ব্রিটেনের বৈদেশিক সাহায্য কর্তনে বাংলাদেশী সাহায্য সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার শংকা

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ।

জি সেভেন সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে টোরি দলীয় বিদ্রোহী এমপিদের চিঠি চালাচালি, অক্সফাম আর সাথে আছে একশন এইড ইউকে। কারণ শুক্রবারে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন জি-সেভেন সম্মেলনে বক্তব্য দেয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে ব্রিটেন এবারই প্রথম দেশ যারা বিদেশে বিশেষ করে অনুন্নত দেশের সেবামূলক কাজের সহায়তায় ব্রিটিশ অনুদানের ৪ বিলিয়ন পাউন্ড কর্তনের ঘোষণা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে টোরিদলের ব্যাকবেঞ্চারদের সাথে সাবেক প্রধানমন্ত্রী টেরেজা মে সহ ৩০ জন সরকার দলীয় এমপি প্রধানমন্ত্রী জনসন বরাবর চিঠি দিয়েছেন ফরেন এইড কর্তন না করার জন্য। ৩০ বিদ্রোহী এমপিদের চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন ব্রিটেনের খ্যাতনামা ১,৭০০ একাডেমিক, সেলিব্রিটি এবং চ্যারিটি সংস্থার লিডাররা। বিদেশে সাহায্যের ব্রিটেনের এই কর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এমপিদের এমন একাট্রা আর একশন এইড ইউকে, অক্সফাম সহ ১,৭০০ বিশিষ্ট নাগরিকদের স্বাক্ষরের প্রেক্ষিতে শুরু হয় তুমুল আলোচনা।

এ নিয়ে টেরেজা মে সহ ৩০ এমপিদের সংশোধনী বিল সোমবার পার্লামেন্টে উত্থাপনের চেষ্টা করলে স্পিকার লিন্ডসে হলি নোটিশের জবাবে বলেন, বিলটি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সাথে এনাফ সম্পৃক্ততা না থাকায় এটা পার্লামেন্টে উত্থাপিত হওয়ার সুযোগ নেই। তবে স্পিকার বলেন এ ব্যাপারে তিনি শীগ্রই বিতর্কের সুযোগ দেবেন, কিন্তু ০৭% লক্ষ্যমাত্রার প্রতি যুক্তরাজ্যের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখার বিষয়ে হাউসের সিদ্ধান্তমূলক ভোটের সুযোগ ছিল না। ”

জানা যায়, অক্সফাম একশন এইড ব্রিটেনের এবারের বৈদেশিক সহায়তা কর্তনের ফলে অন্যান্য দেশের মত ব্রিটেনের চ্যারিটি ইউকে এডুকেশন ট্রাস্ট বাংলাদেশ বেশ বড় ধরনের ফান্ড সংকটে পরবে। ইউকে এডুকেশন ট্রাস্ট বাংলাদেশ মূলত বাংলাদেশের বাসা বাড়িতে গৃহস্থালী কাজের সাথে জড়িত ছোট ছোট অসহায় কাজের ছেলে মেয়েদের স্কুলের শিক্ষা পাঠদান কার্যক্রম বিশেষ ব্যবস্থায় পরিচালিত করে থাকে, যা ব্রিটেনের এই বৈদেশিক সাহায্যের মাধ্যমে সম্পন্ন করে থাকে তারা।ব্রিটেনের ফান্ড কর্তনের ফলে তারা  এবার সংকটে পতিত হবে ফলে তাদের বাসা বাড়ির গৃহস্থালী কর্মী ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

এদিকে বিবিসির অ্যান্ড্রো মার শোতে হেলথ সেক্রেটারি ম্যাট হ্যানকক সরকারের ফান্ড কর্তনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেছেন প্যানডেমিকের সময়ে সরকারকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আর ফান্ডিং কাটের পরেও ব্রিটেন ২০২১ সালে ১০ বিলিয়ন পাউন্ড বৈদেশিক সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, জি সেভেনভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে ব্রিটেনই কেবল ফান্ডিং কর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৈদেশিক সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে  ব্রিটেন প্রতিবছর ০.৭% ব্যয় করলেও অধিকাংশ দেশ ০.৭% এর উপরে ব্যয় করে আসছে।জার্মানি ০.৭৪% এবং ডেনমার্ক ০.৭৩% ব্যয় করে। লুক্সেমবার্গ ১.০২%, নরওয়ে ১.১১%, সুইডেন ১.১৪% । ২০১৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২৫.০৪ বিলিয়ন এবং জার্মানি ২০.০৪ বিলিয়ন আর ব্রিটেন ১৩.১২ বিলিয়ন বিদেশে সহায়তার তথ্য রেকর্ডভুক্ত রয়েছে।