মানিকগঞ্জের পদ্মার পাড়ে হয়ে গেলো জাগজমকপুর্ন ক্রিকেট উৎসব

রিপন আনসারী,মানিকগঞ্জ থেকে।  
 
“বন্ধুত্বের মানে, পাটগ্রাম অনাথবন্ধু জানে” এই শ্লোগান কে সামনে রেখে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার পদ্মা পাড়ের ঐতিহ্যবাহী পাটগ্রাম অনাথবন্ধু সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে হয়ে গেলো জাগজমকপুর্ন ক্রিকেট উৎসব।
বিপুল উৎসাহ উদ্দিপনা আর আনন্দমুখোর পরিবেশের মধ্য দিয়ে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল পর্যন্ত বিরামহীন চলে ব্যাটে বলের লড়াই। ব্যতিক্রমী এই আয়োজনে অংশ নেয় এসএসসি ১৯৯৮  থেকে ২০২০ সালের মোট ২৩টি ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা। ক্রিকেট উৎসবকে ঘিরে ২৩টি ব্যাচের প্রাক্তম সলক শিক্ষার্থীদের মিলন মেলা বসে পদ্মা পাড়ে স্খাপিত পাটগ্রাম অনাথবন্ধু সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ।শুধু তাই নয় এই মিলন বিভিন্ন শ্রেনী পেশার গুণী ব্যাক্তিত্বরাও অংশ নেয়। এছাড়া সহপাঠিদের খেলা উপভোগ করতে পিঁছিয়ে ছিলো না মেয়েরাও।ব্যাটে বলের লড়াইয়ের এই উৎসবে   তারা  সারাদিন সহপাঠিদের উৎসাহ দিতে মাঠে ছিলেন।  ছেলেদের ক্রিকেটের পাশপাশি মেয়ের জন্য আয়োজন করা হয় বালিশ খেলা। এই খেলায় মেয়েরাও ছেলেদের মত ব্যাচ অনুযায়ী অংশগ্রহন করেছেন।
ক্রিকেট  উৎসবে অংশগ্রহনকারী সকল দলে ছিলো আলাদা আলাদা নাম। দলগুলো হলো বন্ধন-৯৮,আমরা-৯৯,লিজেন্ড অব  মিলেনিয়াম-২০০০, নির্ভীক-২০০১, নিয়ারা-২০০২, দুর্বার-২০০৩,গোল্ডবােন-২০০৪,বাউন্ডুলে-২০০৫,অপারেজয়তারুণ্য-২০০৬,স্বপ্নীল-২০০৭, ধুমকেতু-২০০৮,                                                                        আগামীর প্রত্যাবর্তন ২০০৯, অনিশ্চিত-২০১০, দুরন্ত-২০১১, স্বাধীন-২০১২, বিদ্রোহী-২০১৩,ডানপিটে-২০১৪,উদ্দিপ্ত-২০১৫,                                                  অদম্য-২০১৬,এক্সট্রিম-২০১৭, অনির্বাণ-২০১৮,    উত্তাল-২০১৯ ও অনিশ-২০২০।                                                                                                                                                  ফাইনাল খেলায় উদ্দিপ্ত-২০১৫ ব্যাচকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বিদ্রোহী-২০১৩ ব্যাচ।  
ক্রিকেট উৎসবে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম, মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট গোলাম মহীউদ্দীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান হোসেন, ঢাকা রেঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এনায়েত করিম রাসেল, হরিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, হরিরামপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুঈদ চৌধুরী। এছাড়া এই উৎসবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জের একঝাক সাংবাদিক।
খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ান ও  রানার্সআপ  দলের মাঝে ট্রফি তুলে দেন মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গোলাম মহীউদ্দীন।
এদিকে ক্রিকেট উৎসবে প্রতিটি ব্যাচের জন্য ছিলো আলাদা আলাদা জার্সি,উন্নত মানের মাক্স, হ্যান্ডস্যানিটাইজার যুক্ত কলম। দুপুরের খাবারের মেনুতে ছিল খিচুরী আয়োজন। ক্রিকেট উৎসবকে কেন্দ্র করে মাঠের পশ্চিম পাশে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য রোপণ করা হয়েছে অশোক, তমাল, মহুয়া, পারুল, জারুল, পলাশ, বকুল, সুলতান, চাঁপা ও কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা।  ওই চত্বরটির নাম করন করা হয়  “শতবর্ষ ছায়ামঞ্চ” ।
বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও পদ্মাপাড়ের সক্রেটিস খ্যাত বাবু হরিপদ সূত্রধর সকল শিক্ষার্থীদের সাথে বন্ধুত্বের মত করেই মিলেমিশে আনন্দ উপভোগ করেছেন এবং সকল শিক্ষার্থীদের নতুন বার্তা হিসেবে গুজবে কান না দিয়ে সকলকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে যাওয়ার আহবান জানান।