অনশন গড়িয়েছে প্রায় ৩৪ ঘণ্টায়। এরই মধ্যে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সাত শিক্ষার্থী; কিন্তু আদায় হয়নি দাবি। এমন অবস্থায় মশাল মিছিল করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা। মিছিলে অংশ নেন প্রায় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় উপাচার্যের বাসভবনের সামনে থেকে মশাল মিছিল শুরু করেন তারা।

এসময় শত শত শিক্ষার্থী মিছিলে অংশ নেন। মিছিলে ‘জ্বালো, জ্বালো, আগুন জ্বালো, আগুন জ্বালো এক সঙ্গে, ফরিদের গতিতে। আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেবো না, একশন একশন, ডায়রেক্ট একশন। আমার ভাই আহত কেন? প্রশাসন জবাব চাই এক-দুই-তিন চার, ফরিদ তুই গদি ছাড়। স্বৈরাচারের গদিতে, আগুন জ্বালো এক সঙ্গে।’ ইত্যাদি শ্লোগান দেন।

উপাচার্যের বাসভবনের সামন থেকে শুরু হওয়া মশাল মিছিল চেতনা একাত্তরের সামনে পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করে ফের উপাচার্যর বাসভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

টিআইবি।নাগরিক সমাজের মতামত ছাড়া ইসি গঠন আইন ব্যর্থ হবে

এদিকে দিবাগত রাত পৌনে ১টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাকিরা অনশনরত অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের সবাইকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শাখা ছাত্রলীগের সাত সদস্যের একদল চিকিৎসা দিচ্ছেন।

তবে ‘ছেলে অনশন করছে’ এমন খবরে আসাদুজ্জামান নামের এক শিক্ষার্থীর বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে মানবিক কারণে ওই শিক্ষার্থী অনশন ছেড়ে বাবাকে দেখতে চলে যান।

এর আগে ১৯ জানুয়ারি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে শুরু হয় অনশন। এ অনশন এখন গড়িয়েছে ৩১ ঘণ্টায়। এর মধ্যে কোনো সমাধান আসেনি।

তবে বুধবার রাত থেকে এখন পর্যন্ত শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল তিন দফায় অনশনস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের বুঝানোর চেষ্টা করেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ও বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে শিক্ষকরা অনশনে থাকাদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, হল প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে একটি আন্দোলন হচ্ছিলো। কিন্তু সেখানে কী এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল যে, আমাদের ওপর গুলি চালাতে হলো?

শিক্ষকদের উদ্দেশ্য করে তারা বলেন, আপনাদের উপস্থিতিতে তখন পুলিশ আমাদের ওপর হামলা করে। চাইলে এর আগেই আপনারা আলোচনা করতে পারতেন। কিন্তু ছোট একটা ঘটনাকে আপনারা বড় করলেন। যে কারণে আজ আমরা ভিসির পদত্যাগ দাবি করছি। সুতরাং আলোচনার সময় এখন আর নাই। সহমর্মিতাও আমরা চাই না। আগে সংহতি জানান। তারপর কীভাবে উপাচার্যকে হঠানো যায় সে বিষয়ে আলোচনা হবে।’

ঘুমের ভেতর চলে গেলেন ‘দ্য টাইম মেশিন’ নায়িকা

শিক্ষার্থীদে সঙ্গে তৃতীয় বারের মতো সমঝোতায় ব্যর্থ হয়ে ফেরার পথে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চাই, একটি আইনগত জায়গায় আসতে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না। আমরা শিক্ষার্থীদের এটা বুঝানোর চেষ্টা করছি।’

শিক্ষার্থীরা আলোচনায় আসতে চাইছে না। তারা সিদ্ধান্তে অনড়, এখন কী করবেন-এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আশা করছি, শিক্ষার্থীরা আমাদের কথা মানবে।’

India Should Stop Using Abusive Foreign Funding Law

এর আগে গত রোববার রাতে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধারকে কেন্দ্র করে পুলিশের গুলিবর্ষণ, লাঠিচার্জ সাউন্ড গ্রানেড নিক্ষেপের পর শুরু হয় উপাচার্যের পদত্যাগের আন্দোলন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here