শিবালয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের পদ পেলেন ছাত্রদলের দুই নেতা

স্টাফ রিপোর্টার,মানিকগঞ্জ থেকে ।
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা ছাত্রলীগের নবগঠিত দুই সদস্যর কমিটিতে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের পদ পেয়েছেন ছাত্রদলের দুই নেতা। এ নিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের ভেতর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। দলে অনুপ্রবেশকারীদের দিয়ে ছাত্রলীগের কমিটির ঘোষনা করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। অভিযোগ রয়েছে উপজেলা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি রাকিব হাসানাত আওয়াল ও সাধারণ সম্পাদক মো.নাজমুল হুদা নয়নের বিরুদ্ধে হত্যার চেষ্টা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত পক্ষে আটটি মামলা রয়েছে। মামলার তথ্য গুলো নিশ্চিত করেছেন শিবালয় থানা পুলিশ।
এছাড়া নতুন কমিটি ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ছবি ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়, ছাত্রলীগের নতুন দায়িত্ব পাওয়া এই দুজন নেতা বিএনপির একটি ব্যানারসহ বেশকিছু নেতাকর্মীদের সঙ্গে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছেন। এরমধ্যে একজন চেক শার্ট অপরজন পাঞ্জাবি পরা। ব্যানারে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার ছবি রয়েছে।
জানাগেছে,গত ১৬ ফেব্রুয়ারি জেলা ছাত্রলীগের কমিটির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের স্বাক্ষরে দুই সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী রাজু আহমেদ বুলবুল ও সাধারন সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরে আগামী এক বছরের জন্য দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেন।
এদিকে নবগঠিত কমিটি বাতিলের দাবিতে গেল বুধবার দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উথলী মোড় এলাকায় শিবালয় উপজেলা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের একাংশ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জড়ো হন। এরপর তারা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় প্রায় আধা ঘন্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। পরে শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) ফিরোজ কবিরের নেতৃত্বে শিবালয় থানা পুলিশ এসে নেতাকর্মীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এর আগে শিবালয় উপজেলা ডাকবাংলোয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়,জেলা ছাত্রলীগ মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ছাত্রদল থেকে অনুপ্রবেশকারী হিসাবে পরিচিত ওই দুইজনকে দিয়ে কমিটি গঠন করেছে। ছাত্রলীগের নীতি বহিভূর্তভাবে দেয়া এই কমিটি অবিলম্বে বাতিল করে কাউন্সিলের মাধ্যমে পুনরায় কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামীতে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুমকি দেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মিরাজ হোসেন লালন, ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি সেলিম রেজা, সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান মীম, সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন প্রমুখ।
এব্যপারে শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: ফিরোজ কবির জানিয়েছেন,নবগঠিত কমিটির সভাপতি রাকিব হাসানাত আওয়ালের বিরুদ্ধে রয়েছে তিনটি মামলা। যার মধ্যে দুটি মামলা হত্যা প্রচেষ্টা ও একটি মারপিট গুরুত্ব যখম চুরি ও প্রাননাশের অভিযোগের মামলা অন্তভুক্ত। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক মো.নাজমুল হুদা নয়নের বিরুদ্ধে রয়েছে পাঁচটি মামলা।
শিবালয় ছাত্রলীগের উপজেলা পর্যায় সুত্রে জানা গেছে, শিবালয় উপজেলা নবগঠিত কমিটির সভাপতি রাকিব হাসানাত আওয়াল একই উপজেলার ষাটঘর তেওতা গ্রামের মো: আমজাদ মৃধার ছেলে। এছাড়া সাধারন সম্পাদক মো.নাজমুল হুদা নয়ন একই উপজেলার নিহালপুর গ্রামের খলিল মল্লিকের ছেলে।
শিবালয় থানার একাধিক সুত্র জানিয়েছে, ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিব হাসানাত আওয়ালের বিরুদ্ধে হত্যা প্রচেষ্টা হামলা, ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে থানায় তিনটি মামলা রয়েছে। এরমধ্যে ২০১১ সালের ২৪ জুন একই উপজেলার তেওতা বাসেট গ্রামের সুধান্ন মন্ডলের ছেলে কানাই মন্ডল বাদী হয়ে শিবালয় থানায় মামলা করেন। এরপর ২০১৭ সালের ৫ জুলাই নিহালপুর গ্রামের মৃত নোয়াই মল্লিকের ছেলে নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২২ আগষ্ট একই উপজেলার দশচিড়া গ্রামের শামসুল হকের ছেলে মো: সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তদন্ত শেষে মামলা গুলোর প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছে পুলিশ। এব্যপারে রাকিব হাসানাত আওয়াল জানালেন, সব গুলো মামলা ছিলো রাজনৈতিক অভ্যন্তরীন কোন্দলের জের ধরে মামলা। তিনি দাবী করেছেন তিনটি মামলার মধ্যে এখন একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বাকী দুটি থেকে খালাশ পেয়েছেন।
এদিকে নবগঠিত উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদকের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, বেআইনিভাবে সভা-সমাবেশ, জখম, চুরি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন, গতিরোধ করে হুমকিসহ বিভিন্ন অভিযোগে শিবালয় থানায় পৃথক ৫টি মামলা রয়েছে।
ওই ছাত্রলীগ সাধারন সম্পাদকে বিরুদ্ধে মামলা শুরু হয় ২০১৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর থেকে। প্রথম মামলার বাদী ছিলেন, একই উপজেলার ছোট বোয়ালী গ্রামের মৃত ওসমান সরদারের ছেলে মো: হুমায়ন। ওই মামলায় মারপিট করে আহত, চুরি ও হুমকির অভিযোগ ছিলো। এরপর ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর মানিকগঞ্জ পশ্চিম সেওতা গ্রামের আবুল কাশেম মিয়ার ছেলে মো: সোহেল ( বুলেট) পেনাল কোড ১৮৬০ ধারায় মামলা করেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ১লা সেপ্টেম্বর একই উপজেলার নিহালপুর গ্রামের লঞ্চ মালিক কদম আলী খন্দকারের ছেলে সোহেল খন্দকার বাদী হয়ে মামলা করেন। এরপর ২০১৮ সালের ২১ আগষ্ট শিবালয় নতুনপাড়া গ্রামের মো: বাবুল হোসেনের স্ত্রী মোছা: লিপি আক্তার বাদী হয়ে মামলা করেন।
একই বছর ২৮ নভেম্বর একই উপজেলার দক্ষিন তেওতা গ্রামের মৃত আব্দুল মোল্লার ছেলে মো: মোশারফ হোসেন বাদী হয়ে ৪৪৮/৪২৭/৩৯২/৫০৬(২)/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০ মামলা করেন। প্রতিটি মামলায় একাধিক আসামী রয়েছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ। এব্যপারে সাধারন সম্পাদকের মন্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
এসব বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী রাজু আহমেদ বুলবুলের ব্যক্তিগত মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা ও ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে তার কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।