ঢাকা মহানগর কমিটির নেতৃত্বে অপরিচিত মুখ আনল ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। যাদেরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তারা কেউ কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

সোমবার সংগঠনের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে রাজধানীর খিলগাঁও মাখজানুল উলুম মাদরাসায় বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

ঢাকায় সভাপতি করা হয়েছে আবদুল কাইয়ুম সুবহানীকে, সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে কেফায়েতুল্লাহ আজহারীকে, যাদের কেউই পরিচিত মুখ নন।

ঢাকার কমিটির উপদেষ্টা করা হয়েছে মুহিউদ্দীন রব্বানী ও মাওলানা জহুরুল ইসলামকে।

২০১০ সালে হেফাজতে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে সংগঠনটি জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করে ২০১৩ সালে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে।

শুরু থেকে নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন দাবি করে আসা হেফাজত গত বছর রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামাতে থাকে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ২৬ মার্চ ও পরের এক সপ্তাহে ব্যাপক সহিংসতার পর পুলিশ গ্রেপ্তার করে সংগঠনের শতাধিক নেতাকে।

এরপর হেফাজত যায় রক্ষণাত্মক অবস্থানে। রাজনীতিতে সম্পৃক্ত সব নেতাদেরকে বাদ দিয়ে ঘোষণা করা হয় নতুন কমিটি।

ঢাকা মহানগর কমিটিতে অপরিচিতদেরকে নেতৃত্বে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক মুহিউদ্দিন রাব্বানী জানান, কমিটির সভাপতি সেগুনবাগিচা জামে মসজিদের খতিব। সাধারণ সম্পাদক উত্তরার জামিয়াতুল মানহালের অধ্যাপক।

রাব্বানী বলেন, ‘সভাপতি পরিচিতি নন। তবে সাধারণ সম্পাদক সকলের কাছেই পরিচিত। তবে আশা করা যায় আগামীতে সভাপতিও পরিচিত হয়ে যাবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আগামীতে কমিটি আরও বাড়াব।’

ঢাকা মহানগর কমিটিতে আরও যারা আছেন

সভাপতি সাধারণ সম্পাদকদের মতো কমিটির অন্য সদস্যরাও তেমন পরিচিত নন।

যুগ্ম মহাসচিব করা হয়েছে আনিসুর রহমান নুরুল ইসলামকে, সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মুনিরুজ্জামান।

সহ সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে মুস্তাকিম বিল্লাহ হামিদীকে, সদস্য হয়েছেন কামাল উদ্দীন, রাশেদ বিন নুর ও সানাহুল্লাহ হাফেজ্জী।

এদের মধ্যে রাশেদ বিন নুর হেফাজতের প্রয়াত মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদীর ছেলে।

হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্মসচিব আবদুল আওয়ালকে ঢাকা মহানগরের নায়েবে আমির করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া সিরাজিয়ার মুহতামিম তানভিরুল হক সিরাজীকে করা হয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।

সাইয়েদ মাহফুজ খন্দকারকে হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির মিডিয়া বিভাগের সমন্বয়ক করা হয়েছে।

যে বৈঠকে এত সব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, তাতে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির মুহাম্মাদ ইয়াহিয়া, মিজানুর রহমান চৌধুরী, মোবারকউল্লাহ, আবদুল আওয়াল, মহাসচিব সাজিদুর রহমান, সহকারী মহাসচিব জহুরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মুহিউদ্দীন রাব্বানী, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদরীস নদভী, দাওয়াহ সম্পাদক আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, শাব্বির আহমদ রশিদ, হারুন আজিজ নদভী, সহপ্রচার সম্পাদক মুফতী জামাল উদ্দীন মিডিয়া বিষয়ক সমন্বয়ক সাইয়েদ মাহফুজ খন্দকার।

বৈঠকে হেফাজত নেতারা কারাবন্দি আলেমদের দ্রুত মুক্তি দাবি করেন।

হেফাজত নেতারা বলেন, আলেম-ওলামারা বন্দি থাকার কারণে তাদের দায়িত্বে থাকা মসজিদ-মাদরাসা অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। পরিবারগুলো অসহনীয় সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির দুই নেতা মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (স.) কে নিয়ে যে মন্তব্য করছেন তারও প্রতিবাদ জানানো হয় হেফাজতের বৈঠকে। এই ঘটনায় ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিবাদ জানানোরও দাবি জানানো হয়।

আগামী ১৭ জুন চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জমিয়াতুল ফালাহ ময়দানে হেফাজতে ইসলাম আয়োজিত ‘শানে রেসালাত’ সম্মেলন করা হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।