ফলোআপ। গভীর সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ ভোলার ৮ জেলে। উদ্বার ৩ জেলে।

ভোলা জেলা সংবাদদাতা।

গভীর সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ভোলা সদর উপজেলায় ভেলুমিয়া এলাকার ১১ জন  জেলে ও মাছ ধরার সরঞ্জাম নিয়ে ঝড়ের কবলে পরে  মাছ  ধারার ট্রলারটি ডুবে যায়। ঝড়ের কবলে পড়া ট্রলার থেকে  বুধবার ৩ জেলে জীবিত উদ্ধার হলেও আজ পর্যন্ত  নিখোঁজ রয়েছেন ট্রলার মালিক নিরবসহ ৮ জেলে। তাদের স্বজনদের কান্নায় ঐ এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনও কোন তৎপরতা দেখা যায় নাই কোস্ট গার্ড ও নৌ-বাহিনীর। সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোড় রাতে বঙ্গোপসাগরের মহিপুরা পয়েন্টে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ঝড়ের কবলে পড়া ট্রলার থেকে জীবিত ফিড়ে আশা সিরাজ মিয়া মাঝি।

জীবত উদ্ধার সিরাজ মিয়া জানান, রবিবার ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে ভোলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নে তাদের বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে সাগরে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে চরফ্যাশনের সামরাজ মাছ ঘাটের উদ্দেশ্যে সড়ক পথে যাত্রা শুরু করে বিকালে পৌচ্ছায়। সেখান আগে থেকে রাখা ভেলুমিয়া ইউনিয়নের নিরব মাঝির ট্রলারে করে সন্ধ্যায় মাছ শিকারের উদ্দেশ্য বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মাছ শিকার শুরু করেন। মাছ ধরার ঝাল অর্ধেক তোলার পরে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে তাদের ট্রলার উল্টে যায়। এ সময় তারা সবাই ট্রলারের ভিতরে কেবিনে অবস্থান করছিলেন।
এক পর্যায়ে সেখান থেকে (সিরাজ মাঝি), জাহাঙ্গীর হাওলাদার ও মজিদ মাঝি জীবিত বের হয়। ২ দিন ধরে ট্রলারে থাকা রশি মাধ্যমে নিজের বেধে রেখে কোন রকম প্রান বাচাঁই। পরে  ট্রলারে থাকে প্রুট (প্যাস্টিক) এর সাহায্য ভাসতে থাকেন। এক পর্যায়ে সাগরের এক প্রান্তে পৌচ্ছালে অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার আমাদের উদ্ধার করে চরফ্যাশনের সামরাজ ঘাটে নামিয়ে দেয়। এবং বাকি ৮ জেলে কোথায় আছে কিভাবে আছে তাদের কোন খোজঁ পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

ঝড়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ ৮ জেলেরা হলেন, ভেলুমিয়া ১নং ওয়ার্ডের কুনঞ্জপট্রি এলাকার ট্রলার মালিক নিরব (৪৫) তার ছেলে রুবেল (২৫), একই এলাকার দেলোয়ার চৌকিদার (৬৮), সিরাজ (৫০), ইউসুফ (৪৭), শহীদ (৫৫) রফিকুল ইসালম (৬০), বজলুর রহমান (৭৫)। এছাড়াও সিরাজ কারিগর, জাহাঙ্গীর হাওলাদার ও মজিদ মাঝি জীবিত ফিরে আসেন। এরা সবাই ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের কুঞ্জপট্রি এলাকার বাসিন্দা। তারা সবাই স্থানীয় নিরব মাঝি ট্রলারে করে মাছ ধরতে যায় সাগরে। চরফ্যাশন এর সামরাজ মাছ ঘাটের নয়ন মাঝির আরদে মাছ বিক্রি করতেন।

এদিকে ট্রলার ডুবির ঘটনার পরে পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজ নেওয়া হলেও মাছের আড়ৎদার নয়ন তাদের কোন সহায়তা করেননি। ট্রলার ডুবির ঘটনা চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে অন্যান্য জেলেদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পরে।

নিখোঁজ জেলে দেলোয়ার এর ছেলে রুবেল জানান, ট্রলার নিয়ে আমরা সাগরে গেছিলাম। কিন্তুু কোন খোজঁ পাইনি। শুনছি ট্রলার আছে তবে ভিতরে কারো লাশ নেই। আমরা এখন আমার বাবাকে যেকোন মূল্যে ফিরোত চাই।
ট্রলার মালিক নিরব এর মা মানছুরা বলেন, কৃষি ব্যাংক থেকে লোন করে ১৬ লাখ টাকা দিয়া বোট করে সাগরে গেছে মাছ ধরে দোন শোধ করবো আশা কইরা। এখন আমার ছেলে গেছে, নাতী গেছে, বোট গেছে। এখন আমার সব শেষ।কে আমার সংসার চালাইবো। কে আমোগোরে খাওয়াইবো। এক লগে আমার দুইটা পরিবার বিধবা হইয়া গেলে নাতীরা এতিম হইয়া গেলো। এখন দুজনের লাশ পাইলে ঘরের দুয়ারে মাটি দিতে পারতাম।
নিখোঁজ সিরাজ ব্যাপারীর স্ত্রী জান্নাত বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন,শনিবার বিকালে আমার স্বামীর সাথে তার ছোট মেয়ের সর্বশেষ কথা হয়। তারপর আর কোন কথা হয় নাই। এখন আমার ছোট ছোট ২টা ছেলে-মেয়ে এতিম হয়ে গেছে। এখন ওদের কে দেখবো।

নিখোঁজ জেলের তথ্য নিশ্চিত করে ভেলুমিয়া ইউনিয়ন এর প্যানেল চেয়ারম্যান মহসিন খা বলেন, ভেদুরিয়া ইউনিয়ন থেকে ১১জন জেলে সাগরে মাছ শিকার গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে। সেখান থেকে তিন জেলে জীবিত ফেরত  আসেন এবং বাকি ১১জেলে এখনো নিখোঁজ আছেন। এ সময় তিনি নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধার করার দাবি জানান।

এদিকে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোন অপারেশন কর্মকর্তা লেঃ সাফকাত জানান, আমরা বঙ্গোপসাগরে ৮ জেলে নিখোঁজের খবর পেয়েছি। আমারা খোঁজখবর নিচ্ছি। নিখোঁজদের পরিবারের সাথে কথা বলে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে ভোলা জেলা প্রশাসক মো: তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী জানান, আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। নিখোঁজ  জেলেদের উদ্ধারের জন্য কোস্ট গার্ডকে জানানো হয়েছে। তারা উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, ঝড়ের কবলে পড়া নিখোঁজ ও জীবিত ফিরে আশা জেলে পরিবারের কে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here