জীবন পাল।। মিতুর পরিবার কিন্তু মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করেই বিয়েটা দিয়েছিলেন। বর্তমানে আমাদের সমাজের অধিকাংশ পরিবার এটাই চিন্তা করে যে, ছেলের ভাল অবস্থান আর আর্থিক অবস্থা ভাল মানে মেয়ে সুখী। আমার আপনার সকলের পরিবারের অভিভাবকদের চিন্তাগুলো কিন্তু এরকমই।
ছেলের মনমানসিকতা কেমন, মানসিকভাবে মেয়েটা ছেলেটার কাছে কতটা সুখী থাকবে, ভাল অবস্থানে থাকা ছেলেটা আসলেই নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়েটাকে বিয়ে করে ভাল রাখবে কিনা, মেয়েটাকে মূল্যায়ন বা গুরুত্ব দিবে কিনা এগুলো খুব একটা যাচাই-বাছাই করতে দেখা যায় না। শুধু ছেলের ভাল অবস্থান আর আর্থিক অবস্থা ভাল হলেই ‘সাতখুন মাপ’।
এতে করে দেখা যায়, ওই ছেলে তার অবস্থানের জায়গা থেকে নিজস্ব পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে পরবর্তীতে ঘরের বউ রেখে বাইরের জগতের সাথে তাল মিলিয়ে খাপ খাইয়ে নিতে পারা অন্য মেয়ের সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। যদিও এটা অপরাধ। কিন্তু ভাল অবস্থানধারী ছেলেটার কাছে তখন সেটা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় না। তার কাছে মনে হতে থাকে তার নিজস্ব জগতের সাথে তাল মেলাতে সে যা করছে সেটা সঠিক। এতে করে ভাল অবস্থান আর আর্থিক অবস্থার মোহে পড়ে বিয়ে দেওয়া নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েটা অবহেলার শিকার হতে থাকে। যে সুখের আশায় পরিবারের মতে মেয়েটা বিয়েতে মত দিয়েছিল, দেখা যায় সময়ের সাথে সাথে সে সুখটা চাপা কষ্টে রুপ নিতে থাকে। মেয়েটা ধীরে ধীরে তার অর্থসুখের মোহ কাটিয়ে উঠতে থাকে। বুঝতে পারে যে সে আসলে ভুল করেছে। ভাল অবস্থান কিংবা আর্থিক অবস্থা ভাল থাকার মধ্যেই সুখ খুঁজে নেওয়াটা বোকামি। যেখানে মানসিক শান্তি নেই সেখানে অর্থ দিয়ে কি হবে।
মেয়েরা তখন বাধ্য হয়ে সব কষ্টগুলো মনের মধ্যে পুষে রাখার চেষ্টা করে। সকলের সামনে ভাল থাকার অভিনয় করে। পরিবারের মানুষদের কখনও বুঝতে দেয়না যে সে সুখে নেয়। শান্তিতে নেয়।
সে যে সুখের মোহে পড়েছিল সেই সুখ যে আসলে প্রকৃত সুখ নয় সেটা মেয়েটা উপলব্ধি করতে পারলেও তার উপলব্ধিটা বুঝতে পারার মত তখন কাউকে সে খুঁজে পায়না। সেই চাপা কষ্ট নিয়ে কেউ কেউ প্রচুর ধৈর্য্যশীল নারীর পরিচয় দিচ্ছেন। কারো ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় অনেকভাবে ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। কাউকে আবার এই মিতুর মত বিসর্জন দিতে হচ্ছে নিজের পুরো জীবনটাকে।
ভাবতে কষ্ট হয়, বিদেশি এনজিও সংস্থার নারী কর্মীর সঙ্গে বাবুলের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে—এমন বিষয় মিতু জানার পর দুজনের সম্পর্কে অবনতি হয়। এরপরই তিন লাখ টাকায় ভাড়াটে খুনি দিয়ে বাবুল তাঁর স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে খুন করান।
পরকীয়া নিয়ে দাম্পত্য কলহের জেরে সাবেক এসপি বাবুল আক্তার নিজের স্ত্রীকে হত্যার মতো জঘন্য সিদ্ধান্ত নেন। পিবিআইর তদন্তে মিতু হত্যার রহস্য এভাবে উদ্ঘাটন হয়।
সারকথা ঃ আসুন, উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়, অল্পতে খুশি থাকার মনমানসিকতা তৈরি করি। একাধিক মানুষকে কাছে না টেনে একটা মানুষকেই সারাজীবনের জন্য আপন করে নিয়ে তার মধ্যেই সকল সুখ,শান্তি খুঁজে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করি। যাতে করে ক্ষনিকের সুখের আশায় নিজের জীবনটাকে হারাতে না হয়। সেই ভাবসম্প্রসারনের কথা মনে করে মনে মনে ভাবতে হবে যে, ‘ভোগে নয় ত্যাগেই প্রকৃত সুখ।’
লেখকঃ সাংবাদিক