প্রাথমিকভাবে ৩০লাখ শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হবে

রিপন আনসারী,মানিকগঞ্জ থেকে

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার চারটি স্কুলের ১২ থেকে ১৭ বয়সী ১২০ জনকে টিকা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিজ জেলা মানিকগঞ্জ থেকেই শুরু হয়েছে। বেলা সাড়ে বারোটার দিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক মানিকগঞ্জে কর্ণেল মালেক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এই কর্মসূচির শুভ সুচনা করেন।

টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধনের পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আজ আমাদের জন্য একটি আনন্দের দিন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন ছিলো বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে টিকা দেয়া। তারপর আরেকটি স্বপ্ন ছিলো শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া । সেই স্বপ্ন পুরন হতে চলেছে। আমাদের হাতে ৬০ লাখ টিকা আছে যার মধ্যে আমরা প্রাথমিক ভাবে ৩০ লাখ শিক্ষার্থীদের টিকা দিবো।

শিক্ষার্থীদের যে টিকা দেয়া হচ্ছে সেটা ফাইজার টিকা। আমেরিকার তৈরি নিরাপদ এই টিকা শিক্ষার্থীদের দেওয়া হচ্ছে। খোদ আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। এই টিকা খুবই নিরাপদ। আগামীতে শিক্ষার্থীদের এক কোটি টিকা দিতে পারবো।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, এই টিকা দান কর্মৃসূচি পরবর্তীতে দেশের ২১টি স্থানে শিশুদের টিকা প্রদান করা হবে। রাজধানীতে বিশাল আয়োজনের মাধ্যমে টিকাদান কর্র্মসূচি শুরু করা হবে। করোনা ভাইরাস থেকে শিশুদের নিরাপদ রাখতেই এই টিকার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দেশে ইতিমধ্যে ৫কোটি মানুষকে করোনা ভাইরামের টিকা দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের মধ্যে দেশের ৫০ ভাগ মানুষকে করোনার টিকা দেওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এছাড়া সময় মতো টিকা পেলে আগামী এপ্রিলের মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মানুষকে টিকা দেওয়ার সম্ভনার কথাও মন্ত্রী বলেছেন।
তিনি আরো বলেছেন, দেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। এখন সংক্রামনের হার ২.৪। মৃত্যুর সংখ্যাও অনেক কম।

মানিকগঞ্জ জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, প্রথম পর্যায়ে শহরের দুটি স্কুলের ৫০ জন করে ১০০ জন শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও পরে বিশেষ বিবেচনায় মন্ত্রীর নামে স্থাপিত গড়পাড়া জাহিদ মালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ জন ও সদর উপজেলার আটিগ্রামের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় ১০ জনকে টিকা দেওয়া হচ্ছে।

টিকা নেয়ার সময় দোয়া ইউনুস পড়ি এবং ভয়ে চোখ বন্ধ করি


ঘড়ির কাটায় তখন বেলা ১টা বেজে ২০ মিনিট। মানিকগঞ্জ শহরের প্রানকেন্দ্রে স্থাপিত এস কে সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী মিথিলা আক্তার তার মাকে আসেন কর্নেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমন রোধে সে টিকা নেবেন। টিকা নিতে এসে কেমন লাগছে,জানতে চাইলে তার চোখে মুখে এক ধরনের ভয়ের ছাপ লক্ষ্য করা যায়। বলেন,এখানে আসার পর থেকেই খুব ভয় পেয়েছিলাম। দুই জন নার্স যখন সুই নিয়ে আমার ডান হাতে পুশ করছিল তখন মনে মনে দোয়া ইউনুস পড়ি এবং ভয়ে চোখ বন্ধ করে দেই। মনে হচ্ছিল কিনা কি হবে। তবে টিকা পুশ করার পর পিঁপরার মতো একটু কামড় দিয়েছে। টিকা নেয়ার পর সব আতংক কেটে গেছে এখন ভাল লাগছে।

মানিকগঞ্জ সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেনীর শিক্ষার্থী ফয়সাল হোসেন জানালেন, আমাদের স্কুলের ৫০ জন শিক্ষার্থী এক সাথে এসে টিকা নিতে পারায় খুব ভাল লেগেছে। প্রথমে আমরা সবাই একটু ভয়ে ছিলাম। তবে সহপাঠিরা এক সাথে থাকায় ভেতরে সাহস ছিল। মানিকগঞ্জ থেকে আমরাই শিক্ষার্থী হিসেবে প্রথম করোনার টিকা নিতে পেরে সৌভাগ্যবান।

প্রথম সৌভাগ্যবান টিকা গ্রহনকারী শিক্ষার্থী মানিকগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেনীর ছাত্র মোবাশ্বির রহমান রাফি জানালেন, আমার নাম ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে। কারন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি প্রথম টিকা নিয়েছি। মিথিলা,ফয়সাল ও রাফির মতো ১২০ জন শিক্ষার্থী টিকা নিতে পেরে বেশ আনন্দ পেয়েছেন।

তবে টিকা পরবর্তী কোন ধরনের প¦ার্শপ্রতিক্রিয়া হবে কিনা এ নিয়ে কিছুটা সংকিত অভিভাবকরা। অভিভাবকরা জানিয়েছেন, করোনার কারনে দীর্ঘ দিন স্কুল বন্ধ ছিল। যখন স্কুল খোলা হয়েছে তখন সন্তানদের নিয়ে একটু ভয় পেয়েছি। আজ আমার মেয়েকে টিকা দিতে পেরে সেই ভয়টা কিছু কেটে গেলো। তবে টিকা পরবর্তী কমপক্ষে ১০-১৫ দিন অপেক্ষায় থাকতে হবে কোন ধরনের প¦ার্শপ্রতিক্রিয়া হয় কিনা। এটা নিয়েও কিছুটা চিন্তিত আছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here