সদ্য গঠিত বরিশাল সদর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছেন পদবঞ্চিত নেতারা। তাদের দাবি, বরিশাল সদর উপজেলা কমিটি বাতিল করতে হবে।

শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (বিআরইউ) সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানানো হয়।

অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এবং অগঠনতান্ত্রিকভাবে সদর উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে দুপুর ১টায় একই দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন পদবঞ্চিত নেতা ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা। মিছিল শেষে অশ্বিনী কুমার হলসংলগ্ন জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে তারা তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।

দুপুর ১২টায় বিআরইউতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং সদ্যঘোষিত সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির ১ নম্বর সদস্য জিয়াউল ইসলাম সাবু।

সংবাদ সম্মেলনে জিয়াউল ইসলাম সাবু বলেন, বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান নান্টু এবং সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আকতার হোসেন মেবুল কোনো রকম আলাপ-আলোচনা ছাড়াই সদর উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করেন। কমিটি বিলুপ্ত করার আগে সদর উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি কাজী এনায়েত হোসেন বাচ্চুর সঙ্গে কোনো আলোচনা করেননি। এমনকি বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনসহ অন্য নেতাদের অনুরোধ ও পরামর্শ উপেক্ষা করে সদর উপজেলার কমিটি বিলুপ্ত করেন। পরে কাজী এনায়েত হোসেন বাচ্চু দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মহাসচিব ও বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। লিখিত অভিযোগ পেয়ে আবদুল আউয়াল মিন্টু সাংগঠনিক টিমের পরামর্শক্রমে বরিশাল সদর উপজেলার কমিটি গঠনের লিখিত নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে গত বৃহস্পতিবার রাতে বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান নান্টু তার ফেসবুক আইডিতে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির ৩৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জিয়াউল ইসলাম সাবু অভিযোগ করেন, জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত বিতর্কিত নেতা নুরুল আমিনকে ঘোষিত সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক করা হয়েছে। এ ছাড়া সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম সেলিমও নানা কারণে বিতর্কিত। অভিযোগ করা হয়, নুরুল আমিনকে রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক করা হলে ওই ইউনিয়নের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ১৯২ নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছিলেন।

এ ছাড়া চরমোনাই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সালাম রাঢ়ীকে বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। অথচ বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সালাম রাঢ়ী ছিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নুরুল ইসলাম মাস্টারের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আগামী তিন দিনের মধ্যে কমিটি বাতিল করা না হলে লাগাতার কর্মসূচি দেওয়া হবে। ঘোষিত কমিটির নেতাদের শহরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী এনায়েত হোসেন বাচ্চু, সদ্য ঘোষিত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মন্টু খান, সদস্য মামুন-অর রশিদ, আনোয়ার হোসেন, আবদুল জব্বার সিকদার প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলন শেষে পদবঞ্চিত নেতারা তাদের কর্মী-সমর্থক নিয়ে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল শেষে জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।