লাল ক্যাপ-শাহমুব জুয়েল

তোমরা আমার কথা শুনোই না। কেন বাবা? কোথায় শুনলে? যেটা চাই সেটাই না করে দাও। দিলে কী হয় হ্যেঁ। দুজনের চাকরি করে টাকা কি করো? একটা ছেলের আবদার রাখতে পারো না। প্রতিদিনই বায়না ধরে টুটু।
স্কুলে পড়ে সে। অটোপাশ পেয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে এবার । স্কুল নেই, বাড়িতেই পড়াশোনা করে। স্কুল কবে খুলবে জানা নেই। কদিন করে বাড়াতে বাড়াতে স্কুলের ছুটি বছরে ঠেকছে। খিটখিটে হয়ে গেছে টুটু। আশেপাশে মাদ্রাসাগুলো খুলছে। সেখানে বাচ্চারা চলে যায়। খেলার সাথীরা মাদ্রাসায় পড়ে। নিসঙ্গ হয়ে পড়ছে সে। ঘর থেকে বের হয়ে সামনে একপলক দিয়ে আবার ভিতরে ঢুকে মনটা বেজায় খারাপ হয়ে যায়। একা কী খেলা যায়। আজকাল কিছু না বলতে রেগে যায় সে।
ভোর হয়েছে। চোখ কচলাতে কচলাতে ওঠে সে।
কী খাবে? দুধ চা তার প্রিয় খাবার। ঘন দুধ চা।
কম হলেই ঘ্যান ঘ্যান করে। অভ্যাসটা তার মায়ের। সন্তান বাবা মায়ের কোন কোন স্বভাব লালন করে।
সে ব্যাতিক্রম নয়। চা খেতে খেতে টুটু মায়ের দিকে তাকায়। মা মনে মনে ডরায়। আজ কী কয় আবার। কারণ বায়নার শেষ নেই।
কীরে কিছু বলবি? কি বলবো তোমার মনে নেই।
সে ধম ধরে। না তো কী বলছো মনে নেই। ক্যাপ দিবা বলছো? লাল ক্যাপ।
মার্চ মাস। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুদিন। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস। এদিনে স্কুলে সভা হয়। ফুলে ফুলে চেয়ে যায় স্মৃতিসৌধ। গ্রামবাংলার স্কুলে স্কুলে সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম হয় করোনাকালীন সব থেমে গেছে। আগে জীবন তারপর উৎসব। শিশুরা মানতে চায় না ; জ্বালাতন করে। টুটুর লালক্যাপ চাই। চা টানতে টানতে সে বলল, আনছো? মনে নেই? কী মনে থাকে । একটা মাত্র ছেলে, তাও কথা রাখো না। সে চা রেখে উঠে দাঁড়ায়।
সকালের সূর্য লাল হয়ে উঠেছে। আজ খরার দিন।
সূর্যের আলো ঠিকরে পড়ছে টুটুর গায়ে। টুটু খুব ফর্সা।
আলো বাড়তেই তার শরীর লাল হয়ে উঠেছে। ঘামছে তার শরীর। টুটুর মা এগিয়ে যায়। আব্বু রাগ করে না; তোমার বাবাকে আজই বলবো। লাগতো না লাগতো না বলে চিৎকার দিয়ে ওঠে টুটু। এবং বলতে লাগল – বাবা কোনোদিন আনবে না। আচ্চা ঠিক আছে তাহলে মা
বাজারে গেলে নিয়ে আসবো। এবার ভুল হবে না।
তার মা ঝাঁপটে ধরে টুটুকে। সে দেখে সূর্যটা কেমন; লাল। তদের গায়ে আলো ঠিকরে পড়ছে। সূর্য দেখতে দেখতে সে বলল , টুটু ওই দ্যাখ লাল ক্যাপ…
[ লেখক: কথাসাহিত্যিক। ]