বাতিল হচ্ছে পাপুলের সংসদ সদস্য পদ, রায়ের কপি সরকার পেয়েছে

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ।  কুয়েতে সাজাপ্রাপ্ত লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মাদ শহীদুল ইসলাম পাপুলের চার বছরের সাজার রায়ের কপি জাতীয় সংসদে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে স্পিকার ভোরের কাগজকে জানান, সংবিধান অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে সংসদ ব্যবস্থা নেবে। সে ক্ষেত্রে সংবিধান ও জাতীয় সংসদের বিধি বা আইন অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য কোনো অপরাধের জন্য যদি দুই বছরের বেশি সাজাপ্রাপ্ত হন, তাহলে সংবিধান অনুযায়ী তার সদস্য পদ বাতিল হওয়ার বিধান রয়েছে। তাই কুয়েতের আদালতে পাপুলের চার বছরের সাজার জন্য তার সদস্যপদ বাতিল হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা বলে জাতীয় সংসদ সূত্রে জানা গেছে।
যদি পাপুলের সদস্যপদ বাতিল হয় তা হলে সেটা হবে জাতীয় সংসদের ইতিহাসে একটি নজির বিহীন ঘটনা। বাংলাদেশ সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ২ এর ঘ ধারায় বলা হয়েছে ‘কোনো সংসদ সদস্য নৈতিকস্খলন জনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া দুই বছর বা তার অধিককাল কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তবে তার সদস্যপদ বাতিল বলে গণ্য হবে।’
এ বিষয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী জানান, এ সংক্রান্ত চিঠি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ন থেকে বৃহস্পতিবার সংসদ সচিবালয়ে এসেছে। আজ শুক্রবার ছুটি হওয়ার এ নিয়ে আমি এখনো সিদ্ধান্ত নিইনি। তবে সংবিধান অনুযায়ী পাপুল যদি চার বছর সাজাপ্রাপ্ত হন তা হলে আপনারাই তো জানেন সংবিধান অনুযায়ী কোনো এমপির সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাওয়ার বিধান রয়েছে। তবে আমি এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেইনি, দু’একদিনের মধ্যে আপনারা সিদ্ধান্ত জানতে পারবেন।
এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, সংবিধান মোতাবেক কোনো এমপি যদি দু’বছরের ওপর সাজা প্রাপ্ত হন তাহলে তার সদস্য পদ বাতিল হওয়ার কথা বলা রয়েছে।
শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বলেন, ৬১ পাতার রায়ের কপি আমরা পেয়েছি। আমরা ইতোমধ্যে সেটি সংসদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। আমাদের দেশের মতো কুয়েতেও রায় আসতে অনেক দেরি হয়। এজন্য আমরা খুব পেরেশানিতে ছিলাম। রায়ের কপি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাকিটুকু তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।
এদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের মামলায় সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী এমপি সেলিনা ইসলাম ও মেয়ে ওয়াফা ইসলামকে বিচারিক আদালতের দেওয়া জামিন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছে দুদক।