মুক্তিপণের দাবিতে লিবিয়ায় জনি মোল্লা নামের এক যুবকের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হচ্ছে। প্রতিদিন ভিডিও কল করে জনির বাবা-মাকে নির্যাতনের দৃশ্য দেখানো হচ্ছে। মুক্তিপণের পুরো টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় দিনকে দিন নির্যাতনের মাত্রা বেড়েই চলেছে। এখন প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

লিবিয়াতে নির্যাতনের শিকার জনি মোল্লার বাড়ি ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার চাদঁপুর গ্রামে। ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় আট মাস আগে দালালের মাধ্যমে দুবাই হয়ে লিবিয়ায় যান তিনি।

স্থানীয় ও জনির পরিবার সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের বাসিন্দা কবির মোল্লা ও লাইলী বেগমের একমাত্র ছেলে জনি মোল্লা (৪০)। বিদেশে যাওয়ার কিছুদিন আগে পায়েল নামের এক মেয়েকে বিয়ে করেন। লিবিয়া যাওয়ার পর জনি তিন মাসে তার বাবাকে ৬৭ হাজার ৩০০ টাকা পাঠান। এরপর গতমাসের ১২ জুলাই থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তার কয়েকদিন পর ভিডিও কলে নির্মম নির্যাতনের দৃশ্য দেখানো হয়।

জনি মোল্লার পরিবারের দাবি, প্রথমে তাদের কাছে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। পরে জমি বিক্রি করে কানাইপুর ইসলামী ব্যাংকের একটি নম্বরে তিন লাখ টাকা দেন। এরপর চাওয়া হয় আরও এক লাখ টাকা। সে টাকা জোগাড় করতে দেরি হলে নির্যাতন আরও বাড়তে থাকে। বাধ্য হয়ে তারা ইসলামী ব্যাংকের ওই অ্যাকাউন্টের মালিকের বিরুদ্ধে গত ২৯ জুলাই মধুখালী থানায় একটি মামলা করেন।

মামলার পরের দিন ৩০ জুলাই ফেনী থেকে ওই প্রতারকচক্রের প্রধান মাহবুব ভূঁইয়া রাজীবকে আটক করে মধুখালী পুলিশ। এরপর জনির ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জনির দুই পা শিকল দিয়ে বেঁধে মাথা নিচ করে ঝুলিয়ে রেখে বেদম প্রহার করা হচ্ছে। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুই হাত পিঠমোড়া করে বেঁধে মাথা নিচে রেখে দুই পায়ের তালুতে প্রহার করছেন নির্যাতনকারীরা।

জনির বাবা কবির মোল্লা ও মা লাইলী বেগম জানান, এখন লিবিয়া থেকে কল দিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকির পাশাপাশি ৬০ লাখ টাকা দাবি করছেন নির্যাতনকারীরা। তাদের শর্ত পূরণ না করা হলে জনিকে মেরে ফেলা হবে বলেও হুমকি দিচ্ছেন। জনিকে উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

এ বিষয়ে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার থানায় মামলা করেছে। মামলায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) সুমন সরকার বলেন, গত ২৯ জুলাই থানায় একটি মামলা করে ওই পরিবার। পরের দিন বাংলাদেশে থাকা রাজীব নামের দালাল চক্রের একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে তিনদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। তার তথ্যমতে চক্রের সবাইকে আটকের জন্য সিআইডি ও পুলিশের সেল ন্যাশনাল ক্রাইম ব্যুরোর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আশা করছি, যাদের নাম এসেছে, তারা খুব তাড়াতাড়ি ধরা পড়বেন। এছাড়া জনিকে অক্ষত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।