বর্ণিল সাজে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস

রিপন আনসারী,মানিকগঞ্জ থেকে :

মানিকগঞ্জে স্কুলে স্কুলে শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়েছে । করোনার মহামারীতে ঘরবন্দি শিক্ষার্থীরা ৫৪৩ দিন পর স্কুলে যেতে পেরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস। জেলা শহর থেকে নিভৃত পল্লী অঞ্চলের সব গুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

সরজমিন মানিকগঞ্জের কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান গেইট থেকে শ্রেনী কক্ষ পর্যন্ত বিভিন্ন সাজে সাজানো হয়েছে। ঝলমলে ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন প্রায় সব গুলো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে।

মানিকগঞ্জ মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে দেখা গেছে, ঝলমলে এক পরিবেশ। ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ঘেঁষা জেলার বুকে সব চেয়ে সৌন্দর্য্য মন্ডিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। শিক্ষার্থীদের বরণ করতে গেল কয়েকদিন ধরেই পরিপাটি করা হয় পুরো ক্যাম্পাস। মুন্নু সিটিতে প্রতিষ্ঠিত মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান গেইট থেকে ভেতরে প্রবেশ করার বিশাল রাস্তাটি ওয়েলকাম লেখা সহ নানা রংঙের আল্পনায় সাজানো হয়েছে । নানা রঙের বেলুর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের শ্রেনী কক্ষে প্রবেশ করা পথ। মাঠে বেলুন দিয়ে বিশাল জায়গা জুড়ে ওয়েলকাম লেখা ডিসপ্লে করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশ মুখে শিক্ষার্থীদের থার্মাল দিয়ে তাপ মাত্রা মাপার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে প্রবেশ করার আগে স্থায়ী ভাবে বানানো হ্যান্ড ওয়াশ প্লেসে হাত ধুয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় সকলের মুখে মাস্ক বাধ্যতা মুলক করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভ্যর্থনা জানাতে রোববার সকালে স্কুলে ছুটে আসেন মুন্নু গ্রুপের চেয়ারম্যান ও মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্ণিং বডির চেয়ারম্যান আফরোজা খান রিতা। স্কুল পরিদর্শন করেছেন জেলা শিক্ষা অফিসার রেবেকা জাহান। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মনোমুগ্ধকর পরিবেশ দেখে খুশি শিক্ষা অফিসার।
মুন্নু ইান্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্ণেল অব. মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের বরণ করতে ওয়েলকাম ব্যানার,প্রধান গেইট থেকে একাডেমিক ভবন পর্যন্ত পুরো রাস্তায় আল্পনা,বেলুন দিয়ে পুরো ক্যাম্পাসটি সাজানো,একাডেমিক ভবনের সামনে সুসজ্জিত বেলুনের গেইটসহ নানা সাজে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসটি সাজানো হয়েছে। প্রথম দিন বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ উচ্ছ্বাস। সহ পাঠি ও শিক্ষাকদের পেয়ে ওরা অনেক খুশি হয়েছে।

অধ্যক্ষ বলেন, প্রথম দিনেই ৭৫ ভাগ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি আমরা পেয়েছি। প্রতিটি শ্রেনী কক্ষে প্রায় চার ফুট দুরুত্বে বেঞ্চ বসানো হয়েছে। সব মিলিয়ে সরকারের বিধি নিষেধ ও স্বাস্থ্য বিধি মেনেই আমরা আমাদের শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করছি। এছাড়া দেড় বছর পর যেহেতু বিদ্যালয় খুলেছে সেখানে প্রথম দিন আমরা লেখা পড়ার দিকে তেমন যাইনি। শিক্ষার্থীদের বিনোদন,গল্প,আনন্দ এবং বিভিন্ন অনুভুতি নিয়ে কথা বলেছি।
দীর্ঘ দেড় বছর পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আসতে পরার অনুভুতি জানতে চাইলে পঞ্চম শ্রেনীর শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস মীম জানান, অনেক দিন পর স্কুলে আসতে পেরে খুব ভাল লেগেছে। আমাদের আগমনে স্কুলটি অনেক সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। এটা দেখে আরো বেশী ভাল লাগছে। প্রতিদিন স্কুলে আসবো কি মজা হবে।

একই ক্লাসের শিক্ষার্থী রোশনি আক্তার রিতি জানান, স্কুল বন্ধ থাকায় মনটা খুব খারাপ যাচ্ছিল। ঘরে বন্দি থাকতে মোটেও ভাল লাগেনি। শুধু মাত্র অনলাইনে ক্লাস করেছি। স্কুলে আসতে পেরে খুব ভাল লাগছে। বন্ধুদের সাথে এবং স্যারদের সাথে অনেক দিন পর দেখা হলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here