বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শিক্ষকেরা বলছেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ নীতিমালা-২০০৮ অনুযায়ী কোনো বিষয়ে তদন্ত করতে না পারলে বা সেটি তদন্তাধীন বিষয় না হলে সাত কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্টকে তা জানিয়ে দিতে হবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। সর্বোচ্চ ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমার নির্দেশনাও মানা হয়নি।

অভিযোগকারী নারী শিক্ষক বলেন, অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছিল কমিটি। তাঁকে তিনবার কমিটির কাছে সাক্ষাৎকার দিতে হয়েছে। ডিসিপ্লিনের সব শিক্ষকের সাক্ষাৎকারও নিয়েছে। কিন্তু ১০ মাস পর জানানো হচ্ছে, অভিযোগটি নাকি কমিটির বিবেচনার বিষয় নয়। শারীরিক নির্যাতন ও মানসিক নিপীড়নের ব্যাপারে তারা নাকি কোনো প্রমাণ পায়নি।

ওই নারী শিক্ষক আরও বলেন, ‘নিপীড়নের প্রমাণস্বরূপ বিভিন্ন সময় ওই শিক্ষকের দেওয়া খুদে বার্তা (এসএমএস) তদন্ত কমিটিকে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার পর তিনি যে ক্ষমা চেয়েছিলেন, সে–সম্পর্কিত কল রেকর্ডও দেওয়া হয়েছিল। এরপরও নাকি তদন্ত কমিটি কোনো প্রমাণ পায়নি।’

এ বিষয়ে কমিটির প্রধান অধ্যাপক মোসা. তাসলিমা খাতুন বলেন, ক্যাম্পাসের বাইরে কোনো ঘটনা ঘটলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের এখতিয়ারবহির্ভূত। তাঁরা এ বিষয়ে কিছু করতে পারেন না। তবে এটা জানাতে ১০ মাস সময় লাগার কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

নারী শিক্ষকের অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ২৬ জানুয়ারি রাতে ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে তাঁকে যৌন নির্যাতন করা হয়।

বিষয়টি শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম। তিনি বলেন, কমিটির বিচার করার এখতিয়ার নেই, সেটি ঠিক আছে। তবে তারা অভিযোগ তদন্ত করে অপরাধীকে শনাক্ত করে সুপারিশ করতে পারে। কমিটির এ ধরনের সুপারিশের পেছনে কারণ কী হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কমিটিতে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা নারীর প্রতি হয়তো সংবেদনশীল নন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যৌন নিপীড়ন নিরোধ কমিটির সদস্য সাতজন। এর মধ্যে ছাত্রবিষয়ক পরিচালক শরিফুল হাসান রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) খান গোলাম কুদ্দুস বলেন, এখন ওই নারী শিক্ষক চাইলে আদালতের আশ্রয় নিতে পারবেন।