শাহপরীরদ্বীপের নৌকাবোঝাই ইয়াবা উদ্ধার,সিন্ডিকেটে জড়িত কারা? আড়ালে রয়ে গেলো গডফাদার

টেকনাফ প্রতিনিধি:
টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিম পাড়া ঘাটের নৌকাবোঝাই ইয়াবা নিয়ে মাঝিমাল্লাসহ ধরা পড়লেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে মূল গডফাদাররা।
নৌকা আটকের পর থেকে প্রকৃত ইয়াবার মালিকদের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। কে বা কারা এ সিন্ডিকেট এ জড়িত?
সোমবার (৮ মার্চ) শাহপরীরদ্বীপ রাজুর ছেলে মনিরের নৌকার মাঝিমাল্লাসহ ৩০ হাজার ইয়াবা নিয়ে আটক করেছে সেন্টমার্টিন কোস্টগার্ড।
মনিরের নৌকার শ্রমিক ফারুক আটক হওয়ার পর তার মা লায়লা বেগম তার ছেলেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে বলেন আমার ছেলেকে জোর করে মনির রাতে নিয়ে গেছে সেই বোট ইয়াবা বহন করে আমার ছেলে জানে না আমার ছেলের জন্য মনিরের বিরুদ্ধে মামলা করব। ওই ইয়াবার প্রকৃত মালিক স্থানীয় মেম্বার প্রার্থী আক্তার হোসেন।সে মাঝের পাড়ার গ্রামের মৃত লম্বা বাইল্যার ছেলে।
জানা গেছে, আক্তার গরু ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে। তিনি তিনটি ছোট নৌকা করে আরো ২০/৩০ জন হতদরিদ্র জেলে পরিবারের সন্তানদের ইয়াবা পরিবহনের কাজে টাকার বিনিময়ে নিযুক্ত করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা পাচার করে আসছিলেন।
গত ২৪ অক্টোবর ২০২০ শাহপরীরদ্বীপ ড়াংগর পাড়ার গ্রামের অসহায় পরিবারের সন্তান ওমর ফারুক ১৫ হাজার ইয়াবাসহ চট্টগ্রাম ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলে উক্ত ইয়াবার মালিক আক্তার হোসেন বলে জানান।
এ ব্যাপারে অনুসন্ধান করা হলে স্থানীয় লোকজন প্রতিবেদককে জানান, লম্বা বাইল্যার ছেলে আক্তার, রাজুর ছেলে মনির উল্লাহর নির্দেশেই তার বোটের জেলেরা প্রতিটি সময়ে সাগর থেকে নৌকা নিয়ে কূলে ভিড়তে দেরি করে এই আমাদের সন্দেহ সৃষ্টি হয়। তার পর থেকে আমরা বোট মালিক সমিতির নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত করি এই সিদ্ধান্ত পেশ না হতে মনিরের নৌকা ইয়াবা নিয়ে আটক হলো।
নৌকা করে ইয়াবা পাচারে সিন্ডিকেটরা হলো- শাহপরীরদ্বীপ মাঝের পাড়ার রাজুর ছেলে মনির উল্লাহর‌ বড় ভাই করিম উল্লাহ(৩৫)সোলতানের ছেলে শীর্ষ মানব পাচারকারী শাহাব মিয়া( ৪৫)।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার মনিরের/আক্তারের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে তবে আক্তার রয়ে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।
ওমর ফারুকের মা লায়লা বেগম বোটের মালিক মনির এবং আক্তারের কাছে গিয়ে তার ছেলেকে কেন মাছ ধরার জন্য বলে ইয়াবা বহনের জন্য নিয়ে গেছেন বিষয়টি জানতে চাইলে মনির বলেন, কোন অসুবিধা নেই আমি তোমার ছেলের জামিন নেব। যতদিন পর্যন্ত ফারুক জেলে থাকবে ততদিন তোমাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব আমি নেব।
এদিকে,ধৃত করিম মোল্লার স্ত্রী রাবেয়া খাতুন বলেন, আমার স্বামীর মামলা পরিচালনা থেকে শুরু করে আমাদের ভরণপোষণের যাবতীয় দায়িত্ব মেম্বার প্রার্থী আক্তার পালন করবেন বলে তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে শাহপরীরদ্বীপ ৭ নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার নুরুল আমিন বলেন,আমি নির্বাচন করব তাই বেশি মন্তব্য করতেছি না তবে এতটুকু বলতে পারব জেলেরা আমাকে অবগত করছিল এই বোট ইয়াবা পাচার করে।
বোট মালিক সমিতির সভাপতি নজির আহমদ বলেন, আমার নৌকার ঘাটে যারা ইয়াবা পাচার করে আসতেছে আমি তাদের নৌকা ইঞ্জিনের পাকা বাড়িতে রেখে দিয়েছি তবে যারা চুরি নৌকা নিয়ে ইয়াবা পাচার করে এরা প্রশাসনের কাছে আটক হচ্ছে।