আরিফ আহমেদ,  বাংলাদেশ থেকে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায়ে আন্দোলনের বিকল্প ভাবছে না বিএনপি। নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনকে সামনে রেখে এ আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে চায় দলটির হাইকমান্ড।
নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনে সোচ্চার হবে দলটি। তবে তাদের মূল টার্গেট নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন। এ আন্দোলনের কৌশল চূড়ান্ত করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে দলটির হাইকমান্ড।
এরই অংশ হিসাবে ১৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সিরিজ বৈঠকে বসছেন হাইকমান্ড নেতারা।
দলটির কয়েকজন নীতিনির্ধারক এর সাথে কথা বললে প্রায় একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। তারা  বলেন, ১৪ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের মূল এজেন্ডা আসলে আন্দোলন। একটি কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলার কর্মকৌশল নিয়ে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল  নেতাদের পরামর্শ নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি আগামী নির্বাচন, দল পুনর্গঠন, আগামী জাতীয় কাউন্সিল, চেয়ারপারসনের মুক্তি, জোটের রাজনীতি, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা-হামলাসহ সাম্প্রতিক নানা ইস্যুও উঠে আসতে পারে এই বৈঠকে।এরপর নির্বাহী কমিটির সদস্য, ৮১টি সাংগঠনিক জেলার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক হবে বলে জানান তারা।
এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সঙ্গেও একই প্রক্রিয়ায় বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সবার মতামতের পরই চূড়ান্ত করা হবে আন্দোলনের কৌশল।
এদিকে নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনের দাবিতে এখন থেকেই সোচ্চার বিএনপি। সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে সবাইকে একই সুরে কথা বলার জন্য ইতোমধ্যে নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এ দাবিতে জোরালো বক্তব্য রাখছেন তা স্পষ্ট। শনিবার জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত হয়।  মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে তিনটায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে শুরু হবে এ সভা। চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।
এসময় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গেও বৈঠক হবে বলে জানা গেছে। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ৭৩ জন ও ভাইস চেয়ারম্যান রয়েছেন ৩৫ জন। এদের মধ্যে কয়েকজন মারা গেছেন ও দলও ছেড়েছেন।বর্তমানে বেশ কয়েকজন অসুস্থ। এসব কারণে এই বৈঠকে ৭০ জনের মতো উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও। তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন বলে জানান হাইকমান্ড সুত্র ।
এদিকে আজকের সভা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে গত সোমবার বিকালে প্রাক-প্রস্তুতি বৈঠক করেছে বিএনপি। চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন ও বেলাল আহমেদ।১৪ সেপ্টেম্বর এর সভায় কে কোথায় বসবেন, বৈঠক কতক্ষণ চলবে, কারা কী দায়িত্ব পালন করবেন তা চূড়ান্ত করা হয় ওই বৈঠকে। গুরুত্বপূর্ণ এ সভা যাতে সফলভাবে শেষ হয় সেজন্য সবার সহযোগিতা চান বিএনপি মহাসচিব।
বিএনপি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বৈঠককে কেন্দ্র করে শঙ্কায় রয়েছে দলটির নেতারা। শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে সভা করা যাবে কিনা-তা নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করছেন।
সভা করা নিয়ে বাধা বা সংকট আছে কিনা জানতে চাইলে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স সাংবাদিকদের বলেন, দলের হাইকমান্ড তিন দিনব্যাপী ধারাবাহিক সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমাদের সব প্রস্তুতি শেষ। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অসুস্থতার কারণে কয়েকজন আসতে পারবেন না। আশা করি সরকার আমাদের দলীয় সভা বানচালের চেষ্টা করবে না।স্থায়ী কমিটির গত কয়েকটি বৈঠকে সব নেতাই একমত হন, দেশে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হলে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজন।
 ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ও ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন প্রমাণ করে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় রেখে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। এই অবস্থায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে করণীয় ঠিক করতে হবে। সেজন্য দলের সবার মতামত নেওয়ার প্রয়োজন। সবার মতের ভিত্তিতে কর্মকৌশল চূড়ান্ত করলে তারাও উৎসাহ পাবেন।
প্রথমদিন দলের ভাইস প্রেসিডেন্টদের এই বৈঠকের এজেন্ডা প্রসঙ্গে দলের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে নেতারা মত দেবেন। তবে আমাদের মূল এজেন্ডা আন্দোলন। নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনের দাবি আদায় করাকেই আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ নির্বাচনকালীন সরকার নিরপেক্ষ না হলে আমরা ভোটের জন্য যতই প্রস্তুতি নিই তাতে লাভ হবে না। তাছাড়া নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ হলেও দলীয় সরকারের অধীনে ভোট হলে সেটা সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচন নয়-এটাই এখন আমাদের মূল দাবি। সেই দাবি সরকার আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করবে সেটা মনে করি না। এজন্য প্রয়োজন আন্দোলন। আমরা এখন সেই পথেই হাঁটছি। তিনি বলেন, সভায় আন্দোলন কৌশল ছাড়াও আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি, দল পুনর্গঠন, চেয়ারপারসনের মুক্তি, জোটের রাজনীতিসহ নানা বিষয়ে নেতাদের মত আসবে। হাইকমান্ড সবার মত গুরুত্বের সঙ্গে নেবেন বলে আশা করি।
দ্বিতীয়দিন কেন্দ্রীয় সচিব ও যুগ্ম-সচিবদের বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার। তিনি জানান, হাইকমান্ডের এই বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে বলে আমি আশাবাদী।  সুযোগ পেলে আমি বরিশালের রাজনৈতিক অবস্থা ও তৃনমূল নেতাদের দাবীও তুলে ধরবো।আন্দোলনকে বেগবান করতে  হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তই গুরুত্ব পাবে সবক্ষেত্রে।
তৃতীয় ও শেষদিনের বৈঠকে অংশ নেবেন জেলা ও বিভাগীয় নেতারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here