দুদকের তদন্ত চলাকালে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা-১৫ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে: হাইকোর্ট

দুদকের তদন্ত বা অনুসন্ধানকালে কারণ দর্শানো ও শুনানি ছাড়া জরুরি ভিত্তিতে কারো দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও পাসপোর্ট জব্দ করা হলে এ বিষয়ে অনুমোদনের জন্য দুদক বা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নিষেধাজ্ঞার ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে আবেদন করতে হবে। এই বিষয়ে পাঁচ দফার নির্দেশনা সংবলিত ৮৩ পৃষ্ঠার হাইকোর্টের একটি পূর্ণাঙ্গ রায়ে এই কথা বলা হয়েছে। গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়টি প্রকাশিত হয়েছে।

‘মো. আহসান হাবিব বনাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং অন্যান্য’ মামলার রায়ে ওই নির্দেশনা এসেছে। পাসপোর্ট জব্দ ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মো. আহসান হাবিব হাইকোর্টে রিট করেন। এর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ১৪ মার্চ বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।

মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, জরুরিভিত্তিতে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও পাসপোর্ট জব্দ করার ১৫ দিনের মধ্যে এই বিষয়ে অনুমোদনের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সিনিয়র স্পেশাল জজ বা স্পেশাল জজ আদালতে আবেদন করতে হবে। রায়ের দ্বিতীয় দফায় বলা হয়, সিনিয়র স্পেশাল জজ বা স্পেশাল জজ ওই আবেদন গ্রহণের পর উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারবেন। যদি কমিশন এমন আবেদন করে থাকে, তাহলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা পক্ষের ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিতে আদালত ওই আবেদন যত দ্রুত সম্ভব নিষ্পত্তি করবেন; সম্ভাব্য আবেদন গ্রহণের ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে ।

আদালতে আসহান হাবিবের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মুরাদ রেজা ও স্বপ্নীল ভট্টাচার্য। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ কে এম ফজলুল হক হক। আহসান হাবিবের আইনজীবী মুরাদ রেজা গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্ট কতিপয় শর্তসাপক্ষে আহসাহ হাবিবের পাসপোর্ট ফেরত দিতে ও তাঁকে বিদেশ যেতে অনুমতি দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

বিদেশে যাওয়ার নিষেধাজ্ঞায় আদালতের অনুমতি লাগবে

বিদেশে যাওয়ার নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে অপর এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে ১৬ মার্চ বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেন। রায়ে বলা হয়, এ বিষয়ে যতক্ষণ পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট আইন বা বিধি প্রণয়ন না হচ্ছে অনুসন্ধান ও তদন্ত পর্যায়ে কাউকে বিদেশ যেতে বিরত রাখতে হলে সংশ্লিষ্ট আদালত হতে অনুমতি নিতে হবে।

দুদকের অন্যতম আইনজীবী খুরশীদ আলম খান  বলেন, ১৬ মার্চ হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে কাউকে বিদেশ যেতে নিষেধাজ্ঞা দিতে হলে আগে আদালত থেকে অনুমতি নিতে হবে বলা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে অনুসন্ধান ও তদন্তকালে দুদকের মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির পাসপোর্ট জব্দ করা ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যাবে বলে সোমবার প্রকাশিত রায়ে এসেছে। তবে বিদেশ যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা বা পাসপোর্ট জব্দের ১৫ দিনের মধ্যে অনুমোদনের জন্য দুদককে সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত বা স্পেশাল জজ আদালতে আবেদন করতে হবে। অর্থাৎ দেশত্যাগ নিষেধাজ্ঞা বা পাসপোর্ট জব্দের পরে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। ১৬ মার্চ দেওয়া এই রায়ের বিরুদ্ধে দুদক আপিল বিভাগে আবেদন করেছে। ১৩ জুন আবেদনটি শুনানির জন্য আসবে, সেদিন শুনানি হলে গতকালের প্রকাশিত রায়টি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।