পলাশবাড়ীতে প্রধান শিক্ষকদের রাম রাজত্বে হানা দিয়েছেন বাঘিনী কন্যা শিক্ষা অফিসার নাজমা

আশরাফুল ইসলাম গাইবান্ধা ::
সেন্ডিকেট সবখানে বাসা বেধেছে এবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষক সমিতি নামে কয়েকটি চক্র সেন্ডিকেট চক্রে রুপ নিয়েছে৷ তাদের অনিয়ম ও স্বেচ্চাচারিতার এবং দায়িত্বহীনতার খড়গ পোহাচ্ছে কোমল মতি শিক্ষার্থীরা। আর উদ্বোর্তন কেউ প্রতিবাদ করলে তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও ষরযন্ত্র চালায় শিক্ষক সমিতি নামের চক্র গুলো৷ গত কয়েকদিন যাবৎ পলাশবাড়ী উপজেলা জুড়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষক, উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসারদের নানা অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতার বিষয়ে ধারাবাহিক ভাবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাজমা বেগম।

প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকগণ নানা অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতার ফলে বিদ্যালয় গুলোর শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়ে পড়েছে। স্থানীয় অভিভাবকগণ আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন টাকা খরচ করে সন্তানদের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাঠাচ্ছেন । এতে করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী শূন্য হয়ে পড়েছে। উপজেলার বিদ্যালয় গুলোতে সংস্কার বাবদ ২ লাখ, স্লিপ বরাদ্দ ৫০ হাজার ও শিশু বরাদ্দ ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এসব বরাদ্দ দিয়ে দায় সারা ভাবে এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের নির্দেশ অমান্য করে মনগড়া কাজ করায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার উচ্চমাধ্যম কথা বলায় অনিয়মকারী প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষক গণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় নয় আনা নওদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকদের প্রতিবেশীদের আক্রোশের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়,২১ সেপ্টেম্বর সকালে পলাশবাড়ী উপজেলার নয়আনা নওদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টি পরিদর্শনে যান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাজমা বেগম এসময় প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটি এবং উপজেলা দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসারের যোগসাজসে বিদ্যালয়ের জমি আকার পরিবর্তন করে জেল নং ৪৬ নওআনা নওদা মৌজার দাগ নং ৬৫ হাল দাগ ২৬৩ এর মধ্যে ৩৩ শতাংশ জমির মাঝখানের অংশে বিদ্যালয়টি কে ফেলে সংস্কারের সরকারি অর্থে একই দাগে থাকা ডোবা জমিতে সরকারি খরচে মাটি ভরাট ও গাইড ওয়াল নির্মাণ করায়। একই দাগের দাতার জমি থাকে জমির সামনের উচু অংশটুকু বাঁশের ঘিড়া দিয়ে দখল করে রেখেছেন। দায়সারা রং চুন কাজ করে বরাদ্দের অর্থ শেষ করায় এছাড়াও অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ না করার প্রতিবাদ স্বরুপ প্রধান শিক্ষক সুজা উদ্দিন অনিয়ম স্বেচ্চাচারিতা গুলো তুলে ধরে উচ্চম মাধ্যম কথা বললেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাজমা বেগম। এসময় বিষয় উপজেলা সরকারি প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি পলাশবাড়ী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাহেদার রহমান কে অবগত করেন প্রধান শিক্ষক সুজা উদ্দিন, এরপর সাহেদার রহমানের নির্দেশে নিজেদের অপরাধ অনিয়ম স্বেচ্চারিতা ও দায়িত্বহীনতার দায় এড়াতে স্থানীয় আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীদের দিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাজমা বেগম কে অপমান অপদস্ত করার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে সাংবাদিকদের নিকট অভিনয়ের সূরে মিথ্যা তথ্য তুলে ধরে শিক্ষা অফিসার কে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেষ্টা চালান।

প্রধান শিক্ষক সুজা উদ্দিন বলেন, আমার বিদ্যালয়ের বরাদ্দের অর্থ দিয়ে কাজ করেছি। কাজের স্ট্রিমিট পাশ করেছে উপজেলা প্রকৌশলী ও সহকারি প্রকৌশলী। এরপরেও শহীদ মিনার নির্মাণ না করায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাজমা বেগম আমাকে লাঞ্চিত করেছে অপমান করেছে বলে দাবি করেন ৷ আপনি এখন কি চান জানতে চাইলে তিনি উত্তরে বলেন, আমি শহীদ মিনার নির্মাণ করবো না। কেন আমাকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে । শহীদ মিনারের জন্য বরাদ্দ দিলে তখন করবো। বর্তমান বরাদ্দের অর্থ দিয়ে শীদ মিনার নির্মাণ করতে পারবো না।

অপর দিকে এঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার ফিরোজ কবির নির্দেশনায় উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি সাহেদার রহমান স্থানীয় সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাজমা বেগমের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করার জন্য অর্থ প্রদানের প্রস্তাব করেন। এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ভালো নয় প্রধান শিক্ষকদের সাথে আচারণ খারাপ করেন এবং কোন ছাড় দেন না৷ শিক্ষক সমিতির অন্যায় আবদার ও সুপারিশ না রক্ষা করায় মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাহেদার রহমান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাজম বেগম কে অপমান অপদস্ত ও অপপ্রচারের মাধ্যমে হেনস্তা করার চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছেন৷ এহেন কাজে প্রধান শিক্ষক সাহেদার রহমানের কল রেকর্ড ও গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা বক্তব্য বড় প্রমাণ হিসাবে রয়েছে সাংবাদিকদের নিকট।

এবিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাজমা বেগম বলেন, সহকারি শিক্ষা অফিসারদের বিদ্যালয় মনিটরিংয়ের নির্দেশনা পালন করতে তাগাদা দেওয়া ও প্রধান শিক্ষক এবং সহকারি শিক্ষকদের অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগের কোন ছাড় দেওয়া হবে না। যতক্ষণ দায়িত্বে থাকবো উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষার মানসম্মত পরিবেশ ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাবো৷ যে যত পারে চক্রান্ত করুক আমি আমার অবস্থান হতে একচুল নড়বো না।