সৈয়দ মুন্তাছির রিমন
জননী
এক দিনে সময়ের হিস্যায় আঠারো ঘন্টা কাজ
আবার দিনে বারো ঘন্টা ঘুমিয়েও দেখেছি,
পরিক্ষায় অকৃতকার্য কিংবা ক্লাসে প্রথম সাড়ি
আবার পিছনে বসা অত:পর  প্রথম হয়েও দেখেছি।
জননী
যৌবনে রোমাঞ্চকর প্রেমের অবাধ আলিঙ্গন
কলেজ কলিডোর কিংবা বাড়ীর জানালার হাঁসিমুখ,
আবার স্বার্থের জোয়ারে তিক্ত বিচ্ছেদ বেদনা
মানবের ক্ষত বিক্ষত কিংবা জীবন্ত স্তব্দ দেহ দেখেছি।
জননী
এই জনসমুদ্রে খালি পকেটে পুরো শহর ঘুরে
আবার সেই শহরে হাজার টাকার নোট উড়িয়ে,
রেল স্টেশনে রাত্রি নিশি কাটিয়ে বাস্তবতা খুঁজেছি
পাঁচ তারা হোটেল কিংবা রাজ দরবারে ঘুমিয়েছি।
জননী
পুঁথি সমাজ শব্দের বৈষম্যে গড়া বেশ্যার নিত্য নাচ
ধর্ষিত নারীর আহাজারিতে আকাশের বোবা কান্না,
আবার পবিত্র নারীর সতিত্বের মহাজাগরণে বন্যা
ক্ষমতার মসনদে মোড়ল, মুন্সি কিংবা মুক্তার দেখেছি।
জননী
জীবনে হারানো যন্ত্রনায় ফুফিয়ে ফুফিয়ে কেঁদে
ব্যর্থতার অক্ষয়ে লক্ষ্য হারা কষ্টের আঘাতে আঘাতে
গায়ের পশম বেয়ে ঘামে নয় রক্ত ঝড়া সহ্য করেছি,
মানুষের দেয়া অবহেলা, অবজ্ঞা, কৌশলে অপমান
পায়ে পিষ্টে মুখে একরাশ মুচঁকি হাঁসি দিয়েছি।
আবার প্রতিবাদ চিত্তে রাজপথে রাজত্বের দাবানলে
নগ্ন সমাজপতির  দূর্গে বারুদ জ্বালিয়ে তচনচ করেছি।
জননী
রাতের আধারে বাংলা নেশার আড্ডার রঙ্গমঞ্চ
বিদেশি লাল-নীল বোতলের মাতাল করা পঞ্চতা
রাতভর ক্লাবে ক্লাবে নিত্য নাচে ললনার মধ্যমণি
আবার মাজারে বাজারে হুলুস্থুল কান্ড দেখেছি।
জননী
রাজনীতি, সংগঠন, মানবতার জয়গানে রাজাপাড়া
স্বৈরশাসক, সেনাশাসক, গণতন্ত্র কিংবা গ্রাম্য বিচার,
অফিস আদালতে টাই-পেন্ট পড়া রক্ত পিশাচ বন্য
স্বাধীনতা উত্তর লাল-সবুজের দেশপ্রিতি দেখেছি।
লাঙ্গল হাতে কিংবা কলম হাতে সাদা কাগজ ভরাট
অস্ত্র হাতে নিশানা তাক করে বিবেকে বাধা পড়েছি ।
ভোগ বিলাসে অর্থ বিত্তের প্রাচুর্য ফেলে পলাতক রাজ্য
জন্মভুমি ছেড়ে মরুভূমি কিংবা সাদা ধূসর ঠান্ডা হাওয়া
গায়ে মেখে নদ, নদী,সমুদ্র, জলাশয়, পাহাড়, জঙ্গল বেয়ে
মানুষ সুখের ঠিকানা খোঁজার মহাসমাগম দেখেছি।
জননী
সব কিছুর বিনিময়ে নিজের প্রতিচ্ছবি নিজেই খুঁজে বেড়াই
মানুষের তরে মানুষ হওয়ার প্রতিযোগিতার রঙ্গ রসে মাড়াই
ভিখারির ন্যায় পথে পথে অলিক মুক্তির সন্ধানে ফিরে বটে
জীবন সন্ধিক্ষণে মহান খালিকের তরে হরদম নিত্য সদাই।
কোন উপায়েই ভালো থাকা প্রাণীর চারিত্রিক সনদে নেই
পশুর কাছে পরাজয়ের লজ্জায় মানুষ খুঁজতে চিড়িয়াখানা
পোশাকে মানুষ নয়, মনের মাধুরিতে মানুষ হওয়ার সময়
খুঁজে পায়নি কোথাও, কোথাও আমার অস্তিত্ব নেই মানুষ।