ডনাল্ড ট্রাম্পের ফ্লোরিডার বাড়ি মার-আ-লগোতে হানা দিয়ে এফবিআইয়ের কর্মকর্তারা পরমাণু অস্ত্র সংশ্লিষ্ট নথিপত্র খুঁজেছেন বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

তবে সাবেক প্রেসিডেন্টের বাড়ি থেকে শেষ পর্যন্ত এ ধরনের কোনো নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে কিনা, তা জানাতে পারেনি তারা।

এফবিআই কর্মকর্তারা পাম বিচের ওই রিসোর্টে পরমাণু অস্ত্র সংশ্লিষ্ট নথিপত্র খুঁজতেই গিয়েছিল, ওয়াশিংটন পোস্টের বৃহস্পতিবারের এমন প্রতিবেদনের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যায়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার মার-আ-লগোতে এফবিআইয়ের তল্লাশি যে পরোয়ানার ভিত্তিতে হয়েছিল, তা প্রকাশের অনুমতি চেয়ে এক বিচারকের কাছে আবেদন জানিয়েছে।

রিপাবলিকান ট্রাম্প তার বাড়িতে এফবিআইয়ের হানাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিশোধ’ হিসেবে চিত্রায়িত করার পর আইন মন্ত্রণালয় এ পদক্ষেপ নিল।

বিচারকের কাছে পরোয়ানা প্রকাশে আবেদনের অর্থ হল, সাবেক প্রেসিডেন্টের বাড়িতে হওয়া নজিরবিহীন তল্লাশিতে তদন্ত কর্মকর্তারা কী খুঁজছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ শিগগিরই সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে পারবে।

গত বছরের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ছাড়ার সময় ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে অবৈধভাবে নথিপত্র সরিয়েছিলেন কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তার বিরুদ্ধে যে তদন্ত চলছে তার অংশ হিসেবেই মার-আ- লগোতে ওই তল্লাশি হয়েছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের ধারণা, ট্রাম্প যেসব সরিয়েছেন, তার মধ্যে ‘অতি গোপনীয়’ কিছু নথিপত্রও আছে।

ট্রাম্পের উত্তরসূরী ডেমোক্র্যাট জো বাইডেনের নিয়োগ দেওয়া অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ড এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্টের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে তিনিই অনুমতি দিয়েছিলেন।

ওই বাড়ি থেকে যেসব জব্দ করা হয়েছে, তার সংশোধিত রসিদ জনসমক্ষে প্রকাশে অনুমতি চেয়েও আবেদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয়।

তল্লাশির কারণ ও এই সংক্রান্ত বিষয়গুলো জনসমক্ষে নিয়ে আসতে অ্যাটর্নি জেনারেলের সিদ্ধান্তকে ‘খুবই অস্বাভাবিক’ বলছে রয়টার্স।

জনগণের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে মার্কিন আইন কর্মকর্তারা সাধারণত চলমান তদন্ত নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেন না। ট্রাম্প অবশ্য নিজেই সোমবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তার বাড়িতে তল্লাশির খবরটি জানিয়ে দিয়েছিলেন।

তল্লাশি চালিয়ে এফবিআই ওই বাড়ি থেকে ১০টি বাক্স জব্দ করেছে বলে বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।

মার-আ-লগোতে তল্লাশির সময় ট্রাম্প ফ্লোরিডায় ছিলেন না।

তার আইনজীবীরা এখন বিচারকের কাছে পরোয়ানা প্রকাশে আইন মন্ত্রণালয়ের আবেদনের বিরোধীতা করবেন কিনা, তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি।

ট্রাম্পের অ্যাটর্নির আপত্তির বিষয়টি আদালতকে জানাতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের হাতে শুক্রবার মার্কিন পূর্বাঞ্চলীয় সময় বিকাল ৩টা পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা) সময় আছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

পরোয়ানা প্রকাশে অনুমতি চাইলেও ‘অতি গোপনীয়’ তথ্য থেকে যেতে পারে এই আশংকায় তল্লাশি চালানার যৌক্তিকতা সম্বলিত এফিডেভিটটি প্রকাশে আবেদন করেনি মার্কিন আইন মন্ত্রণালয়।

এসব বিষয়ে ট্রাম্পের দুই অ্যাটর্নি ইভান কোরকোরান ও জন রাউলির মন্তব্য পাওয়া হলেও তাদের দিক থেকে সাড়া মেলেনি।

তবে নিজের ট্রুথ সোশাল নেটওয়ার্কে ট্রাম্প লিখেছেন, “আমার অ্যাটর্নি আর প্রতিনিধিরা সব ধরনের সহযোগিতা করিছিল, ভালো সম্পর্কও প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সরকার যা চাইতো, সবই পেতে পারতো, যদি তা আমাদের কাছে থাকে।”