ভোলা পৌরসভা নির্বাচন হ্যাটট্রিক জয় চায় আ’লীগ, জিততে চায় বিএনপিও

ভোলা জেলা সংবাদদাতা।
জমে উঠেছে ভোলা পৌরসভার নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা। নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিনরাত প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান হ্যাটট্রিক জয় নিশ্চিত করতে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন মাঠ-ঘাট। প্রচারে পিছিয়ে নেই বিএনপি মেয়র প্রার্থী হারুন অর রশিদ ট্রুমেনও। শংকা নিয়ে জিততে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন তিনিও।
আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচন ঘিরে ভোলা পৌর এলাকার রাস্তাঘাট, অলিগলি ছেয়ে গেছে প্রার্থীদের পোস্টারে। পাশাপাশি ভোটারদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে প্রতীক সংবলিত লিফলেট। আর ভোর থেকে ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাইতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। তাদের এমন তৎপরতায় জমে ওঠা নির্বাচনী উৎসব উপভোগ করছেন সাধারণ মানুষ। ভোলা পৌরসভায় এবার মেয়র পদে তিন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে আট এবং সাধারণ কাউন্সিলর ৯টি পদে ৩৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নৌকার প্রার্থী বর্তমান মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির এর আগে দু’বার মেয়র পদে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। এর ধারাবাহিকতায় তার উন্নয়ন মুলক কর্মকান্ড ও আগামীতে আরো পরিচ্ছন্ন, নাগরিক সুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়র তৃতীয়বারের মতো বিজয় নিশ্চিত করতে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন তিনি। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। মনিরের পাশাপাশি তার কর্মীরা দফায় দফায় ভোটারদের কাছে গিয়ে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। গত এক দশক মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে তিনি ভোলা পৌরসভার প্রায় ৩০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছেন। তিনি জানান, উন্নয়নের কারণেই পৌরবাসী তাকে তৃতীয়বারের মতো নৌকায় ভোট দেবেন। শিক্ষা, সংস্টৃ্কতি, পরিবেশ ও অবকাঠামো উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তৃতীয়বার মেয়র হয়ে একটি পর্যটনবান্ধব পৌরসভা গঠন করতে চান তিনি।
এদিকে বিএনপি প্রার্থী হারুন অর রশিদ ট্রুমেনের এটি দ্বিতীয় নির্বাচন। ২০১৫ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনিরুজ্জামানের কাছে বিপুল ভোটে হেরেছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়ে হারুন অর রশিদ বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে জনগণ যে রায় দেবেন, তাই মেনে নেব। এখন পরিবেশ সুষ্ঠু থাকলেও শঙ্কায় রয়েছেন বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা। মাদক, সন্ত্রাস আর দুর্নীতিমুক্ত পৌরসভা গঠন করবেন বিজয়ী হলে। তিনি ইনকিলাবকে বলেন নির্বাচন সুস্ঠ ও নিরপেক্ষ হলে ভোলা পৌরসভার সম্মানীত ভোটাররা বেগম খালেদাজিয়ার ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে জয়জুক্ত করবেন।
এ ছাড়া ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের আতাউর রহমান মোমতাজী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। তিনিও কর্মী-সমর্থক নিয়ে মাঠের প্রচার-প্রচারণায় সরব রয়েছেন।
এ ছাড়া প্রচারে মেয়র প্রার্থীদের চেয়ে এগিয়ে কাউন্সিলর প্রার্থীরা। ইভিএম পদ্ধতির এ নির্বাচনে ভোটারদের কেন্দ্রে উপস্থিত করাই চ্যালেঞ্জ মনে করছেন তারা। সরেজমিন দেখা যায়, প্রার্থীদের নির্বাচনী উৎসবের কারণে যেন আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, সেজন্য ব্যাপক তৎপর রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।এ দিকে ২ নং ওয়ার্ড ও ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের মাঝে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।যা নিয়ে সাধারন ভোটার ও প্রশাসনকে ভাবিয়ে তুলছে।
ভোলা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৬ হাজার ৯০৪। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আলা উদ্দিন আল মামুন জানান, নির্বাচনে পরিবেশ বেশ ভালো। ভোট গ্রহণের জন্য সব প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে। আশা করছি সকলের সহযোগীতায় একটা সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পারব।