যুক্তরাজ্যে লকডাউনের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরিকল্পনা মাস খানেক পিছিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ভারতে প্রথম শনাক্ত হওয়া ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে সোমবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এখনই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে হাসপাতালে ভর্তির পরিমাণ মহামারির প্রথম ঢেউয়ের চূড়ায় উঠতে পারে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার পরিকল্পনার চূড়ান্ত পর্যায় ঘোষণা করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ওই সময়ে তিনি ২১ জুনের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আশা প্রকাশ করেন। এর মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গভাবে খুলে যাওয়ার কথা ছিলো পাব, রেস্টুরেন্ট, নাইট ক্লাব এবং অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্র। তবে বহুল প্রতিক্ষিত এই পদক্ষেপ আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আর একটু অপেক্ষা করা দায়িত্বশীল হবে বলে মনে হয়। অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে আর যেসব প্রমাণ এই মুহূর্তে দেখতে পাচ্ছি তাতে আত্মবিশ্বাসী যে আমাদের আর চার সপ্তাহের বেশি সময় লাগবে না।’

অতিরিক্ত এই সময়ে যুক্তরাজ্যে টিকাদান কার্যক্রমে আরও গতি আনা হবে। আগামী ২৮ জুন আবারও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। তবে এই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন জনসনের মুখপাত্র।

গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাজ্যে যেসব নতুন রোগী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের আক্রান্ত হওয়ার কারণ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। এই ভ্যারিয়েন্টটি ভারতে প্রথম শনাক্ত হয়। কর্মকর্তাদের ধারণা এই ভ্যারিয়েন্টটি ৬০ শতাংশ বেশি সংক্রামক। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছেন, এই ভ্যারিয়েন্টটি সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ শুরু করিয়ে দিতে পারে।

সোমবার যুক্তরাজ্যে নতুন করে ৭ হাজার ৭৪২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে আর মৃত্যু হয়েছে তিন জনের। প্রধানমন্ত্রী জনসন জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যে প্রতি সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৪ শতাংশ বাড়ছে। আর হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে যাওয়া রোগীর পরিমাণও বাড়ছে।