সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে শফি চৌধুরীকে নিয়ে কৌতূহল দেখা দেয়। প্রশ্ন ওঠে- আসলেই কী নির্বাচনে থাকছেন শফি চৌধুরী।

গত ২২ মে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় জাতীয় সংসদের সিলেট-৩, লক্ষ্মীপুর-২, ঢাকা-১৪ ও কুমিল্লা-৫ আসনের উপনির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এরপরও দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে এ উপনির্বাচনে নেওয়ার ঘোষণা দেন শফি আহমেদ চৌধুরী।

আগামী ২১ জুন লক্ষ্মীপুর-২ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর অন্য তিনটির নির্বাচন হবে আগামী ২৮ জুলাই।

দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করায় শফি আহমেদকে কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়ার কথা মঙ্গলবার রাতে  জানান বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

শফি আহমদ চৌধুরী বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সদস্য। বিএনপি’র হয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সিলেট-৩ আসনের নির্বাচনে লড়ছেন। তার প্রতীক থাকে ধানের শীষ। সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। আর বিএনপি’র হয়ে ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। কেন্দ্রীয় সদস্য হওয়ার সুবাদে তাকে সিলেট-৩ আসনের বিএনপি’র নেতারা অভিভাবক হিসেবে মানেন। তার নেতৃত্বেই স্থানীয় বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ চলেন। স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন- শফি আহমদ চৌধুরী সম্প্রতি সময়ে বিএনপি’র কারো সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করেননি। কিংবা নির্বাচন করার বিষয়ে কাউকে অবগত করেননি। ফলে তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগতও নয়। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে শফি আহমদ চৌধুরী সিলেট-৩ আসনের নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর তার বক্তব্য নিয়ে বিএনপি’র ভেতরে চলছে তোলপাড়।

সরাসরি তিনি কিছু না বললেও বিএনপি ঘরানার এই কেন্দ্রীয় নেতার মুখে ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম। মিডিয়াকে দেয়া বক্তব্যে তিনি বঙ্গবন্ধু নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। এবং বঙ্গবন্ধু সরকারকে সহযোগিতা করার বিষয়টিও তার বক্তব্যে তুলে আনে। তিনি জানিয়েছেন- ‘আমি মনে করেছিলাম এ আসনে প্রয়াত এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর স্ত্রীকে মনোনয়ন দেয়া হবে। কিন্তু পরবর্তীতে শুনলাম উনাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। পরে উনি বলেছেন- চাচা যদি নির্বাচনে প্রার্থী হন আমরা তাকে সমর্থন দেবো। ১৯৮৬ সালে বিএনপি আমাকে মনোনয়ন দেয়নি। আমি স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচন করেছিলাম। আমি ২০-২৫ হাজার ভোটে পাস করলেও আমাকে পরাজিত দেখানো হয়েছিলো। তারপর থেকে বিএনপি আমাকেও মনোনয়ন দিয়েছে। জিয়াউর রহমান সাহেবের সময় থেকে বিএনপি করে আসছি।’ বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন- ‘বঙ্গবন্ধু যতদিন ছিলেন বিপদে-আপদে সব সময় আমাকে ডেকেছেন। আমাকে তুই করে ডাকতেন। গম, চাল এনে দেয়ার কথা বললে আমি এনে দিতাম। তখন ওইসব পণ্যের দাম তিন ডাবল বেড়ে গিয়েছিলো। বাট আই হ্যাভ সাপ্লাই। আমি ব্যবসা করছি মাথা উঁচু করে।

আমি এখন রিটায়ার্ড। আমি এখন পাবলিক কাজ করি। আমার বাবার নামে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা করে দিয়েছি। আমি কাজ করছি মানুষের জন্য।’ তিনি বলেন- ‘আমি পাস করি, ফেল করি এটাই আমার জীবনের শেষ ইলেকশন। ভাবলাম এলাকার মানুষের একটা চাহিদা আছে। দু’তিন বছর তাদের সেবা করা যাবে। দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জের আমাদের এলাকায় গ্যাস নেই। যেকোনো কিছুর বিনিময়ে এলাকার মানুষকে গ্যাস দিতে পারলে আমার আর কোনো চাহিদা নেই।’

এদিকে- গতকাল বিকালে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠজন ও অরাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন শফি আহমদ চৌধুরী। তার ঘনিষ্ঠজন ব্যাংকার রাজু আহমদ জানিয়েছেন- নির্বাচনে তার মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীদের নিয়ে শফি আহমদ চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এবং তিনি নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েই এ মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এদিকে- শফি আহমদ চৌধুরীর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাকে ব্যক্তিগত বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন সিলেট বিএনপি’র নেতারা। এটিকে তারা দলীয় বিষয় বলে বিবেচনা করছেন না।

সিলেট জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার জানিয়েছেন- যেহেতু শফি চৌধুরী কেন্দ্রীয় নেতা সুতরাং কেন্দ্র তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সে সিদ্ধান্ত মতো সিলেট বিএনপি চলবে। আপাতত সিলেট বিএনপি’র কেউ শফি আহমদ চৌধুরীর সঙ্গে নেই। সিলেট জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও দক্ষিণ সুরমা বিএনপি’র শীর্ষ নেতা শামীম আহমদ জানিয়েছেন- শফি আহমদ চৌধুরীর নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে তারা অবগত নয়। বিষয়টি শফি আহমদ চৌধুরী তাদের অবগত করেননি। এটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। তার এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিএনপি’র কারও সম্পৃক্ততা নেই।