প্রতিবাদ ঠেকাতে ইন্টারনেট ইন্টাস্ট্রাগ্রাম ‘বন্ধ’ মিয়ানমারে

দ্য লন্ডন টাইমস ডিজিটাল ।সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে উত্তাল হয়ে উঠেছে মিয়ানমার। সেনা শাসনের বিরুদ্ধে দেশটির অন্যতম বড় শহর ইয়াংগুনে দিনভর বিক্ষোভ করেছেন হাজারও মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে ফেসবুক-টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো মিয়ানমারের সামরিক সরকার বন্ধ করেছিল আগেই। এবারে দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় বন্ধই করে দেওয়া হয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগ পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস ইন্টারনেট অবজারভেটরি জানিয়েছে, দেশটিতে অনলাইন উপস্থিতি নেমে এসেছে ১৬ শতাংশের ঘরে।
বিবিসির খবরে বলা হয়, মিয়ানমারের জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে এখনো ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধের কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্যও করতে রাজি হয়নি। তবে গত ১ ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে সাময়িকভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
সেনা অভ্যুত্থানের চার দিন পর গতকাল শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুক বন্ধ করে দেওয়া হয় মিয়ানমারে। এরপর আজ শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বন্ধ করে দেওয়া হয় টুইটার ও ইনস্টাগ্রাম। অনলাইন এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সেনা সরকারের বিরোধীদের বিক্ষোভ দানা বাঁধতে পারে— এমন আশঙ্কা থেকেই এসব সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।
তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় খুব একটা লাভ হয়নি। মিয়ানমারে অনেকেই ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহার করে ফেসবুক-টুইটারে প্রবেশ করছিলেন। শেষ পর্যন্ত অনলাইনে সামরিক শাসনবিরোধী তৎপরতা ঠেকাতে ইন্টারনেট সংযোগই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সুশীল সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ পরিস্থিতিকে ন্যাক্কারজনক বলে মন্তব্য করছে। তারা মিয়ানমারের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল অপারেটরগুলোর প্রতি ‘ব্ল্যাকআউটে’র নির্দেশের বিরোধিতা করার আহ্বান জানিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট বন্ধের এই পদক্ষেপকে ‘জঘন্য ও বেপরোয়া’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
এদিকে, সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে শনিবার দিনভর মুখর ছিল মিয়ানমারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর ইয়াংগুনের রাজপথ। শহরটির প্রবেশপথে কয়েক হাজার মানুষ সমবেত হয়ে সেনা শাসনকদের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে বলেছেন— ‘সামরিক স্বৈরশাসক নিপাত যাক, গণতন্ত্রের জয় হোক।’ তবে শহরটির পথে পথে দাঙ্গা পুলিশের উপস্থিতিও ছিল।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, অভ্যুত্থানের পর এটিই মিয়ানমারে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়াসহ বিভিন্ন তৎপরতা চালিয়েও সেনাবাহিনী এই প্রতিবাদ দমন করতে পারেনি।
এর আগে, গত ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দেশটির ক্ষমতা দখল করে নেয়। রাজধানী নেপিডো ও প্রধান শহর ইয়াংগুনের রাস্তার দখল নেয় সামরিক বাহিনী। ওই দিন রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চিসহ ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের আটক করা হয়। দেশজুড়ে একবছরের জরুরি অবস্থাও ঘোষণা করা হয়।
এরপর থেকেই সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে সু চি’র সমর্থকরা অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। দেশটির বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে রাস্তায় নেমেছেন। গণতন্ত্রের পক্ষে বিভিন্ন ধরনের আন্দোলন-কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
এদিকে, অং সান সু চি’র নামে বেশ কয়েকটি মামলা করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন দেশটির আদালত। সু চি’র দল এনএলডি’র একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, আমদানি-রফতানি আইন ছাড়াও বেআইনি যোগাযোগ যন্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে সু চি’র বিরুদ্ধে।