বন্ধ নয় আলজাজিরা, বরং রিপোর্ট সরিয়ে নেয়ার জন্য চিঠি দেয়া হচ্ছে

বিশেষ রিপোর্ট, ঢাকা ।আদালত আল জাজিরায় প্রচারিত ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন’ এর সব ধরনের লিংক বন্ধ করার নির্দেশ দিলেও তা করা হচ্ছে না। কারণ এটি করার চেষ্টা করলে ইউটিউবসহ অন্য সব ধরনের লিংক বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই আল জাজিরাকেই লিংক বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি)। ডয়েচে ভ্যালের রিপোর্টে এমন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
এক রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট গতকাল বুধবার ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স মেন’ ফেসবুক, টুইটার ও ইউটিউবসহ সব ধরনের প্লাটফর্ম থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়। কিন্তু এই নির্দেশ বাংলাদেশ থেকে কার্যকর সম্ভব নয় বলে ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার। তার মতে, ‘‘এটা এখান থেকে করা অসম্ভব৷ করলে বিপর্যয় হবে।’’
তিনি বলেন, ‘‘আমরা এখান থেকে লিংক বন্ধ করতে পারি। সেই প্রযুক্তি আমাদের কাছে আছে৷ কিন্তু এটা করতে গেলে সব ধরনের লিংকই বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। অতীতে ফেসবুকের একটি লিংক বন্ধ করতে গিয়ে এই অভিজ্ঞতা আমাদের হয়েছে। তাই আমরা বুধবার রাতেই আল জাজিরাকে তাদের দিক থেকে লিংক বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছি।’’
মেইলে পাঠানো এই অনুরোধের জবাব বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিটিআরসি পায়নি৷ জবাব পেতে সময় লাগবে বলে বিটিআরসির চেয়ারম্যান জানান। তিনি বলেন, ‘‘তারাও তো একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’’
তিনি জানান, হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছেন তার সার্টিফায়েড কপি পাওয়া গেছে৷ তারা ফেসবুক, টুইটার ও ইউটিউবসহ সব ধরনের প্লাটফর্ম থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন।
তার মতে, আর বাংলাদেশ থেকে বন্ধ করা হলেও তো সারাবিশ্বের মানুষ দেখতে পাবেন। তাতে তো কোনো লাভ হবে না। তাই এটা আল জাজিরার মাধ্যমেই বন্ধ করতে হবে৷ বিষয়টি সরকারও জানে। আর হাইকোর্টকেও পুরো পদ্ধতি জানানো হবে বলে তিনি জানান।
এ প্রসঙ্গে তথ্য প্রযুক্তিবিদ তানভির হাসান জোহা বলেন, ‘‘গেটওয়ে থেকে বন্ধ করে দিলে পুরো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমই বাংলাদেশে সংকটে পড়বে। আর সিঙ্গেল লিংক বন্ধ করতে হলে হাজার হাজার লিংক বন্ধ করতে হবে। কারণ বহু মানুষ বিভিন্ন মাধ্যমে শেয়ার করেছেন। সেইসব লিংক আলাদা আলাদাভাবে বন্ধ করা একটা অসম্ভব কাজ।
আর ওয়েবে বন্ধ করা হলেও যারা বাংলাদেশে অ্যাপ ব্যবহার করেন তারা ঠিকই দেখতে পাবেন। আল জাজিরা ইউটিউবসহ যেসব মাধ্যমে প্রথম শেয়ার করেছে তা সরালে বন্ধ হবে। কিন্তু বহু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তো ডাউনলোড করে স্বতন্ত্রভাবে আপ করেছে৷ তা বন্ধ হবে কীভাবে?’’
এদিকে বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মনিটরিং করার জন্য বিটিআরসিকে দায়িত্ব দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদের আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকের পর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘‘আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে চাই না৷ কিন্তু আইনের আওতায় থাকা দরকার৷ অবাধ তথ্য প্রবাহের কারণে জাতীয়ভাবে সমাজ বিভ্রান্তিতে পড়ে৷ মানবতাবিরোধী, সমাজবিরোধী বক্তব্য নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।’’
কিন্তু বিটিআরসির চেয়ারম্যন জানান, তারা নিয়ন্ত্রণ এবং মনিটরিং-এর দুটি কাজই করেন৷ নতুন করে দায়িত্ব দেয়ার কথা কেন তারা বলছেন তা তারাই বলতে পারেন।
বাংলাদেশে এর বাইরে ন্যাশনাল টেলিকম্যুনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) বিশেষভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মনিটরিং-এর কাজ করে, এর সঙ্গে আছে পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট৷ তারপরও কেন মনিটরিং-এর প্রশ্ন উঠছে? তানভীর জোহা মনে করেন, ‘‘আল জাজিরার ঘটনার পর এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। আর সেখান থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের চাপে রাখতে বা ভয় দেখাতে এটা বলা হচ্ছে৷ আর আমি যতদূর জানি অনেক যন্ত্রপাতি কেনা হলেও সেগুলো কাজে আসছে না।’’
বিটিআরসির চেয়ারম্যান জানান, সরকারের অনেক সংস্থা এটা মনিটরিং করে। তাদের কাছ থেকে তারা নিয়মিত বিভিন্ন ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ পান।
বাংলাদেশ থেকে ফেসবুকের কাছেও তথ্য চাওয়া হয়। ২০২০ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ ফেসবুকের কাছে ৩৭১ টি অ্যাকাউন্টের তথ্য চেয়েছে। শতকরা ৪৪ ভাগ ক্ষেত্রে ফেসবুক সাড়া দিয়েছে।