বুক রিভিউ 

 
পুরো বইটির পটভূমির কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন ইমাম গাযালী (রহ.)-এর খুব কাছের একজন শিষ্য। ইমাম গাযালী (রহ.)-এর সান্নিধ্যে ও খেদমতে দীর্ঘদিন থাকার ফলে তিনি অনেক কিতাব অধ্যয়ন করেন, অনেক ইলম অর্জন করেন, অনেক সূক্ষ্ম শাস্ত্রের উপর গভীর জ্ঞান লাভ করেন। একসময় তিনি নিজের ব্যক্তিজীবনের উপর গভীর পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে – ‘আগামী জীবনে ঠিক কোন বিদ্যা আমার কাজে আসবে? কবরের গহীন অন্ধকারে কোন শাস্ত্র আমাকে সঙ্গ দেবে? আর কোন জ্ঞান আমার কাজে আসবে না।’ একসময় তিনি কাগজ-কলমে চিঠি লিখে ইমাম গাযালী (রহ.) কে পাঠালেন। চিঠিতে যোগ করলেন আরও কিছু প্রশ্ন। অতঃপর ইমাম গাযালী (রহ.) শিষ্যের সেই চিঠিটি গভীর মনোযোগের সাথে পড়েন এবং আধ্যাত্মিক মহিমার সাহায্যে আন্তরিকভাবে লিখেন সেই চিঠির উত্তর।

বইয়ে ইমাম গাযালী (রহ.) তাঁর শিষ্যকে ‘হে বৎস’ বলে সম্বোধন করে সর্বমোট ২৫টি শিরোনামে কথা বলেছেন। এসব শিরোনামের বর্ণনায় প্রথমে ইলম ও আমলের মধ্যকার সম্পর্ক, ইলম অনুযায়ী আমলের প্রয়োজনীয়তা। এরপর আল্লাহ তা’আলার মাহাত্ম্য, প্রবৃত্তির চাহিদার উপর দ্বীনকে প্রাধান্য দেওয়া ও আত্মিক উৎকর্ষ সাধনের মনোমুগ্ধকর উপদেশ ইমাম গাযালী (রহ.) বর্ণনা করেছেন। প্রবৃত্তিকে এড়িয়ে কিভাবে নিজেকে মৃত্যুর জন্য তৈরী করা যায় এসব উপদেশ দিয়েছেন। শিখড়ের সফলতার জন্য যে আমল গুলা করতে হবে সেগুলো বলেছেন। যেমনঃ
১. শেষ রাতে ক্ষমা প্রার্থনা;
২. আল্লাহর ভয়ে চোখের পানি ফেলা;
৩. তাহাজ্জুদ আদায় ও কোরআন তিলাওয়াত।
এছাড়াও ইলম ও আমলের মাঝে শরীয়তের অনুসরণ করা, আধ্যাত্মিক সাধনার পথিক হয়ে আত্মিক কামনাকে দমন করা, জিহ্বার লাগামকে টেনে ধরা ইত্যাদি বিষয়ের হৃদয়স্পর্শী উপদেশ বর্ণনায় এসেছে।

এরপর শিষ্যের অস্থির চিত্তের কিছু প্রশ্নের যথার্থ উত্তর দিয়েছেন। এসব প্রশ্নের জবাবে ইমাম গাযালী (রহ.) লিখেছেন, ‘কিছু প্রশ্নের উত্তর বলে বুঝানো সম্ভব, কিছু প্রশ্নের উত্তর আছে তাঁর অন্যান্য রচনায়, আর কিছু প্রশ্ন তো এমন যার উত্তর মুখে বলে বা কাগজে লিখে দেয়া সম্ভব নয়, কেবলমাত্র অনুভবই করা সম্ভব’। শিষ্যের প্রশ্নের খাতিরে ইমাম (রহ.) ৪টি বিষয় জানিয়ে দিয়েছেন—
১. শুদ্ধ আকীদা;
২. বিদআত মুক্ত বিশ্বাস;
৩. খাঁটি তওবা;
৪. ইলম ওসে অনুযায়ী আমল। আত্মশুদ্ধিমূলক শিক্ষার সাথে সাথে পাওয়া যায় নিজেকে সংশোধনের তাগিদ, অনুপ্রেরণা ও পথনির্দেশ।

পরিশেষে ইমাম গাযালী (রহ.) তাঁর শিষ্যকে দিয়েছেন ৮টি উপদেশ। যার মধ্যে ৪টির উপর আমল করতে হবে আর ৪টি বর্জন করতে হবে।
• ৪টি বর্জনীয় বিষয়:
১. বিতর্ক এড়িয়ে চলার উপকারিতা;
২. নিজেকে আমলকারী না বানিয়ে অন্যকে উপদেশ দেয়া;
৩. রাজন্যবর্গ ও আমির-উমরার সঙ্গে মেলামেশা
৪. উপহার গ্রহণ করার বর্জনীয় বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে।
• ৪টি আমলের বিষয়:
১. আল্লাহ্‌ তা’আলাকে নিজের কাজের মাধ্যমে খুশি করা;
২. মুমিন ভাই-বোনদের প্রতি ইনসাফপূর্ণ আচরণ;
৩. ইলমের সাথে আত্মার সংশোধনের সম্পর্ক;
৪. মৃত্যুর প্রস্তুতি গ্রহণ ও জীবনে চলার জন্য সামান্য সঞ্চয়ের অভ্যাস।
মোটকথা, বইটি এক অসাধারণ ব্যক্তিত্বের পুর্ণতার পাথেয় বলে আমি বিশ্বাস করি। বইটি সবাই পড়বেন; আশা করি, আপনার সময় বৃথা যাবে না।

[ লেখিকা: শিক্ষার্থী ]