দেশে ৬ জনের শরীরে যুক্তরাজ্যে শনাক্ত করোনার নতুন ভাইরাস

১০ মার্চ ২০২১। দেশে ৬ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের নতুন স্ট্রেইন খুঁজে পাওয়া গেছে। বুধবার (১০ মার্চ) রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এ তথ্য জানিয়েছে।
আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরিন বলেন, আমরা জানুয়ারির প্রথম দিকে পাঁচ বা ছয় জনের নমুনায় যুক্তরাজ্যের নতুন ধরনের করোনাভাইরাস খুঁজে পেয়েছি। গত ৫ জানুয়ারি প্রথম এই ভাইরাস পাওয়া যায়। যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরা এক ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়। এরপর সিলেটে ওসমানী বিমানবন্দরে নামা যাত্রীদের মধ্য থেকেও ভাইরাসের নতুন ধরণবাহী ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। কম্যুনিটি ট্রান্সমিশন ঠেকাতে শনাক্ত ব্যক্তিদের কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং করা হয়েছে, এবং এখনো তারা আইইডিসিআরের নজরদারির মধ্যে রয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ঢাকা ও সিলেটেও যুক্তরাজ্যের এ নতুন ভেরিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। করোনার নতুন এই ভেরিয়েন্টের নাম ‘এন৫০১ওয়াই’। এদিকে যুক্তরাজ্য থেকে যারা দেশে ফিরছেন তাদের কোয়ারেন্টিনে রাখার বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। অন্যথায় এই ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পরবে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।
এদিকে, বুধবার মুগদা হাসপাতালে গিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, দুই মাস আগে বাংলাদেশে দুই ব্যক্তির শরীরে যুক্তরাজ্যে শনাক্ত করোনার নতুন ধরনের সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, এই ভাইরাস দেশে কতটা ছড়িয়েছে তার বিস্তারিত জানতে কন্টাক্ট ট্রেসিং চলছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৮৩টি দেশে করোনার নতুন এই স্ট্রেইনের সংক্রমণ হয়েছে। যুক্তরাজ্যে পাওয়া করোনাভাইরাসের এই নতুন স্ট্রেইন আরও বেশি সংক্রামক।
যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সময় থেকে দেশটি থেকে বাংলাদেশে আসা যাত্রীদের ব্যাপারে নানা সতর্কতা নেয়া হয়। ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকেই যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে আসা যাত্রীদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তবে অনেক দেশ যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ করলেও, বাংলাদেশ তা করেনি।
যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসের নতুন যে ধরণ পাওয়া গেছে, সেটি আগের স্ট্রেইনের তুলনায় ৭০ শতাংশ বেশি গতিতে ছড়ায় বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।
গতকাল করোনায় সর্বোচ্চ সংখ্যক সংক্রমিত হয়েছে। গতকাল করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন শনাক্ত হয়েছেন ৯১৫ জন। এর আগে সর্বশেষ ১০ জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক দিনে এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্তের তথ্য দিয়েছিল, সেদিন ১ হাজার ৭১ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। তারপর থেকে এ পর্যন্ত দেশে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা নয়শর নিচেই ছিল।
বিশ্বে শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে ১১ কোটি ৭১ লাখ পেরিয়েছে, মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২৬ লাখ। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বিশ্বে শনাক্তের দিক থেকে ৩৩তম স্থানে আছে বাংলাদেশ। আর মৃতের সংখ্যায় রয়েছে ৩৯তম অবস্থানে।