আরিফ আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক ।শেষ হলো বরিশাল বিভাগীয় বৃক্ষমেলা ২০২২। এই মেলায় গত পনেরদিনে প্রায় এক কোটি দুই লাখ টাকার শোভাবর্ধক টবের গাছ বিক্রি হয়েছে বলে জানালেন সামাজিক বনবিভাগ কর্তৃপক্ষ। ১৪ আগস্ট রবিবার বিকালে সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ আরো জানান, ১৭ জন মালিকের ৫০টি স্টল ছিলো এই বৃক্ষমেলায়। নগরীতে ছাদ বাগানে আগ্রহী ক্রেতার উপস্থিতি বেশি ছিলো বলে জানান কর্তৃপক্ষ। জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন হায়দার এর অনুপস্থিতিতে  সভাপতিত্বহীন বৃক্ষমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার আমিন উল আহসান মেলার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান, উপকূলীয় বন সংরক্ষক মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা এএমজি কবীর বুলু এবং সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এর অধ্যাপক এহতেশামুল হক এতে বক্তব্য রাখেন।
গত ৩১ জুলাই এই বৃক্ষমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন বরিশাল ৫ আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল অবঃ জাহিদ ফারুক শামীম। এর পর থেকে ১৪ আগস্ট  পর্যন্ত ঝড় বৃষ্টির মধ্যেই চলে বৃক্ষমেলার বেচাকেনা। বরিশাল জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ  আয়োজিত এই সমাপনী অনুষ্ঠানে সামাজিক বনবিভাগ কর্তৃপক্ষ এককোটি এক লাখ নিরানব্বই হাজার নয়শত টাকার গাছ বিক্রির কথা জানালেও  বাস্তবে বিভিন্ন নার্সারি পরিচালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত পনেরদিনে এর অর্ধেক বিক্রিও হয়নি। তবে পুরুষ্কার পাবার লোভে কয়েকটি স্টল বিক্রি বাড়িয়ে বলারও অভিযোগ করেন স্বরূপকাঠি থেকে আগত প্রায় সব গাছেরা চারা ব্যবসায়ী।
প্রায় ৫০ হাজার চারা গাছের মধ্যে বনসাই টবের গাছগুলোই বেশি বিক্রি হয়েছে। গড়ে এক একটা ডাবল স্টলে গত পনেরদিনে ১ লাখ টাকার গাছ বিক্রি হয়েছে বলে জানান কয়েকজন নার্সারি মালিক। এখানে সবচেয়ে দামি গাছটি ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের। আদর্শ নার্সারির এ গাছটি একটি বনসাই বটবৃক্ষ। যা শেষ পর্যন্ত বিক্রি হয়নি।শাহেদ নার্সারি সোহেল জানান, গত পনেরদিনে আমার দুটি স্টলে ২ লাখ টাকার গাছ বিক্রি হয়েছে। তিনি আরো বলেন সব মিলিয়ে ২৫ টি স্টলে রয়েছে এই মেলায়। ইভা নার্সারি কালাম বিক্রি করেছেন ৭০ হাজার টাকা মাত্র। আর হালিমা নার্সারিরসোহাগ বলেন, গত পনেরদিনে ৭০ হাজার টাকার মত বিক্রি হয়েছে। মালামাল আনা নেয়া ও এখানের খরচ বহন করে আমাদের লস ছাড়া লাভ নেই। তিনি আরো বলেন,  কয়েকটি বাইরের স্টল মালিকরা পুরষ্কার পাওয়ার জন্য বেশি বেশি বিক্রি দেখাচ্ছে। আদতে যা বলছে তার অর্ধেকও বিক্রি হয়নি।
মানবসেবা নার্সারির ফায়জুল হক বিক্রি বিষয়টি এড়িয়ে সমস্যা তুলে ধরে বলেন, ঢাকায় জাতীয় বৃক্ষমেলার পাশাপাশি সময়ে এই মেলার আয়োজন হলে ভালো হত। হয়তো আমরা আরেকটু বেচাকেনা হতো। পানি ও বিদ্যুৎ সমস্যা ছিলো প্রকট। নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা ছিলো কিন্তু রাতে বিদ্যুৎ ছিলোনা।  রাতে যে কর্মচারীরা স্টলঘরে ঘুমাতো ঘরগুলো ছোট হওয়ায় তাদের থাকতে কষ্ট হয়েছে, তারা বৃষ্টিতে ভিজেছেন বলে জানান  ফায়জুল হক।
সবশেষে বৃক্ষ মেলায় অংশ গ্রহনকারী নার্সারির মালিকদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দিয়ে  মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করেন বিভাগীয় কমিশনার আমিন উল আহসান।