মিয়ানমারে শান্তি চায় ঢাকা, প্রত্যাবাসন বিঘ্নিত না হওয়ার প্রত্যাশা

১ ফেবরুয়ারি ২০২১, ঢাকা।য়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতের দেশটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা দেখতে চেয়েছে বাংলাদেশ। অল্প আগে প্রচারিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে ঘটনার উল্লেখ না করে বা নিন্দা না জানিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশ সত্যিকারভাবে গণতান্ত্রিক নীতি অনুসরণ এবং প্রচারে বিশ্বাসী। তাই ঢাকা আশা করে মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং দেশটির সাংবিধানিক ব্যবস্থা সমুন্নত থাকবে। অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশি হিসাবে মিয়ানমারে শান্তি এবং স্থিতিশীলতাই বাংলাদেশ চাওয়া উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, উভয়ের জন্য লাভজনক সম্পর্ক বিকাশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার প্রচেষ্টায় অবিচল রয়েছে। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এ দেশে অস্থায়ী আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের রাখাইনে টেকসই, নিরাপদ এবং স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে কাজ করে চলেছে জানিয়ে ঢাকা আশা করে প্রত্যাবাসন সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান উদ্যোগগুলো যথাযথভাবে এগিয়ে যাবে অর্থাৎ মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ কোন সঙ্কটে প্রত্যাবাসন চেষ্টা বিঘ্নিত হবে না।
 
উল্লেখ্য, দেশটির রাজধানী নেপিডো ও প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় রাস্তায় সেনারা টহল দিচ্ছে। প্রধান প্রধান শহরে মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আজ অনুষ্ঠিতব্য পার্লামেন্ট অধিবেশনও স্থগিত করা হয়েছে।
গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল এনএলডি নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। তবে ওই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তোলে দেশটির সেনাবাহিনী। এবার সেই অভিযোগেই অভিযান চালিয়ে সু চিসহ এনএলডির শীর্ষ নেতাদের আটক করা হলো।২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ২০১৭ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও সেই প্রত্যাবাসন আজও শুরু হয়নি।