দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং তথ্য গোপনের অভিযোগে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলায় এক ধারায় তিন বছর এবং আরেক ধারায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডসহ মোট আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) ১৩ বছর ধরে ঝুঁলে থাকা এ মামলাটির রায় ঘোষণা করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭ এর বিচারক মো. শহিদুল ইসলাম।

এরআগে গত ৪ অক্টোবর মামলাটির সকল যুক্তিতর্ক শেষ হলে বিচারক রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেন। জানা যায়, ২০০৮ সালের ১৩ জানুয়ারি ৭ কোটি ৫ লাখ ৯১ হাজার ৮৯৬ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে রমনা থানায় বাবরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। দুদকের চট্টগ্রাম-১ এর সহকারী পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

এজাহারে বলা হয়, সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দেওয়ার জন্য ২০০৭ সালের ৫ জুলাই বাবরকে নোটিশ দেয় দুদক। পরে বাবর ৬ কোটি ৭৭ লাখ ৩১ হাজার ৩১২ টাকার সম্পদের হিসাব দুদকে জমা দেন। তবে তদন্তকালে তার গুলশানের একটি ব্যাংকে ৬ কোটি ৭৯ লাখ ৪৯ হাজার ২১৮ টাকার লেনদেনের হিসাব পাওয়া যায়। এই টাকা বাবরের ব্যাংক হিসাবে এসেছিল সিঙ্গাপুর থেকে। এ বিষয়ে দুদক জিজ্ঞাসাবাদ করলেও কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

পরে মামলার একই বছরের ১৬ জুলাই দুদকের উপসহকারী পরিচালক রূপক কুমার সাহা আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে বাবরকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অভিযুক্ত করা হয়। সেবছরের ১২ আগষ্ট আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। পরে বিভিন্ন সময়ে মামলাটির সাত সাক্ষীর সকলের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়।

উল্লেখ্য, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি লুৎফুজ্জামান বাবরকে এবছরের ২১ সেপ্টেম্বর অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার আত্মপক্ষ শুনানিতে বিচারক তার বিরুদ্ধে দেওয়া সাত সাক্ষীর সাক্ষ্য পড়ে শোনান। পরে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চান। জবাবে বাবর নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায় বিচার চান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here