টঙ্গীতে চেম্বারে এক নারী রোগীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।শনিবার রাতে এই চিকিৎসককে আটক করা হয়; রোববার মামলা হওয়ার পর গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার হাসিবুল হাসান (৩৭) টঙ্গীর হোসেন মার্কেটের আল-কারীম ইসলামী হাসপাতালের চিকিৎসক এবং ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে।

শনিবার রাত ১০টার দিকে হাসপাতালে হাসিবুল হাসানের চেম্বারে এ ঘটনা ঘটে বলে মামলায় ওই নারী অভিযোগ করেন।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) আবু সায়েম নয়ন জানান, ঘটনাটি রোগীর স্বজনরা জানার পর হাসপাতালে ভাংচুরের চেষ্টা করলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শনিবার রাতেই ওই চিকিৎসককে আটক করা হয়।

তিনি জানান, রোববার সকালে টঙ্গী পশ্চিম থানায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভিক্টিম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের হওয়ার পর ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

রোগীর স্বজনরা জানান, ওই রোগী দীর্ঘ দিন ধরে হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছেন। শনিবার বিকালে তিনি অসুস্থবোধ করায় আল-কারীম হাসপাতালের পাশে পূর্ব পরিচিত এক ফার্মেসিতে যান। পরে ফার্মেসির লোকজন তাকে ওই হাসপাতালের চিকিৎক হাসিবুল হাসানের কাছে পাঠান।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, সেখানে গেলে চিকিৎসক তাকে ইসিজিসহ বেশ কয়েকটি পরীক্ষা করাতে বলেন। এক পর্যায়ে এই নারী পরীক্ষাগুলো করার পর এক মামাতো ভাইকে সঙ্গে নিয়ে রাত ৯টায় ইসিজিসহ অন্যান্য রিপোর্ট নিয়ে হাসপাতালে হাসিবুল হাসানের কক্ষে যান।

“এ সময় ওই চিকিৎসক তার সহকারী ও রোগীর মামাতো ভাইকে চেম্বার থেকে বের করে দিয়ে দরজা আটকে দেন। এক পর্যায়ে ওই চিকিৎসক রোগীর শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেন।”

পুলিশ জানায়, এ সময় তার চিৎকারে রোগীর মামাতো ভাইসহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে যান। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে উত্তেজিত জনতা ওই চিকিৎসককে তার কক্ষে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পশ্চিম থানা পুলিশ রাতে হাসিবুল হাসানকে আটক করে করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. শাহ্ আলম সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনায় রোববার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় একটি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার চিকৎসককে গাজীপুর আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।