টেকনাফে রাজনৈতিক নয়;প্রশাসনের বাঁধায় আমির হামজার মাহফিল সফল হয়নি

আজিজ  উল্লাহ,টেকনাফ:
টেকনাফের বাহারছড়া জাহাজপুরায় মুফতি আমির হামজার মাহফিল প্রশাসনের বাঁধার মুখে সফলভাবে সম্পূর্ণ করতে পারেনি।এই নিয়ে এলাকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তর্ক-বির্তকসহ তুলকালাম শুরু হয়েছে।অনেকে রাজনৈতিক ইস্যু টানার চেষ্টা করতেছে এবং একে অপরের প্রতি কাদাঁমাখামাখি শুরু হয়েছে।সন্দেহ তৈরি হয়েছে বিভিন্ন জনে-মহলে।অনেকে বলছে বাহারছড়া অতীতে কোন মাহফিলে এমন কান্ড ঘটেনি।শুধু তা নয় টেকনাফের নতুন পল্লান পাড়া আমির হামজার তাফসীরুল কুরআন মাহফিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাঁধার মুখে পন্ড হয়েছে।

৫ মিনিটে আলোচনা শেষ করতে বক্তাকে চিঠি।

শনিবার(১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২.৩০ টার সময়ে স্থানীয় জাহাজপুরা ইকোপার্ক বেষ্টিত হাজি মোহাজের স্টেডিয়ামে হিলফুল ফুজুল ছাত্র যুব শ্রমিক সংঘের আয়োজনে দুদিন ব্যাপী তাফসিরুল কোরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।এতে সমাপনী মাহফিলে প্রধান আলোচক ছিলেন মৌলানা মুফতি আমির হামজা কিন্তু তাকে মাহফিলে আনতে প্রশাসনের নিষেধ ছিল। প্রশাসনের অনুমতি ব্যতিরেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের উপর ভরসা করে পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী মাহফিলের প্রধান আলোচক ছিলেন মুফতি আমির হামজাই।তিনি শুরুতে মানুষ কোথায় থেকে কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে তার রহস্য নিয়ে কোরাআন হাদিস ও বৈজ্ঞানিক আলোকে বয়ান করছিলেন,তাতে রাজনৈতিক উত্তেজনামূলক বক্তব্য না থাকলেও বয়ান শুরুর প্রায় ৫৫ মিনিটের সময় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ফোন আসে সংগঠনের সভাপতি কলিম উল্লাহ’র মোবাইলে ক্ষনিক সময়ে কথা বলার পরে মাহফিলের সভাপতি ৫নং বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মৌলভী আজিজ উদ্দিনকে কল ধরাই দিলে তিনি মঞ্চের পিছন থেকে নেমে মাহফিলে কিছু দূরে এলজিইডি রোডে অপেক্ষারত বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর নুর মোহাম্মদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে আসলে তিনি বলেন মাহফিলের অনুমতি নেই মাহফিল বন্ধ করতে অনুরোধ করেন সেই কথা কমিটিকে জানানোর পরে তাদের পক্ষ থেকে আলোচনা সংক্ষেপ করতে সাদা কাগজে লেখা একটা  চিঠি বক্তার হাতে দিলেই বক্তা বলেন,কি কারণে মাহফিল বন্ধ করবো বলে প্রশ্ন ছুড়ে দেন এবং বলেন শয়তানি কি আমরা বুঝি না? তখন একটু উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং হৈচৈ পড়ে যায় পুরো মঞ্চ জুড়ে শ্রোতারা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানানোর চেষ্টা করে।মাহফিলের ধারাবাহিক আলোচনার প্রতিবন্ধকতার কারণে সফলভাবে সম্পূর্ণ করতে পারেনি বক্তা। অল্প কিছুক্ষণ পরে মোনাজাত করে মাহফিল শেষ করে দেয়া হয়।
মাহফিলের সভাপতি বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মৌলভী আজিজ উদ্দিন জানান, ‘প্রশাসনের অনুমতি না থাকায় মাহফিল বন্ধ করতে বললেও আমি ওয়াজ চালিয়ে যেতে বলছি বয়ান করেন বলছি মাহফিল বন্ধ করতে বলিনি।সামাজিক যোগাযোগে মাধ্যমে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করতেছে।এখানেত কোন রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি।উপজেলা ইউএনও কল করলে বলি শান্তিপূর্ণ আলোচনা হচ্ছে যদিও তিনি অনুমতি দেয়নি বন্ধ করতে বলছিল’।
আয়োজক কমিটির সেক্রেটারি জয়নাত উল্লাহ জানান,’ হুজুরকে আমরা শুরু থেকে রাজনৈতিক বয়ান না করতে অনুরোধ জানিয়েছি এবং তিনি তা রাখছেন কিন্তু চেষ্টা করেও প্রশাসনের কাছে অনুমতি পাওয়া যায়নি তাই প্রশাসনের ফোনে  বাঁধা আসলে আলোচনা সংক্ষিপ্ত করে শেষ করতে বলা হয়েছে যাতে করে শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্ন না ঘটে এখানে আসলে রাজনৈতিক কোন বাঁধা আসনি’।
মাহফিলে মুফতি আমির হামজা থাকবে না প্রশাসনকে কমিটির মুসলেকা।

বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর নুর মোহাম্মদ জানান,’ দেশে মুফতি আমির হামজকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বির্তক রয়েছে তাই গতকাল মাহফিলের পেন্ডেলে দুবার গিয়েছি আমির হামজাকে ছাড়া মাহফিল করতে বলছি এবং আয়োজক কমিটি বিভিন্নভাবে উপজেলা চেয়ারম্যানকে দিয়ে এসপি স্যারের অনুমতির চেষ্টা করেছে কিন্তু মিলেনি।কমিটিও বলছে মাহফিলে আমির হামজা থাকবে না কিন্তু তা মানেননি কমিটি তাই আলোচনা বন্ধ করতে বলছি কমিটিকে।আয়োজক কমিটি গতকাল সন্ধ্যায় তদন্ত কেন্দ্রে এসে মুসলেকা দিয়ে গেছে তা মান্য না করায়ই মূলত মাহফিল বন্ধ করতে বলা হয়েছে।তাছাড়া করোনার সংক্রমণের ঝুঁকিও রয়েছে’।