বরিশালে কোস্ট গার্ডের ট্রলারে হামলা, লাঠিপেটায় অন্তঃস্বত্বা আহত

বরিশাল ব্যুরো প্রধানঃ
বরিশালের হিজলা উপজেলার দক্ষিণ বাউশিয়া গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীতে কোস্ট গার্ডের ট্রলারে ইটপাটকেল নিক্ষেপে দুইজন আহত হয়েছে। এতে  ক্ষিপ্ত হয়ে কোস্টগার্ডের সদস্যরা গ্রামের ভেতর ঢুকে নারী-পুরুষদের নির্বিচারে লাঠিপেটা করেছেন বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। লাঠিপেটায় ৯ মাসের অন্তসত্ত্বা নারী ফারজানা বেগম (২০) গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে দাবি স্বজনদের।
জানাগেছে, ইলিশরক্ষা অভিযানের সময় ১১ অক্টোবর সোমবার রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় অভিযানে থাকা কোস্টগার্ডের ট্যাগ কর্মকর্তা ও ট্রলারের মাঝি আহত হয়েছেন।
যদিও  কোস্টগার্ড সদস্যরা এখন পর্যন্ত  গ্রামবাশীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, ট্রলারে হামলাকারীরা নিজেদের রক্ষা করতে লাঠিপেটার মিথ্যা কথা প্রচার করছেন।
হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে দুপুরে কোস্ট গার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তরের দুটি আলাদা ট্রলার নিয়ে টহলে বের হয়। দক্ষিণ বাউশিয়া গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে পৌঁছালে কোস্টগার্ড সদস্যদের বহনকারী ট্রলারে ইটপাটকেল  ছোঁড়া শুরু হয়। নদীর তীর থেকে আকস্মিক ইটপাটকেল ও বাঁশের খন্ড নিক্ষেপ করেন অসাধু জেলেরা। এতে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও অভিযানের ট্যাগ কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম ও ট্রলার মাঝি মো. সোলায়মান আহত হন।
তিনি আরও বলেন, হামলার পর কোস্ট গার্ডের সদস্যরা আহত দুজনের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্থ ছিলেন। একটি মহল বিষয়টি ভিন্নখাতে নিতে কোস্ট গার্ড সদস্যদের বিরুদ্ধে লাঠিপেটার অভিযোগ করছেন।
তবে দক্ষিণ বাউশিয়া গ্রামের একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, নদীর তীরে জেলেদের সঙ্গে ঘটনার জের ধরে কোস্টগার্ড সদস্যরা গ্রামের কয়েকটি বাড়িতে গিয়ে নারী-পুরুষদের বেধড়ক লাঠিপেটা করেছেন। এতে অন্তসত্ত্বা নারী ফারজানা বেগম, বাচ্চু ঘরামি, মাহবুব বাঘাসহ অনেকে আঘাত প্রাপ্ত হয়েছেন।
অন্তসত্ত্বা গৃহবধূ ফারজানা বেগম জানান, স্বামীর বাড়ি মুলাদী থেকে তিনি ঐ দিন বিকেলে হিজলার বাউশিয়া গ্রামে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন। সন্ধ্যার দিকে তার বাবা জলিল ব্যাপারীকে কয়েকজন কোস্ট গার্ড সদস্য খুঁজতে থাকেন। এ সময় কোস্ট গার্ডের সদস্যরা ঘরের মধ্যে ঢুকে লাঠি দিয়ে তাকে একাধিক আঘাত করলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্বজনরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হিজলার বড়জালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বর) ও বাউশিয়া গ্রামের বাসিন্দা ঝন্টু হাওলাদার বলেন, ঘটনার সময় আমি হিজলা বন্দরে ছিলাম। ঘটনার পর কোস্ট গার্ডের সদস্যরা মোবাইল ফোনে কল দিয়ে আমাকে ঘটনাস্থলে ডেকে নেন। তারা চলে গেলে গ্রামবাসী তাদের উপর লাঠিপেটা করার অভিযোগ করে।
লাঠিপেটা অভিযোগ অস্বীকার করে হিজলা কোস্টগার্ডের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার হামিদুল হক বলেন, কোস্ট গার্ডের ট্রলারটি বাউশিয়া ঘাটে নোঙ্গর করার সময় তীর থেকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। আত্মরক্ষায় কোস্টগার্ড সদস্যরা ট্রলারের ছাউনির নিচে আশ্রয় নেয়। হামলায় ট্যাগ কর্মকর্তা ও ট্রলার মাঝি আহত হয়। গ্রামবাসীকে লাঠিপেটা করার অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
এ ব্যাপারে হিজলা থানার ওসি ইউনুস মিয়া বলেন, কোস্টগার্ডের ট্রলারে হামলার খবর শুনেছেন। গ্রামাবাসীকে লাঠিপেটার কোনো ঘটনা তার জানা নেই। এ ঘটনায় কারো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here