পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে সীমান্ত দিয়ে “কোনো মানুষ দূরে থাক- একটা পাখিও ঢুকতে পারবে না।”

ফেব্রুয়ারি ১২,২০২১। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে সীমান্ত দিয়ে “কোনো মানুষ দূরে থাক- একটা পাখিও ঢুকতে পারবে না।” এমনটাই মন্তব্য করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার কোচবিহার ও ঠাকুরনগরে রাজনৈতিক সফরে ২টি জনসভায় থেকে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার এ বক্তব্যকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের জনগণকে উস্কে দেওয়ার প্রচেষ্টা বলেও মনে করছেন তৃণমূল নেতারা।
এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশিদের অনুপ্রববেশের অভিযোগ ভিত্তিহীন ও অসম্পূর্ণ বলে দাবি করেছে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরাও মনে করছেন কথিত অনুপ্রবেশ ইস্যুর আড়ালে বিজেপি আসলে সাম্প্রদায়িক এজেন্ডাকেই সামনে আনতে চাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশ থেকে কথিত অনুপ্রবেশের ইস্যু নির্বাচনে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে তারা ব্যবহার করতে চাইছে তা এ দুটি সমাবেশ থেকেই স্পষ্ট।
জনসভায় অমিত শাহ জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, “অনুপ্রবেশ নিয়ে আপনারা বিরক্ত কি না বলুন? আর মমতা ব্যানার্জি কি আদৌ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পারবেন? জেনে রাখুন, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন হলে তবেই কেবল অনুপ্রবেশ বন্ধ হবে। বিজেপি সরকার গড়লে সীমান্ত দিয়ে মানুষ তো দূরে থাক – একটা পাখিও ঢুকতে পারবে না দেখে নেবেন!”
কোচবিহার বা ঠাকুরনগরে অমিত শাহ যখন একথা বলছেন, ঠিক তার আগের দিনই তার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পার্লামেন্টে লিখিত জবাবে জানানো হয়েছে, ২০১৬ সালের তুলনায় পরের পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশের ঘটনা ক্রমশ বিপুল হারে কমেছে।
তৃণমূলের যে এমপি মানসরঞ্জন ভুঁইঞার প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই উত্তর দিয়েছে, তিনি বিবিসি বাংলাকে বলে অমিত শাহের এই বক্তব্য পুরোটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
কলকাতায় প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার সাবেক সাংবাদিক শিখা মুখার্জি মনে করছেন, এই অনুপ্রবেশের ইস্যু উস্কে দেওয়ার পেছনে বিজেপির সাম্প্রদায়িক তাস খেলার চেষ্টাই আসলে কাজ করছে। অনুপ্রবেশের ভয় দেখিয়ে বিজেপি আসলে এটাই বলতে চায়, বাংলাদেশ থেকে দলে দলে মুসলিমরা এসে পশ্চিমবঙ্গে কোনো এক প্রক্রিয়ায় হিন্দুদের সংখ্যালঘু বানিয়ে দেবে। ফলে এটা একটা সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বক্তব্য। এ কথাটা যাতে বলা যায়’ সে জন্যই অনুপ্রবেশের ইস্যুকে প্রক্সি বা অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশ থেকে আগত হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান এনে ভারত সরকার পার্লামেন্টে যে নাগরিকত্ব আইন পাস করেছে, এক বছরেরও বেশি সময় পর তার বাস্তবায়ন শুরু হয়নি। এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে মতুয়া সম্প্রদায়ভুক্ত হিন্দু, যারা অনেকেই সাবেক পূর্ব পাকিস্তান এবং স্বাধীন বাংলাদেশ থেকেও ভারতে এসেছেন – তাদের মধ্যে অসন্তোষও তীব্র হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গে মাস দুয়েক পরেই বিধানসভা নির্বাচন। সেখানে তৃণমূলের প্রধান চ্যালেঞ্জ বিজেপির প্রচারণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজেই।