বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী'কে শ্যোন এরেস্ট: বিএনপি'র মহাসচিবের নিন্দা ও প্রতিবাদ

আদালত প্রতিবেদক:দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর কারাবন্দী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব লায়ন মোঃ আসলাম চৌধুরীকে জামিন লাভের পর পুনরায় গ্রেপ্তার ( শ্যোন এরেস্ট)  দেখানো হয়েছে। এই ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
<span;>গতকাল (৪ ফেব্রুয়ারী) মির্জা ফখরুল প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি অবিলম্বে কারাবন্দী আসলাম চৌধুরীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করেছেন।
পারিবারিক এবং আদালত সূত্রে জানা যায়,
চট্টগ্রামের জনপ্রিয় এবং কর্মী বান্ধব এই বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীকে ২০১৬ সালের মে মাসে গুলশান থানার সাধারণ ডায়রি মূলে ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোড সংলগ্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পরবর্তীতে রাষ্ট্র ও সরকার বিরোধিতার অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।  তারপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে একের পর এক রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় সরকার।
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি সব মামলায় জামিন লাভ করে যখন কারাগার থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করে ঠিক তখনই চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।  তারপর তাঁর মুক্তি প্রক্রিয়া থেমে যায়। এরই মধ্যে দুদকের মামলায় হাইকোর্টের দেয়া জামিন বাতিল চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগে আপীল করে সরকার।
দীর্ঘ আইনী প্রক্রিয়ার পর গত ৫ অক্টোবর ২০২০ ইং তারিখে সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগ দুদকের একটি মামলায় হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রাখেন।দুদকের আরো আরো একটি মামলায়  গত ১৯ নভেম্বর ২০২০ সালে জামিন প্রদান করে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে।
এর পর ডিসেম্বরের শেষ সময়ে যখন এই কারাবন্দী বিএনপি নেতা কারাগার থেকে মুক্তির জন্য অপেক্ষা করছিলেন ঠিক সেই সময়ে ৮ বছর আগের ২০১৩ সালের ঢাকার শাহবাগের একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ড চাওয়া হয়।
এরই মধ্যে সর্বশেষ হাইকোর্টের দেয়া জামিন বাতিল চেয়ে দীর্ঘ ২ মাস পর আপীল করে সরকার। সেই মামলায় গত ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ইং তারিখে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালত  শুনানি শেষে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন। তারপর কারাগার থেকে মুক্তির যখনই আবারো প্রক্রিয়া শুরু হল
ঠিক তখনই ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ইং তারিখে তড়িঘড়ি করে ঢাকার কোতোয়ালি থানার ২০১৩ সালের একটি রাজনৈতিক মামলায় এজহারে নাম না থাকা সত্ত্বেও শ্যোন এরেস্ট করে রিমান্ড চাওয়া হয়।আবারো থমকে যায় আসলাম চৌধুরীর মুক্তি প্রক্রিয়া।
আসলাম চৌধুরীর আইনজীবী কেএম সাইফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর কারাবন্দী থাকলেও
সম্পুর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একের একের পর রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আসলাম চৌধুরীর মুক্তি প্রক্রিয়া বিলম্বিত করছে সরকার।যেখানে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগে তাঁর জামিন বহাল রাখা হয়েছে সেখানে এজাহারে নাম না থাকা সত্ত্বেও ৭/৮ বছর আগের রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ড চাওয়া ও মুক্তি প্রক্রিয়ায় বাধাগ্রস্ত করা অত্যন্ত দুঃখজনক।