ঠিকানা বিহীনদের পাশে মানবিক মানুষ

রিপন আনসারী,মানিকগঞ্জ থেকে :

কেউ মানসিক রোগী,কেউ ভারসাম্যহীন আবার কেউ বাক প্রতিবন্ধী। যাদের ঠিকানা পথে প্রান্তরে। কোথা থেকে এসেছে আবার কোথায় যাচ্ছে, তা ওরা নিজেরাই জানেনা। বিরামহীন ভাবে ছুটে চলেছে দিদ্বিদিক। দিন রাত যাদের কাছে সমান।  কেউ কিছু দিলে হয়তো খাচ্ছে আবার ক্ষুধার যন্ত্রনা কাকে বলে তা অনেকেই বোঝে না। পথে ঘাটে নোংড়া আবর্জনা যা পায় তা মুখে নিতেও দ্বিাধাবোধ করে না। কতটা নির্মমভাবে তাদের জীবনের এককটি দিন চলে যাচেছ তা কেউ বোঝে না।   মানুষ তাদের পাগল বলে।  ঠিকানা বিহীন অসহায় এসব মানুষকে দেখলে সমাজের বেশির ভাগ মানুষই  তাচ্ছিল্য করে তাড়িয়ে দেয়।

কিন্ত মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী এলাকায় উদ্যমী একঝাক যুবক দীর্ঘ এক বছর ধরে রাস্তা ঘাটে পড়ে থাকা ঠিকানা বিহীন মানসিক কিংবা ভারসাম্যহীন অসহায় মানুষের পাশে  দাড়িয়েছেন। খাবার মেনুতে একেকদিন একেক আইটেম তৈরি করা হয়। ভাত,মাংস,ডাল, মাছ,ডিম,বিরানি,খিচুরীসহ হরেক রকমের আইটেম পর্যায়ক্রমে দেয়া হয়। সাথে থাকছে হাফ লিটার পানি।  প্রতিদিন প্রায় ৩০ জনকে দেয়া হয় এই খাবার।

আর এই খাবারের অর্থের যোগান দিয়ে যাচ্ছেন পবিত্র সরকার নামের বানিয়াজুরী এলাকার একজন সমাজ সেবক।  যার দিকনির্দেশনায় এলাকার উদ্যমী যুবক গৌতম চক্রবর্তী,মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনি,জব্বার খান, মো.সাইফুল ইসলাম,মিজানুর রহমান খান,সুমন সাহা,মনির মিয়া,দিলিপ বসাক,সুজন,রাতুল ঘোষ,খন্দকার সুমন ও মিরন মিয়া প্রতিদিন অসহায় মানুষের কাছে পৌছে দিচ্ছেন খাবার। এই দলের টিম লিডার হিসেবে রয়েছেন গৌতম চক্রবর্তী।

তিনি বলেন, তাদের এই মহৎ উদ্দ্যগের কথা। গেল বছর একদিন কয়েক বন্ধু মিলে একটি রেস্তোরায় খাবার খাচ্ছিলাম। সে সময় হোটেলের সামনে ঠিকানা বিহীন একজন মানসিক ও বাক প্রতিবন্ধী খাবারের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। তখন হোটেলের এক কর্মচারী তার সাথে খুব দুর ব্যবহার করে। দৃশ্যটি দেখে খুব খারাপ লাগে। তখন অসহায় মানুষটিকে একটি রুটি কিনে দেই। রুটি পেয়ে খুব খুশি। মনে হচেছ অনেকদিন কিছু খায়নি। তখন থেকেই ভাবতে থাকি কিভাবে ওদের সেবা করা যায়। নিজে অর্থনৈতিক ভাবে সচ্ছল না থাকায় সোজা চলে যাই এলাকার বড় ভাই পবিত্র সরকারের কাছে। তিনি সব সময়ই মানুষের উপকার করে থাকেন। বিষয়টি তাকে জানানোর পর সে অসহায় মানুষগুলোর  সেবা করতে রাজি হয়ে যান। ২০২০ সালের মার্চ থেকে পবিত্র সরকার আমাদের আর্থিক যোগান দিয়ে যাচেছন। যার কারনে প্রতিদিন দুপুরে আমরা নিজেরা খাবার তৈরি করে  অবহেলিত ঔসব মানুষের মুখে এক বেলা খাবার তুলে দিচ্ছি।  খাবার মেনুতে একেকদিন একেক আইটেম তৈরি করা হয়।  ভাত,মাংস,ডাল, মাছ,ডিম,বিরানি,খিচুরীসহ হরেক রকমের আইটেম পর্যায়ক্রমে দেয়া হয়। সাথে দেয়া হয় হাফ লিটারের পানি। প্রতিদিন দুপুর ১২টার মধ্যে খাবার প্যাকেট করে আমরা বেড়িয়ে পড়ি বিভিন্ন বাষ্ট্যান্ড,হাট বাজার ও ঢাকা আরিচা মহাসড়কের রাস্তার আশ পাশে। কম পক্ষে প্রতিদিন ৩০ জন অসতায় মানুষের মুখে আমরা খাবার তুলে দিচ্ছি।

গৌতম চক্রবর্তী বলেন, অসহায় মানুষের মুখে এক বেলা খাবার তুলে দিতে পারাটা কত যে শান্তির তা বলে বোঝানো যাবেন।

খাবার তৈরির কাজে রয়েছেন দিলিপ বসাক এবং সুজন বসাক।  দুজনেই জানালেন,অসহায় মানুষের জন্য নিজের হাতে খাবার তৈরি করে তাদের মুখে তুলে দিতে পারায় আমরা সৌভাগ্যবান। যখন রান্না করি মনের মাধুরী দিয়ে তা করি। এতে খুব আনন্দ পাই,ভাল লাগে।

যার আর্থিক যোগানে কারনে ঠিকানা বিহীন মানািসক ও ভারসাম্যহীন অসহায় মানুষের মুখে প্রতিদিন এক বেলা খাবার পৌছে যাচ্ছে সেই  মানবিক মানুষ পবিত্র সরকার  বলেন, মানুষের সেবা করাটা হচ্ছে পরম ধর্ম। এলাকার ছোট ভাইদের এমন উদ্দ্যগের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পেরে ধন্য মনে করছি। এমন  মহৎ উদ্দ্যগ প্রতিটি এলাকায় থাকলে রাস্তা ঘাটে ঠিকানা বিহীন অসহায় মানুষজন অর্ধহারে অনাহারে থাকবে না। কিভাবে এই উদ্দ্যগকে আরো গতিশীল করা যায় সে চিন্তা ভাবনা আমাদের রয়েছে ।