আলী কতিপয় বহিরাগত দুবৃত্তদের আক্রমণের শিকার হন।
ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ফুল লুণ্ঠনের ঘটনাটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। অনেকেই কলেজ প্রশাসনের ব্যার্থতাকে দায়ী করছেন। অনেকেই সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রের উপর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলা বিভাগের একজন শিক্ষার্থী জানান এ ঘটনাটির সাথে জড়িতদের মধ্যে অনেকেই পথশিশু কিংবা স্থানীয় বস্তির সুবিধা বঞ্চিত শিশু। এদেরকে শিক্ষার মূল স্রোতে সম্পৃক্ত করতে না পারলে, জাতীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঠিক পাঠ দিতে না পারলে ভবিষ্যতে আরও ভয়ানক পরিস্থিতির উদ্ভব হবে। রাষ্ট্র কোনভাবেই এর দায় এড়াতে পারে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সাইফুল হোসেন নামক একজন শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন কলেজের দেখভালের জন্য গেটম্যানসহ বিভিন্ন বেতনভুক্ত কর্মচারী থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের ঘটনা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দর্শন বিভাগের আরেকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে লন্ডন টাইমসের প্রতিনিধিকে জানান আজকের এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়। ইতিহাস সাক্ষী এই শহিদ মিনার বারবার স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তিসহ মৌলবাদী দলগুলোর রোষানলে পড়েছে। যারা এই কাজে যুক্ত তারা পরিবার থেকে ইতিহাসের পাঠ পাচ্ছে না। ফলে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা বোধ তৈরি হচ্ছে না। এই অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কঠিন পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে।