মুনিয়ার মৃত্যু। আনভীর, স্ত্রী ও বাবা-মাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা

রাজধানীর গুলশানের কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলা ৩০২/৩৪ এবং ধর্ষণের মামলা সেকশন ৯/১ এবং ৯/২ এ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ এর বিচারক মাফরোজা পারভীনের আদালতে মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান তানিয়া বাদি হয়ে এ মামলা দুইটি দায়ের করেন।এরপর বিচারক বাদীর জবানবন্দী গ্রহণ করে মামলাটির তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দেন।

এ মামলার অন্য আসামীরা হলেন, আনভীরের বাবা বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, আনভীরের মা আফরোজা বেগম, আনভীরের স্ত্রী সাবরিনা, শারমীন, সাইফা রহমান মীম, কথিত মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা এবং ইব্রাহীম আহমেদ রিপন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবী মাসুদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘সায়েম সোবহান আনভীর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মুনিয়ার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে তাকে বিয়ে না করে নৃশংসভাবে হত্যা করে। আর এতে তার পরিবারের সদস্যসহ অন্য আসামিরা সাহায্য করে। আমরা এ অভিযোগে ৮ জনকে আসামি করে মামলা করেছি। আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।’

উল্লেখ্য, গত ১৯ এপ্রিল রাতে ঢাকার গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ২১ বছর বয়সী মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে আনভীরের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন তার বোন নুসরাত জাহান তানিয়া।

এরপর ১৯ জুলাই এ মামলায় আনভীরকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন গুলশান থানা পুলিশ। এ প্রতিবেদনের ওপর ১৭ আগস্ট আদালতে নারাজি (প্রতিবেদনের ওপর অনাস্থা) আবেদন করেন মামলার বাদী ও মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান তানিয়া। নুসরাত জাহান তানিয়া নারাজি আবেদনে আদালতে অভিযোগ করে বলেন, চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে অবহিত করেছিলেন যে ভুক্তভোগীকে হত্যা এবং ধর্ষণ সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ করে তিনি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন। পরবর্তীতে আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে সে সম্পর্কে তাকে কিছু জানানো হয়নি। এসময় মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব অন্য কোনো সংস্থাকে দেওয়ারও আবেদন করেন তিনি। এ আবেদনে আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে পরে আদেশ দেওয়ার কথা জানান।

পরদিন ১৮ আগস্ট আদালত পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে সেই মামলাটি থেকে আনভিরকে অব্যাহতি দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here