যা হোক, কাল্পনিক আইপড নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি আপাতত থাক। আমরা বরং বারাক ওবামার উপহার নিয়ে কথা বলতে পারি।

বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানেরা ব্রিটিশ রানির সঙ্গে দেখা করার সময় উপহার বিনিময় করেন। রানি সচরাচর ফ্রেমে বাঁধাই করা নিজের ছবি দেন। আর রাষ্ট্রপ্রধানেরা খুব অর্থবহ, খুব গুরুত্বপূর্ণ, সংগ্রহে রাখার মতো উপহার নিয়ে হাজির হন। তবে এক যুগ আগে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা হাজির হয়েছিলেন একটি আইপড নিয়ে। আবারও, যেনতেন আইপড নয়, তাতে ছিল গান!

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা,এএফপি

সে আইপডে রানির যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের পুরোনো ভিডিও দিয়ে দিয়েছিলেন ওবামারা। ব্রিটিশ ট্যাবলয়েডগুলো অবশ্য ভিডিও-টিডিওর মধ্যে গেল না, তারা ওবামাকে ‘ধুয়ে দিল’। রানিকে আইপড? কলিকাল কি তবেই চলেই এল…নাহ, এমন কিছু অবশ্য লেখেনি। তবে ওবামার উপহারজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।

২০০৫ সালে রানি যে একটি আইপড কিনেছিলেন বলে কথিত আছে, তা যদি সত্যি হয়, তবে ওবামার উপহারের পর রানির সংগ্রহে আইপড হলো দুটি।

এদিকে ২৫ হাজার ছবি ঘেঁটেঘুঁটে ভোগ সাময়িকীর কর্মীরা যখন ক্লান্ত, সেই ২০১৭ সালে রানি এলিজাবেথের একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। স্বভাবসুলভ হাসিমুখ নিয়ে করমর্দন করছেন তিনি। আর একটু দূরে টেবিলের ওপর অলস ভঙ্গিতে পড়ে আছে একটি আইপড!

এবার আইপডটি ওবামার দেওয়া নাকি রানির কেনা, তা নিয়েও বেশ একচোট বাগ্‌বিতণ্ডা হলো। শেষমেশ অবশ্য বোঝা গেল, সেটি ওবামাদের উপহার দেওয়া আইপড। কারণ খালি চোখের দেখায় সেটিকে আইপড ক্ল্যাসিক মডেলের বলেই সাব্যস্ত করল সবাই। আর টেবিলে সযতনে সাজিয়ে রাখা দেখে বোঝা যায় রানি হয়তো তাতে নিয়মিত গানও শোনেন।

ঠিক ভোগ সাময়িকীর মতো না হোক, গুগলে অনেক খুঁজেটুজেও আইপডটির ব্যাপারে এর বেশি আর কোথাও পেলাম না। পেলে আর কিছু না হোক, অন্তত অর্থহীন আলোচনার দুটি খোরাক তো মিলত।

জো বাইডেন গত রোববার বিকেলে রানির সঙ্গে দেখা করেন

জো বাইডেন গত রোববার বিকেলে রানির সঙ্গে দেখা করেন,রয়টার্স

আর ঠিক এই সময় খুঁজতে যাওয়ার কারণ হলো ওবামার উত্তরসূরি জো বাইডেন গত রোববার বিকেলে চা পানের নেমন্তন্ন রক্ষায় রানির সঙ্গে দেখা করতে উইন্ডসর ক্যাসেলে গিয়েছিলেন। যথারীতি রানির জন্য ‘বিশেষ উপহার’ ছিল বাইডেনের সঙ্গে। তবে সে উপহার দুই দেশের জন্য কতটা অর্থবহ হয়, তা-ই এখন দেখার বিষয়।