শাহীন হাফিজ, বরিশাল।পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকেই ঢাকা-বরিশাল রুটে আকাশ ও নৌ-পথে জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেতে শুরু করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে আকাশ পথে ও নৌ-পথে যাত্রীদের কাছ থেকে অধিক মুনাফা আদায় করা হলেও বর্তমানে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। ভাড়া কমিয়েও যাত্রী সংকটে ভুগছে এই রুটের লঞ্চ ও এয়ারলাইনসগুলো।

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পূর্বে ঢাকা-বরিশাল আকাশ পথে বেসরকারি ইউএস বাংলা ও নভোএয়ার সর্বনিম্ন ৪ হাজার ৭০০ টাকায় টিকিট বিক্রি করেছে। পদ্মা সেতু উন্মুক্ত করার পর এ দুই এয়ারলাইনস গত ২০ জুলাই থেকে সর্বনিম্ন ভাড়া ৩ হাজার ৫০০ টাকা করছে। এতেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। মিলছে না পর্যাপ্ত যাত্রী। সর্বশেষ গত শুক্র ও রবিবার নভোএয়ার যাত্রী সংকটের মুখে ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। তবে ইউএস বাংলা তাদের নিয়মিত দুইটি ফ্লাইট চালু রেখেছে। বিমান বাংলাদেশও তাদের একমুখী ভাড়া সর্বনিম্ন ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে এক লাফে কমিয়ে চলতি সপ্তাহের রবিবার থেকে ৩ হাজার টাকা করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর কয়েক দিন যাত্রীর চাপ ছিল ঈদুল আজহা কেন্দ্রিক। কিন্তু ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পর থেকেই আশঙ্কাজনক হারে যাত্রী হ্রাস পেতে শুরু করলে ভাড়া কমাতে বাধ্য হয় ইউএস বাংলা, নভোএয়ার ও বিমান বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলো জানিয়েছে বর্তমানে ভাড়া কমানো হলেও যাত্রী সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে পদ্মা সেতু চালু হবার পর থেকে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের নৌ-যোগাযোগে বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করে। ঈদুল আজহায় যাত্রী চাপ থাকলেও বিগত এক সপ্তাহ ধরে যাত্রী মিলছে না বিলাসবহুল লঞ্চগুলোতে। গতকাল সোমবার বেশ কয়েকটি কোম্পানি ঘোষণা দিয়ে ভাড়া কমিয়েছে। এসব বিলাসবহুল লঞ্চের সিঙ্গেল এসি কিংবা ননএসি কেবিনের ভাড়া ১ হাজার ৪০০ টাকা থেকে এক লাফে কমিয়ে ১ হাজার টাকা করা হয়েছে। ডাবল কেবিনের ক্ষেত্রে ২ হাজার ৪০০ টাকার ভাড়া ২ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়াও ফ্যামিলি, সেমি ভিআইপি, ভিআইপি কেবিনের ভাড়া প্রকার ভেদে ৫০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। এছাড়া ডেকের ভাড়াও ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত কমিয়ে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা রাখা হচ্ছে।

একাধিক লঞ্চের সুপারভাইজার জানান, পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে ক্রমান্বয়ে কমেছে যাত্রীর সংখ্যা। বর্তমানে লঞ্চের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কেবিনে যাত্রী মিলছে না। তাই মালিকরা ভাড়া কমিয়েছেন। তবে একাধিক লঞ্চ মালিক লঞ্চে যাত্রী ফিরবেন এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, ভবিষ্যতে নৌপথে যাত্রীর সংখ্যাও বাড়বে। সঙ্গে বাড়বে লঞ্চও। ফলে লঞ্চ ব্যবসায় ভাটা পড়ার কোনো আশঙ্কা নেই। তারা বলেন, আগামী এক বছরে পাঁচটি নতুন লঞ্চ নামানোর উদ্যোগ নিয়েছেন উদ্যোক্তারা। লঞ্চগুলো বর্তমানে নির্মাণ পর্যায়ে রয়েছে। লঞ্চ মালিকদের মতে, প্রথমত নৌপথে ভাড়া কম, দ্বিতীয়ত লঞ্চে যাতায়াতে কর্মঘণ্টা নষ্ট হয় না এবং যাত্রীরা ক্লান্তি বোধ করে না, তৃতীয়ত বর্তমানে বিলাসবহুল যেসব লঞ্চ তৈরি হচ্ছে যাত্রীরা বাসের চেয়ে এসব লঞ্চ ভ্রমণে বেশি আগ্রহী হবে।

লঞ্চ মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও সুন্দরবন নেভিগেশনের স্বত্বাধিকারী মো. সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, পূর্বে লঞ্চের কেবিনের খুব চাপ থাকলেও বর্তমানে চাপ একটু কমেছে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু দক্ষিণাঞ্চলবাসীর আবেগের জায়গা। তাই প্রথম প্রথম মানুষ পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াত করছে। তাতে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ যাত্রী হ্রাস পেতে পারে। তবে লঞ্চে পরিবার-পরিজন ও মালপত্র নিয়ে শান্তিতে যাওয়া যায়। বাসে সেটা সম্ভব না। তাই এমন অবস্থা বেশিদিন থাকবে না বলে প্রত্যাশা তার।