মিয়ানমারে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের রাবার বুলেট,মুখ খুললেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান

মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে বিক্ষোভকারীদের ওপর রাবার বুলেট ছুঁড়েছে দেশটির পুলিশ। সেনাবাহিনীর হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে চতুর্থ দিনের মতো অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নামলে এই ঘটনা ঘটেছে।
বিবিসির এক সংবাদদাতা বলেছেন, নেপিডোতে মঙ্গলবার পুলিশ কর্মকর্তারা বিক্ষোভ হটাতে গুলি ছোঁড়ার আগে জলকামান নিক্ষেপ করেছে। ঐ অঞ্চলের এক বাসিন্দা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, আকাশে দুইবার সতর্কতা হিসেবে গুলি ছোঁড়া হয় এরপর বিক্ষোভে রাবার বুলেট ছুঁড়ে পুলিশ।
এর আগে গতকাল দেশটির সেনাবাহিনী হুঁশিয়ারি দেয়, পাঁচ জনের বেশি জমায়েত হওয়া যাবে না এবং সমাবেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এসব উপেক্ষা করে চতুর্থ দিনের মতো চলছে আন্দোলন।

মঙ্গলবার মিয়ানমারের প্রধানশহর ইয়াঙ্গনের চাউংয়ে কয়েক ডজন শিক্ষক মার্চ করে, তারা তিন আঙ্গুলে স্যালুট দেখায়। আমরা শিক্ষক, আমরা ন্যায় বিচার চাই। সু চিকে মুক্তি দিন বলে শিক্ষকেরা স্লোগান দিতে থাকেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাজধানী নেপিডোর বিভিন্ন স্থানে পুলিশ জলকামান ছুঁড়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপিডোয় বেশ কয়েকজন লোককে আহত হতে দেখা গেছে। অন্যদিকে মানদালায় অন্তত ২৭ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।গত ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে দেশটির সামরিক বাহিনী। এদিন অভিযান চালিয়ে রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি এবং ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের আটক করা হয়। দেশজুড়ে ঘোষণা করা হয় এক বছরের জরুরি অবস্থা।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মুখ খুললেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান

সেনা অভ্যুত্থানের পর টিভিতে প্রথম ভাষণ

মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর সোমবার টেলিভিশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, তার সরকার মিয়ানমারের চলমান বিদেশনীতিতে কোনো পরিবর্তন আনবে না। খবর বিবিসির।
মিন অং হ্লাইং বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে। রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে যে চুক্তি আছে, তাতেও কোনো প্রভাব পড়বে না। যদিও ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি তিনি তার ভাষণে উল্লেখ করেননি।
‘রোহিঙ্গা না বলে তিনি বলেছেন, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী যেভাবে গৃহহীন লোকজনকে বাংলাদেশ থেকে ফেরত আনার কথা ছিল, সেটি চলতে থাকবে।
এই ভাষণের পুরো কপি ছাপা হয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দ্য গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমারে। ভাষণের বেশিরভাগজুড়েই অবশ্য নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পক্ষে সাফাই দিয়েছেন জেনারেল মিন অং হ্লাইং।
রোহিঙ্গা পুনর্বাসন ইস্যুতে তিনি বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে অস্থায়ী শিবিরে যেসব বাস্তুচ্যুত লোকজন রয়েছে, তাদের পুনর্বাসনের কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে তিনি বলেছেন, যদি তা দেশের স্বার্থের কোনো ক্ষতি না করে। বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের মধ্যে যারা গ্রহণযোগ্য, ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব অনুযায়ী তাদের ফেরার অনুমোদন দেওয়া হবে।
এমন সময় এই ভাষণ দেন মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের প্রধান এই ব্যক্তি, যখন দেশটিতে অভ্যুত্থানের বিপক্ষে ব্যাপক জনবিক্ষোভ হচ্ছে।
কিন্তু ভাষণের বেশিরভাগ অংশজুড়েই জেনারেল মিন অং হ্লাইং ব্যাখ্যা দেন কেন কোন পরিস্থিতিতে তাকে এই অভ্যুত্থান করতে হয়েছে।