টেকনাফে কুঁড়ে ঘর ছাড়া কোন ঠাঁই নেই বিধবা নারীর  জুটেনি সরকারি ঘর

নিজস্ব প্রতিবেদক:
টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউপিস্থ  কুতুবদিয়া পাড়া গ্রামের এক হতদরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া বিধবা হামিদা বেগমের সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে অনেকে সরকারী ঘর পেলেও জুটেনি ঘর।শত চেষ্টা করে একটু আশ্রয় আশায় ঘুরছে দিকবেদিক,তারপরও তালিকাভুক্ত হয়নি সরকারি ঘরের।
স্থানীয় মৃত সোলতান আহমদের মেয়ে হামিদার (৩৫) মা বাবা ভাই বোন হারা বিধবা মহিলার কোনো ঘর না থাকায়,ছোট্ট একটি কুঁড়ে ঘরে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে এই অসহায় মহিলা হামিদা।নেই তার কোনো ছেলে,নেই কোনো আয়ের উৎস।তার রয়েছে ১২ বছরের এক মেয়ে। এই ১২ বছরের মেয়েটিকে নিয়ে সে অতিকষ্টে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
সে এক সময় দীর্ঘ একযোগ ধরে চট্টগ্রাম ছোট একটা ঘর ভাড়া নিয়ে এক ফেক্টরীতে চাকরী করে জীবিকা নির্বাহ করেছিল।লেখাপড়ার যোগ্যতা না থাকায় অল্প বেতনে চাকরী করে জীবন চালাতেন তিনি।অল্প বেতনে  চাকরী করে চট্টগ্রাম শহরে ঘর ভাড়া এবং নিজের চলাচল অতিকষ্ট হয়ে পড়ায়।নিরোপায় হয়ে সে দুই বছর আগে গ্রামের বাড়ি চলে আসেন।
এই বিধাব হামিদা  ভিটে মাটি ঘর হারা মহিলা দীর্ঘ দিন ধরে সরকারের বিভিন্ন জন প্রতিনিধিদের দপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।পৃথিবীতে তার আয়ের উৎস বলতে কিছুই নেই।সরকারী ভাবে কোনো সুযোগ সুবিধা না পেলে না খেয়ে মারা যাওয়া ছাড়া  আর কোনো উপায় নেই এই পৃথিবীতে।সে এখন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন একটুকরো জায়গা এবং ঘরের জন্যে।
অসহায় বিধবা হামিদার জীবনের কষ্টের কথাগুলি শুনে বুক ভরা কান্নায় শরীর শিউরে উঠে। তিনি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে মোটামুটি অনেক দপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন একটু জায়গার ও ঘরের জন্যে।তার জীবনে শেষ আশা ছিল এক টুকরো জায়গা এবং একটি ঘর।একটি ঘরের জন্যে বিগত কয়েকমাস আগে টেকনাফের ১নং হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে ছবি ও বায়োডাাটা জমা দিয়ে ছিলেন,কিন্তু তা কোনো কাজে আসেনি।
তবে হোয়াইক্যং ইউনিয়নে অনেক ধনী ব্যক্তিদের নামও কিন্তু প্রধানন্ত্রীর উপহারের ঘরগুলোর তালিকায় এসেছে।
এই হতদরিদ্র অসহায় এতিমের কষ্ট দূর করতে, একটি ঘরের জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী অফিসারের কাছে আকুল আবেদন করেছেন অসহায় বিধবা হামিদা।